ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বাতিল না করলে সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ-বিক্ষোভ শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের সম্পৃক্ততা নেই: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা যেকোনো দলের বৈধ প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন: মীর শাহে আলম গত ১৭ বছরে মতপ্রকাশের সুযোগ ছিল শুধু একজন ও একটি দলের: রিজভী ‘দেরি হওয়ার আগেই দেশে ফিরে যান’, মার্কিন সেনাদের ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি ভারতের মাটিতে নামলো রাশিয়ার ৩ সামরিক যুদ্ধবিমান বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অশালীন বক্তব্য, আদমজী কলেজ থেকে বহিষ্কার হতে পারে সেই সিফাত ফিলিস্তিনের প্রতি পুনর্সমর্থন ব্যক্ত করলো পাকিস্তান-তুরস্ক কক্সবাজারের ইনানী বনে দেখা মিলল বিরল মেঘলা চিতার, মিলেছে আরও ২১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বাতিল না করলে সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ-বিক্ষোভ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

এবার সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬ শরিয়াহবিরোধী আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তা বাতিল করার দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম এই দাবি জানান। এ সময় এই আইনের প্রতিবাদ ও তা বাতিল দাবিতে আগামীকাল শুক্রবার সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ফয়জুল করীম বলেন, যে দেশের প্রায় সব মানুষ ধর্মপ্রাণ এবং অধিকাংশ মানুষ মুসলমান, সেই দেশের সরকার ধর্ম ও ইসলামবিরুদ্ধ কোনো আইন জাতীয় সংসদে পাস করতে পারেএটা কল্পনা করাও কষ্টকর। বিশেষত এমন একটি সরকার, যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রাম ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তাক্ত পথ মাড়িয়ে ক্ষমতায় এসেছে।

তিনি বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর সংসদে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের একটি সংশোধনী আনা হয়।সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬নামে আইনটি কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। এই আইনে কোরআনে বর্ণিত ইসলামের অকাট্য একটি বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফয়জুল করীম বলেন, ‘এই ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য খুবই স্পষ্ট। দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান। তাদের ধর্মীয় বিধান পালনে সহায়তা করতে রাষ্ট্র বাধ্য। সংবিধানের ধারা৪১ এ প্রত্যেক নাগরিককে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলা আছে। ফলে সরকার কখনোই এমন কোনো আইন করতে পারে না, যা নাগরিকের ধর্ম পালনে বাধা সৃষ্টি করে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারও কোরআনসুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করবে না বলে বারবার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু সরকারের ছয় মাস যেতে না যেতেই সরকার শরিয়াহবিরোধী আইন পাস করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একই সঙ্গে অবিলম্বে এই আইন বাতিলের দাবি জানাচ্ছে। আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে ফয়জুল করীম বলেন, আইনমন্ত্রীকে কথাবার্তায় আরো মার্জিত হতে হবে। এই আইন নিয়ে তিনি যেভাবে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, তা শোভনীয় নয়। তিনি ব্রিটিশ ও পশ্চিমা আইনে বিজ্ঞ হতে পারেন। কিন্তু শরিয়াহ আইন ও তার তৎপরতা নিয়ে তার চেয়ে উলামায়ে কেরামের প্রাজ্ঞতা বেশি। ফলে শরিয়াহসংক্রান্ত বিষয়ে উলামায়ে কেরামের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

মুফতি ফয়জুল করীম সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশে বহুবিধ সমস্যা রয়েছে। নিত্যদিনের সমস্যায় মানুষ জর্জরিত। বেকারত্ব বাড়ছে। দ্রব্যমূল্য লাগাম হারিয়েছে। সন্ত্রাসে তটস্থ হচ্ছে মানুষ। বিদ্যুতের সংকটে নাজেহাল জনতা। এমন বাস্তবভিত্তিক সমস্যার সমাধান না করে সরকার শরিয়াহবিরোধিতায় নেমে যাওয়া জাতির জন্য হতাশাজনক। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের সদিচ্ছার প্রতি সুধারণা রাখছি। সম্ভবত গভীরভাবে না ভেবেই আইনটি আনা হয়েছে। সেজন্য সরকারকে বলব, আইনটি নিয়ে অধিকতর পর্যালোচনা করুন। উলামায়ে কেরাম ও আইনবিদদের সঙ্গে পরামর্শ করুন। প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনুন। কিন্তু সমস্যা সমাধানের নামে কোনো অবস্থাতেই শরিয়াহ অমান্য করা যাবে না।সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বাতিল না করলে সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ-বিক্ষোভ

আপডেট সময় ০২:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬ শরিয়াহবিরোধী আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তা বাতিল করার দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম এই দাবি জানান। এ সময় এই আইনের প্রতিবাদ ও তা বাতিল দাবিতে আগামীকাল শুক্রবার সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ফয়জুল করীম বলেন, যে দেশের প্রায় সব মানুষ ধর্মপ্রাণ এবং অধিকাংশ মানুষ মুসলমান, সেই দেশের সরকার ধর্ম ও ইসলামবিরুদ্ধ কোনো আইন জাতীয় সংসদে পাস করতে পারেএটা কল্পনা করাও কষ্টকর। বিশেষত এমন একটি সরকার, যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রাম ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তাক্ত পথ মাড়িয়ে ক্ষমতায় এসেছে।

তিনি বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর সংসদে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের একটি সংশোধনী আনা হয়।সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন, ২০২৬নামে আইনটি কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। এই আইনে কোরআনে বর্ণিত ইসলামের অকাট্য একটি বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফয়জুল করীম বলেন, ‘এই ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য খুবই স্পষ্ট। দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান। তাদের ধর্মীয় বিধান পালনে সহায়তা করতে রাষ্ট্র বাধ্য। সংবিধানের ধারা৪১ এ প্রত্যেক নাগরিককে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলা আছে। ফলে সরকার কখনোই এমন কোনো আইন করতে পারে না, যা নাগরিকের ধর্ম পালনে বাধা সৃষ্টি করে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারও কোরআনসুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করবে না বলে বারবার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু সরকারের ছয় মাস যেতে না যেতেই সরকার শরিয়াহবিরোধী আইন পাস করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একই সঙ্গে অবিলম্বে এই আইন বাতিলের দাবি জানাচ্ছে। আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে ফয়জুল করীম বলেন, আইনমন্ত্রীকে কথাবার্তায় আরো মার্জিত হতে হবে। এই আইন নিয়ে তিনি যেভাবে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, তা শোভনীয় নয়। তিনি ব্রিটিশ ও পশ্চিমা আইনে বিজ্ঞ হতে পারেন। কিন্তু শরিয়াহ আইন ও তার তৎপরতা নিয়ে তার চেয়ে উলামায়ে কেরামের প্রাজ্ঞতা বেশি। ফলে শরিয়াহসংক্রান্ত বিষয়ে উলামায়ে কেরামের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

মুফতি ফয়জুল করীম সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশে বহুবিধ সমস্যা রয়েছে। নিত্যদিনের সমস্যায় মানুষ জর্জরিত। বেকারত্ব বাড়ছে। দ্রব্যমূল্য লাগাম হারিয়েছে। সন্ত্রাসে তটস্থ হচ্ছে মানুষ। বিদ্যুতের সংকটে নাজেহাল জনতা। এমন বাস্তবভিত্তিক সমস্যার সমাধান না করে সরকার শরিয়াহবিরোধিতায় নেমে যাওয়া জাতির জন্য হতাশাজনক। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের সদিচ্ছার প্রতি সুধারণা রাখছি। সম্ভবত গভীরভাবে না ভেবেই আইনটি আনা হয়েছে। সেজন্য সরকারকে বলব, আইনটি নিয়ে অধিকতর পর্যালোচনা করুন। উলামায়ে কেরাম ও আইনবিদদের সঙ্গে পরামর্শ করুন। প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনুন। কিন্তু সমস্যা সমাধানের নামে কোনো অবস্থাতেই শরিয়াহ অমান্য করা যাবে না।সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।