ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

তেহরানের ফাঁদে পড়ে নিজ দেশেই অনিশ্চয়তায় ট্রাম্প

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:১৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্পষ্ট অবস্থান এবং তেহরানের কৌশলগত নীরবতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে তৈরি করেছে নতুন জটিলতা। বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হুমকির আড়ালে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে ইরান, যা রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে পারে ট্রাম্পকে।

ইরান নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে তেহরানও নিজেদের দাবিগুলো চূড়ান্তভাবে প্রকাশ না করে দরকষাকষির সুযোগ ধরে রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সংঘাত শেষ করার চাপ ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিসরকে সংকুচিত করছে, আর সেই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে ইরান।

আলোচনায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ ছাড় এবং ভবিষ্যতে নতুন করে হামলা না চালানোর মতো বেশ কিছু শর্ত সামনে আসছে। ফলে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার পথও জটিল হয়ে উঠছে।

এদিকে সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে ট্রাম্পের ওপর বাড়ছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ চালিয়ে গেলে অর্থনৈতিক ক্ষতি ও জনঅসন্তোষ বাড়তে পারে। আবার পিছু হটলেও নিজ দলের সমর্থকদের সমালোচনার মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে ইরানের সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে ব্যর্থতা এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতির দায় নিয়েই আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে যেতে হতে পারে ট্রাম্পকে।

সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের রাজনৈতিক পরিণতি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি মার্কিন নির্বাচনের মাঠেও নির্ধারিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

তেহরানের ফাঁদে পড়ে নিজ দেশেই অনিশ্চয়তায় ট্রাম্প

আপডেট সময় ০৫:১৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্পষ্ট অবস্থান এবং তেহরানের কৌশলগত নীরবতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে তৈরি করেছে নতুন জটিলতা। বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হুমকির আড়ালে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে ইরান, যা রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে পারে ট্রাম্পকে।

ইরান নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে তেহরানও নিজেদের দাবিগুলো চূড়ান্তভাবে প্রকাশ না করে দরকষাকষির সুযোগ ধরে রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সংঘাত শেষ করার চাপ ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিসরকে সংকুচিত করছে, আর সেই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে ইরান।

আলোচনায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ ছাড় এবং ভবিষ্যতে নতুন করে হামলা না চালানোর মতো বেশ কিছু শর্ত সামনে আসছে। ফলে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার পথও জটিল হয়ে উঠছে।

এদিকে সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে ট্রাম্পের ওপর বাড়ছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ চালিয়ে গেলে অর্থনৈতিক ক্ষতি ও জনঅসন্তোষ বাড়তে পারে। আবার পিছু হটলেও নিজ দলের সমর্থকদের সমালোচনার মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে ইরানের সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে ব্যর্থতা এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতির দায় নিয়েই আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে যেতে হতে পারে ট্রাম্পকে।

সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের রাজনৈতিক পরিণতি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি মার্কিন নির্বাচনের মাঠেও নির্ধারিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।