ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রক্তাক্ত ছবি শেয়ার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপি তিন মাসেই আ.লীগের অবস্থানে পৌঁছে গেছে: আসিফ মাহমুদ ঈদের ছুটি শেষে ফেরার পর এক গ্রুপে গণছাঁটাই, চাকরি হারালেন ১৮৬৮ শ্রমিক যুদ্ধে ইরানের সামরিক শক্তি ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’, ক্ষেপণাস্ত্র মজুত মাত্র ২১% : ট্রাম্প ধর্ষিতার বাবা নয়-গর্বিত পিতা হতে চেয়েছিলাম, আমি কি তার জন্য দায়ী?: রামিসার বাবা ২ হাজারের বেশি বন্দিকে ক্ষমা করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে উত্তাল ভারতের রাজধানী আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ বেআইনি: শিশির মনির অবৈধ বিদেশিদের বিতাড়ন হচ্ছে আইন অনুযায়ী: বাংলাদেশে পুশ ইন নিয়ে প্রশ্নে জয়সোয়াল তিন দিনের সফরে রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র

সেনাবাহিনীতে র’ এর মাস্টারমাইন্ড ছিলেন জেনারেল মুজিব

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৫৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫
  • ১০৮২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত নাম লেফটেনেন্ট জেনারেল মুজিবুর রহমান। একসময় শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন এই কর্মকর্তা ছিলেন দেশের সামরিক কাঠামোর কেন্দ্রে। সেনাবাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস পদে থেকে তিনি শুধু সামরিক ঘাঁটির কৌশলগত শক্তি ও দুর্বলতার খবরই জানতেন না, বরং অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণও ছিল তার হাতে। আর এই ক্ষমতাকে ব্যবহার করে তিনি ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছিলেন এক ছায়া নেটওয়ার্ক, যা কাজ করছিল ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রয়য়ের হয়ে।

তদন্তসূত্রে জানা যায় জেনারেল মুজিব ও শেখ হাসিনার উপদেষ্টা জেনারেল তারেক সিদ্দিক যৌথভাবে সেনা ও পুলিশ বাহিনীতে রয়এর অনুপ্রবেশ ঘটান। বিমান বাহিনীতে রয়এর শ্যাডো রিক্রুটার স্কড লিডার আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফ গ্রেফতার হওয়ার পর উন্মোচিত হয় পুরো চক্রের চিত্র। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, এমনকি পুলিশ, র্যাব, এএসএফ সর্বত্রই বসানো হয়েছিল রয়এর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের। ১৪ই আগস্ট আলতাফের গ্রেফতারের পর অদ্ভুতভাবে মুজিবও ময়মনসিংহে বদলি হন।

২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা দিল্লিতে পালিয়ে যাওয়ার পরের দিন ৬ই আগস্ট জেনারেল মুজিব সেনাবাহিনীতে ঘোষণা দেন, সরকার নেই, দেশের নিয়ন্ত্রণ সশস্ত্র বাহিনীর হাতে। এভাবেই তিনি সামরিক শাসনের সূচনা করতে চেয়েছিলেন। এই কুপ্রচেষ্টায় তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রভাবশালী কয়েকজন সাবেক ও কর্মরত কর্মকর্তা—অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল হামিদুল হক, এনএসআইডিসি মোহাম্মদ হোসেন আল মুরশেদ, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আকবর হোসেন, তাবরিজ শাম চৌধুরী, মোঃ শাহিনুল হক ও সাইফুল আলম। তবে সেনাপ্রধান ওয়াকারুজ্জামানের কঠোর পদক্ষেপে এই অভ্যুত্থান ভেজতে যায়।

দুর্নীতির দিক থেকেও মুজিবের সাম্রাজ্য ছিল বিশাল। দুদকের তথ্যে মুজিব ও তার স্ত্রী তাসরিন মুজিবের নামে রয়েছে ঢাকায় ৩৪টি ব্যাংক হিসাব, দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে ১০টি প্লট, ২০ বিঘা জমি, নিউইয়র্কে দুটি অ্যাপার্টমেন্ট। শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘুষ ও গাড়ি নেওয়া ছিল তার নিত্যদিনের রুটিন। ব্যারিস্টার সোয়ার হোসেনের হিসেবে এই দুর্নীতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২১০০ কোটি টাকা।

