অন্ধ বুলগেরীয় রহস্যময় নারী বাবা ভাঙ্গার ২০২৬ সাল নিয়ে কথিত ভবিষ্যদ্বাণীগুলো আবারও আলোচনায় এসেছে। তার ভক্তদের দাবি, চলতি বছরের জন্য করা পাঁচটি পূর্বাভাসের মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে সত্যি হয়েছে। আর বাকি তিনটি নিয়ে এখনো চলছে নানা জল্পনা।
কথিত ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর প্রথমটি বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে। ভক্তরা গত মার্চে মিয়ানমারে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পকে এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। একইভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দাবানল ও তাপপ্রবাহ, এশিয়ার বন্যা এবং আমেরিকার ঝড়কেও তারা কথিত ভবিষ্যদ্বাণীর প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।
তবে সমালোচকদের দাবি, এসব বক্তব্যের মধ্যে নির্দিষ্ট সময়, স্থান বা ঘটনার স্পষ্ট উল্লেখ নেই। ফলে প্রতি বছর ঘটে যাওয়া ভূমিকম্প, বন্যা কিংবা ঝড়ের সঙ্গে অস্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী মিলিয়ে নেওয়া সহজ।
দ্বিতীয় আলোচিত পূর্বাভাসটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে। ভক্তদের দাবি, কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যাপক বিস্তারের ফলে মানুষ বড় পরিসরে চাকরি হারাবে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বাবা ভাঙ্গা। তবে তার এমন বক্তব্যের নির্ভরযোগ্য লিখিত বা অডিও-ভিডিও রেকর্ড পাওয়া যায় না।
এদিকে বাকি তিনটি পূর্বাভাসের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত একটি হলো ভিনগ্রহের প্রাণীর আগমন। কথিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নভেম্বরে একটি বিশাল মহাকাশযান পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে এবং তখন মানবজাতি প্রথমবারের মতো এলিয়েনদের মুখোমুখি হতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ইউএফও-সংক্রান্ত কিছু নথি প্রকাশের পর এ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তুর উপস্থিতি মানেই সেগুলো ভিনগ্রহের যান—এমন প্রমাণ নেই।
আরেকটি ভয়াবহ দাবি, ২০২৬ সালেই শুরু হতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। কথিত ভবিষ্যদ্বাণীর ব্যাখ্যায় বলা হয়, চীন তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করতে পারে এবং রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা সরাসরি সংঘাতে রূপ নিতে পারে। তবে ৭ আগস্ট পর্যন্ত এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
শেষ বড় দাবিটি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ঘিরে। ভক্তদের দাবি, ২০২৬ সালের শেষ হওয়ার আগেই পুতিন ক্ষমতা হারাবেন এবং রাশিয়ায় নতুন নেতৃত্ব আসবে। তবে এখন পর্যন্ত পুতিনের সরে দাঁড়ানোর কোনো প্রকাশ্য ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
১৯১১ সালে জন্ম নেওয়া ভাংগেলিয়া প্যানদেভা দিমিত্রোভা, যিনি বাবা ভাঙ্গা নামে পরিচিত, ১২ বছর বয়সে একটি টর্নেডোর ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারান। তার অনুসারীরা দাবি করেন, ৯/১১ হামলা, চেরনোবিল দুর্ঘটনা, প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু ও ২০০৪ সালের সুনামির মতো ঘটনাও তিনি আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।
তবে এসব দাবির স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নিয়ে রয়েছে ব্যাপক প্রশ্ন। বিশেষ করে বাবা ভাঙ্গার কথিত ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর কোনো নির্ভরযোগ্য লিখিত সংকলন না থাকায়, বর্তমানে তার নামে প্রচলিত পূর্বাভাসগুলো সত্যিই তিনি করেছিলেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।
ফলে ২০২৬ সাল নিয়ে বাবা ভাঙ্গার কথিত ভবিষ্যদ্বাণীগুলো আপাতত প্রামাণিক ভবিষ্যদ্বাণীর চেয়ে লোকমুখে প্রচলিত দাবি ও ব্যাখ্যা হিসেবেই রয়ে গেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























