ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ফেসবুকে গালিগালাজ নিয়ন্ত্রণে আইন করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী ‘মাননীয়’ বাদ, অনলাইন হাজিরা: নিজ দপ্তর থেকেই নিয়ম মানার দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিলেন আফরোজা আব্বাস ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে: হাইকোর্ট পাকা ঘর নির্মাণ করা হলো না, দাদা-দাদির পাশে চিরনিদ্রায় পিয়াস সৌদি থেকে ফিরেই ঠাকুরগাঁও যাবেন হিরো আলম, শুরু করবেন নির্বাচনী প্রস্তুতি  মায়ের মৃত্যুতে ৫ ঘণ্টার জন্য মুক্তি পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বাতিল না করলে সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ-বিক্ষোভ শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের সম্পৃক্ততা নেই: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

ভারতে ব্যাপকভাবে বাড়ছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ৩ মাসে নিহত ২৫

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৪৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮৪ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ তিন মাসে অন্তত ২৫ জন মুসলিম নিহত হয়েছেন। একই সময়ে মুসলিমদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর এবং দেশ থেকে জোরপূর্বক বিতাড়নের ঘটনাও ঘটেছে। মূলত ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ নিয়ে সম্প্রতি সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইন পরিচালিতইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকার’-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাইএই তিন মাসে ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘৃণাজনিত অপরাধে অন্তত ২৫ জন মুসলিম নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। আর ১০ জন নিহত হয়েছেন উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হামলায়। এতে করে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ভারতে মুসলিম নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে। এর মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যুর জন্য রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ২৫ জনের মৃত্যুর জন্য উগ্র হিন্দুত্ববাদী হামলাকারীদের দায়ী করা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ সময়ে মুসলিমদের বাড়িঘর ও ধর্মীয় স্থাপনা ব্যাপকভাবে ভেঙে ফেলা, গণহারে আটক ও দেশ থেকে জোরপূর্বক বিদাড়নের ঘটনাও ঘটেছে। উত্তরপ্রদেশ, আসাম, কাশ্মীর ও পশ্চিমবঙ্গে ভুয়া পুলিশি সংঘর্ষ, হেফাজতে মৃত্যু এবং জোরপূর্বক বিদাড়নের মতো ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয়টি রাজ্যে দুই মাসেরও কম সময়ে অন্তত ২৩টি মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এছাড়া আটটি রাজ্যে অন্তত ২১টি উচ্ছেদ অভিযানে ১ হাজারের বেশি মুসলিমের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ১১ বছরের একটি মেয়ে ও ১৬ বছরের এক কিশোরও রয়েছে। প্রতিবেদনে রাজনৈতিক নেতাদের মুসলিমবিরোধী বক্তব্যেরও সমালোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ ধরনের বক্তব্য বৈষম্যমূলক পরিবেশ তৈরি করছে এবং মুসলিম নাগরিকদেরঅনুপ্রবেশকারীহিসেবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে মসজিদ ও মুসলিম মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আসামেপুশব্যাকবা জোরপূর্বক বিতাড়ন অব্যাহত থাকার পাশাপাশি মুসলিমদের অধিকারকে প্রভাবিত করেএমন নতুন আইন ও নীতির কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেসবুকে গালিগালাজ নিয়ন্ত্রণে আইন করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

ভারতে ব্যাপকভাবে বাড়ছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, ৩ মাসে নিহত ২৫

আপডেট সময় ০১:৪৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

এবার ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ তিন মাসে অন্তত ২৫ জন মুসলিম নিহত হয়েছেন। একই সময়ে মুসলিমদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর এবং দেশ থেকে জোরপূর্বক বিতাড়নের ঘটনাও ঘটেছে। মূলত ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ নিয়ে সম্প্রতি সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইন পরিচালিতইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকার’-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাইএই তিন মাসে ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘৃণাজনিত অপরাধে অন্তত ২৫ জন মুসলিম নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। আর ১০ জন নিহত হয়েছেন উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হামলায়। এতে করে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ভারতে মুসলিম নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে। এর মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যুর জন্য রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ২৫ জনের মৃত্যুর জন্য উগ্র হিন্দুত্ববাদী হামলাকারীদের দায়ী করা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ সময়ে মুসলিমদের বাড়িঘর ও ধর্মীয় স্থাপনা ব্যাপকভাবে ভেঙে ফেলা, গণহারে আটক ও দেশ থেকে জোরপূর্বক বিদাড়নের ঘটনাও ঘটেছে। উত্তরপ্রদেশ, আসাম, কাশ্মীর ও পশ্চিমবঙ্গে ভুয়া পুলিশি সংঘর্ষ, হেফাজতে মৃত্যু এবং জোরপূর্বক বিদাড়নের মতো ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয়টি রাজ্যে দুই মাসেরও কম সময়ে অন্তত ২৩টি মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এছাড়া আটটি রাজ্যে অন্তত ২১টি উচ্ছেদ অভিযানে ১ হাজারের বেশি মুসলিমের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ১১ বছরের একটি মেয়ে ও ১৬ বছরের এক কিশোরও রয়েছে। প্রতিবেদনে রাজনৈতিক নেতাদের মুসলিমবিরোধী বক্তব্যেরও সমালোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ ধরনের বক্তব্য বৈষম্যমূলক পরিবেশ তৈরি করছে এবং মুসলিম নাগরিকদেরঅনুপ্রবেশকারীহিসেবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে মসজিদ ও মুসলিম মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আসামেপুশব্যাকবা জোরপূর্বক বিতাড়ন অব্যাহত থাকার পাশাপাশি মুসলিমদের অধিকারকে প্রভাবিত করেএমন নতুন আইন ও নীতির কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।