বর্তমানে মুজিব রয়েছেন দিল্লিতে, তার সঙ্গে আছেন মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত আকবর ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল। তাদের পরিকল্পনা অন্তর্বর্তী সরকারের পতন ঘটিয়ে শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় ফেরানো। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, দেশে সাম্প্রতিক নানা নাশকতার সঙ্গে তাদের চোখসূত্র রয়েছে। এবার প্রশ্ন হলো, একজন জেনারেল কিভাবে সেনাবাহিনীর ভিতরে রয়এর শাখা অফিস বসিয়ে দিলেন? কিভাবে স্বাধীন সার্বভৌম দেশের পতাকা ধীরে ধীরে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার মত পরিস্থিতি তৈরি করলেন? যদি এমন রাষ্ট্রদ্রোহীকে বিচারহীনভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ষড়যন্ত্র কতটা ঠেকাতে পারবে দেশের সরকার, সে নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রক্তাক্ত ছবি শেয়ার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সেনাবাহিনীতে র’ এর মাস্টারমাইন্ড ছিলেন জেনারেল মুজিব

আপডেট সময় ১২:৫৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত নাম লেফটেনেন্ট জেনারেল মুজিবুর রহমান। একসময় শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন এই কর্মকর্তা ছিলেন দেশের সামরিক কাঠামোর কেন্দ্রে। সেনাবাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস পদে থেকে তিনি শুধু সামরিক ঘাঁটির কৌশলগত শক্তি ও দুর্বলতার খবরই জানতেন না, বরং অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণও ছিল তার হাতে। আর এই ক্ষমতাকে ব্যবহার করে তিনি ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছিলেন এক ছায়া নেটওয়ার্ক, যা কাজ করছিল ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রয়য়ের হয়ে।

তদন্তসূত্রে জানা যায় জেনারেল মুজিব ও শেখ হাসিনার উপদেষ্টা জেনারেল তারেক সিদ্দিক যৌথভাবে সেনা ও পুলিশ বাহিনীতে রয়এর অনুপ্রবেশ ঘটান। বিমান বাহিনীতে রয়এর শ্যাডো রিক্রুটার স্কড লিডার আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফ গ্রেফতার হওয়ার পর উন্মোচিত হয় পুরো চক্রের চিত্র। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, এমনকি পুলিশ, র্যাব, এএসএফ সর্বত্রই বসানো হয়েছিল রয়এর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের। ১৪ই আগস্ট আলতাফের গ্রেফতারের পর অদ্ভুতভাবে মুজিবও ময়মনসিংহে বদলি হন।

২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা দিল্লিতে পালিয়ে যাওয়ার পরের দিন ৬ই আগস্ট জেনারেল মুজিব সেনাবাহিনীতে ঘোষণা দেন, সরকার নেই, দেশের নিয়ন্ত্রণ সশস্ত্র বাহিনীর হাতে। এভাবেই তিনি সামরিক শাসনের সূচনা করতে চেয়েছিলেন। এই কুপ্রচেষ্টায় তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রভাবশালী কয়েকজন সাবেক ও কর্মরত কর্মকর্তা—অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল হামিদুল হক, এনএসআইডিসি মোহাম্মদ হোসেন আল মুরশেদ, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আকবর হোসেন, তাবরিজ শাম চৌধুরী, মোঃ শাহিনুল হক ও সাইফুল আলম। তবে সেনাপ্রধান ওয়াকারুজ্জামানের কঠোর পদক্ষেপে এই অভ্যুত্থান ভেজতে যায়।

দুর্নীতির দিক থেকেও মুজিবের সাম্রাজ্য ছিল বিশাল। দুদকের তথ্যে মুজিব ও তার স্ত্রী তাসরিন মুজিবের নামে রয়েছে ঢাকায় ৩৪টি ব্যাংক হিসাব, দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে ১০টি প্লট, ২০ বিঘা জমি, নিউইয়র্কে দুটি অ্যাপার্টমেন্ট। শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘুষ ও গাড়ি নেওয়া ছিল তার নিত্যদিনের রুটিন। ব্যারিস্টার সোয়ার হোসেনের হিসেবে এই দুর্নীতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২১০০ কোটি টাকা।

বর্তমানে মুজিব রয়েছেন দিল্লিতে, তার সঙ্গে আছেন মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত আকবর ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল। তাদের পরিকল্পনা অন্তর্বর্তী সরকারের পতন ঘটিয়ে শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় ফেরানো। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, দেশে সাম্প্রতিক নানা নাশকতার সঙ্গে তাদের চোখসূত্র রয়েছে। এবার প্রশ্ন হলো, একজন জেনারেল কিভাবে সেনাবাহিনীর ভিতরে রয়এর শাখা অফিস বসিয়ে দিলেন? কিভাবে স্বাধীন সার্বভৌম দেশের পতাকা ধীরে ধীরে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার মত পরিস্থিতি তৈরি করলেন? যদি এমন রাষ্ট্রদ্রোহীকে বিচারহীনভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ষড়যন্ত্র কতটা ঠেকাতে পারবে দেশের সরকার, সে নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়।