ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ফেসবুকে গালিগালাজ নিয়ন্ত্রণে আইন করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী ‘মাননীয়’ বাদ, অনলাইন হাজিরা: নিজ দপ্তর থেকেই নিয়ম মানার দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিলেন আফরোজা আব্বাস ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে: হাইকোর্ট পাকা ঘর নির্মাণ করা হলো না, দাদা-দাদির পাশে চিরনিদ্রায় পিয়াস সৌদি থেকে ফিরেই ঠাকুরগাঁও যাবেন হিরো আলম, শুরু করবেন নির্বাচনী প্রস্তুতি  মায়ের মৃত্যুতে ৫ ঘণ্টার জন্য মুক্তি পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বাতিল না করলে সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ-বিক্ষোভ শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের সম্পৃক্ততা নেই: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

সমুদ্রের পানিতে মিলল ভয়ংকর ‘মাংসখেকো’ ব্যাকটেরিয়া, মৃত্যু হতে পারে তিন দিনেই 

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮৫ বার পড়া হয়েছে

এবার সমুদ্রের নোনা পানি ও সামুদ্রিক খাবার থেকে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানাসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় এ নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংক্রমণে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। লুইজিয়ানার স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, সমুদ্রের নোনা পানি ও সামুদ্রিক খাবারের মাধ্যমেভিব্রিয়ো ভালনিফিকাসনামের এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। শরীরে ঢোকার পর এটি কোষ, পেশি ও রক্তনালির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে।

শুধু লুইজিয়ানাতেই নয়, ফ্লোরিডা, টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা, মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চল এবং এশিয়ার কিছু সামুদ্রিক এলাকাতেও এই ব্যাকটেরিয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ‘ভিব্রিয়ো ভালনিফিকাসমূলত সমুদ্রের নোনা পানিতে জন্মায়। উষ্ণ পরিবেশে এই ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বেঁচে থাকতে ও বংশবিস্তার করতে পারে। শরীরে প্রবেশের পর এটি ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে। এর ফলে রক্ত ও শরীরের বিভিন্ন টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গুরুতর সংক্রমণ হলে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রক্তে বিষক্রিয়া বা সেপসিস দেখা দিতে পারে।

এই ধরনের সংক্রমণে শরীরের ভেতরের পেশি ও কোষকলায় পচন ধরতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকেনেক্রোটাইজিং ফ্যাসাইটিসবলা হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে অঙ্গপ্রত্যঙ্গও বিকল হয়ে যেতে পারে। এছাড়া এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে লিভারের জটিল রোগও দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের নোনা পানি এবং আধসেদ্ধ বা কাঁচা সামুদ্রিক খাবার থেকে এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তবে এটি ছোঁয়াচে নয়। শরীরে কোনো কাটাছেঁড়া বা ক্ষত থাকলে সেই স্থান দিয়ে নোনা পানি শরীরে প্রবেশের মাধ্যমে সংক্রমণ হতে পারে। এমনকি ট্যাটুর জায়গা দিয়েও ব্যাকটেরিয়া শরীরে ঢুকতে পারে।

ক্ষতস্থান দিয়ে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করলে প্রথমে ওই এলাকার ত্বক ও নিচের পেশিতে ক্ষতি শুরু হতে পারে। ত্বকে ফোসকা পড়া এবং মারাত্মক ক্ষত তৈরি হতে পারে। সংক্রমণ রক্তে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র জ্বর, কাঁপুনি ও রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। হাতপা নীল হয়ে যেতে পারে এবং রক্তে বিষক্রিয়া হয়ে সেপসিস দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় আক্রান্ত অঙ্গের কিছু অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। ভিব্রিয়ো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। গুরুতর সংক্রমণে শিরায় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সেপসিসের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে আক্রান্ত ও পচে যাওয়া কোষ অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেসবুকে গালিগালাজ নিয়ন্ত্রণে আইন করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

সমুদ্রের পানিতে মিলল ভয়ংকর ‘মাংসখেকো’ ব্যাকটেরিয়া, মৃত্যু হতে পারে তিন দিনেই 

আপডেট সময় ০২:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

এবার সমুদ্রের নোনা পানি ও সামুদ্রিক খাবার থেকে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানাসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় এ নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংক্রমণে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। লুইজিয়ানার স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, সমুদ্রের নোনা পানি ও সামুদ্রিক খাবারের মাধ্যমেভিব্রিয়ো ভালনিফিকাসনামের এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। শরীরে ঢোকার পর এটি কোষ, পেশি ও রক্তনালির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে।

শুধু লুইজিয়ানাতেই নয়, ফ্লোরিডা, টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা, মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চল এবং এশিয়ার কিছু সামুদ্রিক এলাকাতেও এই ব্যাকটেরিয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ‘ভিব্রিয়ো ভালনিফিকাসমূলত সমুদ্রের নোনা পানিতে জন্মায়। উষ্ণ পরিবেশে এই ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বেঁচে থাকতে ও বংশবিস্তার করতে পারে। শরীরে প্রবেশের পর এটি ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে। এর ফলে রক্ত ও শরীরের বিভিন্ন টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গুরুতর সংক্রমণ হলে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রক্তে বিষক্রিয়া বা সেপসিস দেখা দিতে পারে।

এই ধরনের সংক্রমণে শরীরের ভেতরের পেশি ও কোষকলায় পচন ধরতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকেনেক্রোটাইজিং ফ্যাসাইটিসবলা হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে অঙ্গপ্রত্যঙ্গও বিকল হয়ে যেতে পারে। এছাড়া এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে লিভারের জটিল রোগও দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের নোনা পানি এবং আধসেদ্ধ বা কাঁচা সামুদ্রিক খাবার থেকে এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তবে এটি ছোঁয়াচে নয়। শরীরে কোনো কাটাছেঁড়া বা ক্ষত থাকলে সেই স্থান দিয়ে নোনা পানি শরীরে প্রবেশের মাধ্যমে সংক্রমণ হতে পারে। এমনকি ট্যাটুর জায়গা দিয়েও ব্যাকটেরিয়া শরীরে ঢুকতে পারে।

ক্ষতস্থান দিয়ে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করলে প্রথমে ওই এলাকার ত্বক ও নিচের পেশিতে ক্ষতি শুরু হতে পারে। ত্বকে ফোসকা পড়া এবং মারাত্মক ক্ষত তৈরি হতে পারে। সংক্রমণ রক্তে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র জ্বর, কাঁপুনি ও রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। হাতপা নীল হয়ে যেতে পারে এবং রক্তে বিষক্রিয়া হয়ে সেপসিস দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় আক্রান্ত অঙ্গের কিছু অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। ভিব্রিয়ো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। গুরুতর সংক্রমণে শিরায় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সেপসিসের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে আক্রান্ত ও পচে যাওয়া কোষ অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে।