ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ফের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, পুলিশের লাঠিচার্জ-জলকামান ব্যবহার ৫৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৫ জনই পেল জিপিএ-৫ থানার ভেতর সিআইডি কর্মকর্তাকে থাপ্পড়, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার ওমান উপকূলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মার্কিন সমর্থিত জাহাজে আগুন দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে প্রাইভেট কারের ধাক্কা, রড ঢুকে প্রাণ গেল বিচারকের সমুদ্রের পানিতে মিলল ভয়ংকর ‘মাংসখেকো’ ব্যাকটেরিয়া, মৃত্যু হতে পারে তিন দিনেই  ঋণের নামে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, চুপ্পু-এস আলমসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ ইংরেজি ও গণিত ফেলের হার বাড়িয়ে দেয়: ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দয়ের ‘মা আর মনে হয় দেখা হবে না’, মৃত্যুর আগে অডিও বার্তা পাঠান প্রমাণিক

সমুদ্রের পানিতে মিলল ভয়ংকর ‘মাংসখেকো’ ব্যাকটেরিয়া, মৃত্যু হতে পারে তিন দিনেই 

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

এবার সমুদ্রের নোনা পানি ও সামুদ্রিক খাবার থেকে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানাসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় এ নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংক্রমণে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। লুইজিয়ানার স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, সমুদ্রের নোনা পানি ও সামুদ্রিক খাবারের মাধ্যমেভিব্রিয়ো ভালনিফিকাসনামের এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। শরীরে ঢোকার পর এটি কোষ, পেশি ও রক্তনালির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে।

শুধু লুইজিয়ানাতেই নয়, ফ্লোরিডা, টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা, মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চল এবং এশিয়ার কিছু সামুদ্রিক এলাকাতেও এই ব্যাকটেরিয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ‘ভিব্রিয়ো ভালনিফিকাসমূলত সমুদ্রের নোনা পানিতে জন্মায়। উষ্ণ পরিবেশে এই ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বেঁচে থাকতে ও বংশবিস্তার করতে পারে। শরীরে প্রবেশের পর এটি ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে। এর ফলে রক্ত ও শরীরের বিভিন্ন টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গুরুতর সংক্রমণ হলে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রক্তে বিষক্রিয়া বা সেপসিস দেখা দিতে পারে।

এই ধরনের সংক্রমণে শরীরের ভেতরের পেশি ও কোষকলায় পচন ধরতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকেনেক্রোটাইজিং ফ্যাসাইটিসবলা হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে অঙ্গপ্রত্যঙ্গও বিকল হয়ে যেতে পারে। এছাড়া এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে লিভারের জটিল রোগও দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের নোনা পানি এবং আধসেদ্ধ বা কাঁচা সামুদ্রিক খাবার থেকে এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তবে এটি ছোঁয়াচে নয়। শরীরে কোনো কাটাছেঁড়া বা ক্ষত থাকলে সেই স্থান দিয়ে নোনা পানি শরীরে প্রবেশের মাধ্যমে সংক্রমণ হতে পারে। এমনকি ট্যাটুর জায়গা দিয়েও ব্যাকটেরিয়া শরীরে ঢুকতে পারে।

ক্ষতস্থান দিয়ে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করলে প্রথমে ওই এলাকার ত্বক ও নিচের পেশিতে ক্ষতি শুরু হতে পারে। ত্বকে ফোসকা পড়া এবং মারাত্মক ক্ষত তৈরি হতে পারে। সংক্রমণ রক্তে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র জ্বর, কাঁপুনি ও রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। হাতপা নীল হয়ে যেতে পারে এবং রক্তে বিষক্রিয়া হয়ে সেপসিস দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় আক্রান্ত অঙ্গের কিছু অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। ভিব্রিয়ো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। গুরুতর সংক্রমণে শিরায় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সেপসিসের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে আক্রান্ত ও পচে যাওয়া কোষ অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, পুলিশের লাঠিচার্জ-জলকামান ব্যবহার

সমুদ্রের পানিতে মিলল ভয়ংকর ‘মাংসখেকো’ ব্যাকটেরিয়া, মৃত্যু হতে পারে তিন দিনেই 

আপডেট সময় ০২:২৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

এবার সমুদ্রের নোনা পানি ও সামুদ্রিক খাবার থেকে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ংকর মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানাসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় এ নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংক্রমণে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। লুইজিয়ানার স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, সমুদ্রের নোনা পানি ও সামুদ্রিক খাবারের মাধ্যমেভিব্রিয়ো ভালনিফিকাসনামের এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। শরীরে ঢোকার পর এটি কোষ, পেশি ও রক্তনালির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে।

শুধু লুইজিয়ানাতেই নয়, ফ্লোরিডা, টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা, মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চল এবং এশিয়ার কিছু সামুদ্রিক এলাকাতেও এই ব্যাকটেরিয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ‘ভিব্রিয়ো ভালনিফিকাসমূলত সমুদ্রের নোনা পানিতে জন্মায়। উষ্ণ পরিবেশে এই ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বেঁচে থাকতে ও বংশবিস্তার করতে পারে। শরীরে প্রবেশের পর এটি ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে। এর ফলে রক্ত ও শরীরের বিভিন্ন টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গুরুতর সংক্রমণ হলে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রক্তে বিষক্রিয়া বা সেপসিস দেখা দিতে পারে।

এই ধরনের সংক্রমণে শরীরের ভেতরের পেশি ও কোষকলায় পচন ধরতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকেনেক্রোটাইজিং ফ্যাসাইটিসবলা হয়। গুরুতর ক্ষেত্রে অঙ্গপ্রত্যঙ্গও বিকল হয়ে যেতে পারে। এছাড়া এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে লিভারের জটিল রোগও দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের নোনা পানি এবং আধসেদ্ধ বা কাঁচা সামুদ্রিক খাবার থেকে এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তবে এটি ছোঁয়াচে নয়। শরীরে কোনো কাটাছেঁড়া বা ক্ষত থাকলে সেই স্থান দিয়ে নোনা পানি শরীরে প্রবেশের মাধ্যমে সংক্রমণ হতে পারে। এমনকি ট্যাটুর জায়গা দিয়েও ব্যাকটেরিয়া শরীরে ঢুকতে পারে।

ক্ষতস্থান দিয়ে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করলে প্রথমে ওই এলাকার ত্বক ও নিচের পেশিতে ক্ষতি শুরু হতে পারে। ত্বকে ফোসকা পড়া এবং মারাত্মক ক্ষত তৈরি হতে পারে। সংক্রমণ রক্তে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র জ্বর, কাঁপুনি ও রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। হাতপা নীল হয়ে যেতে পারে এবং রক্তে বিষক্রিয়া হয়ে সেপসিস দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় আক্রান্ত অঙ্গের কিছু অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। ভিব্রিয়ো ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। গুরুতর সংক্রমণে শিরায় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সেপসিসের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত অস্ত্রোপচার করে আক্রান্ত ও পচে যাওয়া কোষ অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে।