ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
তরুণীর কবর থেকে ছড়াচ্ছিল সুগন্ধি,স্বপ্নে দেখলেন জীবিত, অতঃপর কবর খুঁড়ে যা দেখলেন স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তির খসড়া ফাঁস করল সিএনএন ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধের মেয়াদ বাড়াল পাকিস্তান রাফিনিয়াকে ভুল পজিশনে খেলাচ্ছেন আনচেলত্তি, প্রশ্ন তুললেন রোনালদো দেশের প্রধান রুটে চালু হচ্ছে বৈদ্যুতিক ট্রেন- প্রধানমন্ত্রী নামাজের ইমামতি রেখে পালিয়ে যাওয়া বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা গ্রেফতার ইরান আচরণ না বদলালে আবার বোমা হামলা হবে : ট্রাম্প শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি ১৪ জুলাই নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ বলা স্লিপ অব টাং: জামায়াত এমপি

অবৈধভাবে বেতন নিচ্ছেন মাদকের দৃশ্যে ভাইরাল হওয়া ইবির সেই ছাত্রনেতা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

অবৈধভাবে বেতন নিচ্ছেন মাদকের দৃশ্যে ভাইরাল হওয়া ইবির সেই ছাত্রনেতা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুবাশ্বির আমিনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে দৈনিক মজুরিতে নিয়মিত কাজ না করেই বেতন উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এরআগে গত ২৬ এপ্রিল এ নেতার মাদক সদৃশ দ্রব্য সেবনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ক্যাম্পাসে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, গতবছর ল্যাবের টেকনিক্যাল কমিটির সুপারিশে ‘অন-ক্যাম্পাস জব’ এর আওতায় বর্তমান শিক্ষার্থীদেরকে অস্থায়ী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদের দৈনিক মজুরি ঠিক করা হয় ৪০০ টাকা। পরে একই বছরের আগস্টে মুবাশ্বিরসহ ছয়জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

 

 

এদিকে অভিযোগ উঠেছে যে, যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত কাজ না করেই বেতন নেন মুবাশ্বির। ল্যাবে অনুপস্থিত থেকেও গত আট মাসে তিনি মোট ৫২,০০০ টাকা বেতন উত্তোলন করেছেন। তাছাড়া ল্যাবের পেশাদার দায়িত্ব পালনের চেয়ে দলীয় মিছিল, মিটিং ও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেন তিনি। Politics

 

 

হিসাব অনুযায়ী, বেতন বাবদ গত বছরের আগস্টে ৩,২০০ টাকা, সেপ্টেম্বরে ৮,৪০০ টাকা, অক্টোবরে ৭,২০০ টাকা, নভেম্বরে ৮,৮০০ টাকা এবং ডিসেম্বরে ৬,৪০০ টাকা নেন। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৭,২০০ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৬,৪০০ টাকা এবং সর্বশেষ মার্চ মাসে ৪,৪০০ টাকা উত্তোলন করেন তিনি। ল্যাবে নিয়মিত উপস্থিত না হয়েও এভাবে অর্থ উত্তোলন করায় ক্যাম্পাসে নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

 

এদিকে তার এক সহকর্মী অভিযোগ করে বলেন, মুবাশ্বির মাসে মাত্র ২-৩ দিন সার্ভিস দেন। দিনের অধিকাংশ সময় তাকে ল্যাবে পাওয়া যায় না। প্রতিদিন ল্যাবে এসে শুধু স্বাক্ষর করেই চলে যান। এ বিষয়ে ল্যাব পরিচালকের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছি।

এর আগে, গত ২৬ এপ্রিল দুপুরে ইবির এই বৈষম্যবিরোধী নেতার মাদক সেবনের একটি ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতা। পরে ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মাঝে তুমুল সমালোচনার জন্ম দিলে এটিকে অভিনয়ের একটি দৃশ্য বলে দাবি করেন মুবাশ্বির। পরে বিষয়টি নিয়ে ইবি থানায় জিডি করেন তিনি।

 

 

অভিযুক্ত মুবাশ্বির আমিন বলেন, আমার ল্যাবটিতে সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন শিক্ষার্থীদের পারপাসে কাজ করা হয়। অন্য সময়ে আমার পার্সোনাল কাজে ল্যাবে আসা হয়। তাই দুই একদিন এসে পুরো মাসের বেতন নেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং মানহানিকর তথ্য।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি ক্ষমতার কোনো অপব্যবহার করিনি। আমি নিজ যোগ্যতাই নিয়োগ পেয়েছি। আর মাদকের ব্যাপারটা মূলত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ছড়ানো। এটি নিয়ে আমি মামলাও করেছি। আর এমনিতেও নিষিদ্ধঘোষিত একটি সংগঠনের প্রোপাগান্ডার কোনো বৈধতা থাকতে পারে না।

 

কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের পরিচালক অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, উপাচার্যের সিদ্ধান্তে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ল্যাবে অস্থায়ীভাবে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। যে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে সেটি সত্য প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করে নিয়োগ বাতিল করা হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণীর কবর থেকে ছড়াচ্ছিল সুগন্ধি,স্বপ্নে দেখলেন জীবিত, অতঃপর কবর খুঁড়ে যা দেখলেন

অবৈধভাবে বেতন নিচ্ছেন মাদকের দৃশ্যে ভাইরাল হওয়া ইবির সেই ছাত্রনেতা

আপডেট সময় ০৯:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

অবৈধভাবে বেতন নিচ্ছেন মাদকের দৃশ্যে ভাইরাল হওয়া ইবির সেই ছাত্রনেতা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুবাশ্বির আমিনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে দৈনিক মজুরিতে নিয়মিত কাজ না করেই বেতন উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এরআগে গত ২৬ এপ্রিল এ নেতার মাদক সদৃশ দ্রব্য সেবনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ক্যাম্পাসে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, গতবছর ল্যাবের টেকনিক্যাল কমিটির সুপারিশে ‘অন-ক্যাম্পাস জব’ এর আওতায় বর্তমান শিক্ষার্থীদেরকে অস্থায়ী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদের দৈনিক মজুরি ঠিক করা হয় ৪০০ টাকা। পরে একই বছরের আগস্টে মুবাশ্বিরসহ ছয়জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

 

 

এদিকে অভিযোগ উঠেছে যে, যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত কাজ না করেই বেতন নেন মুবাশ্বির। ল্যাবে অনুপস্থিত থেকেও গত আট মাসে তিনি মোট ৫২,০০০ টাকা বেতন উত্তোলন করেছেন। তাছাড়া ল্যাবের পেশাদার দায়িত্ব পালনের চেয়ে দলীয় মিছিল, মিটিং ও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেন তিনি। Politics

 

 

হিসাব অনুযায়ী, বেতন বাবদ গত বছরের আগস্টে ৩,২০০ টাকা, সেপ্টেম্বরে ৮,৪০০ টাকা, অক্টোবরে ৭,২০০ টাকা, নভেম্বরে ৮,৮০০ টাকা এবং ডিসেম্বরে ৬,৪০০ টাকা নেন। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৭,২০০ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৬,৪০০ টাকা এবং সর্বশেষ মার্চ মাসে ৪,৪০০ টাকা উত্তোলন করেন তিনি। ল্যাবে নিয়মিত উপস্থিত না হয়েও এভাবে অর্থ উত্তোলন করায় ক্যাম্পাসে নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

 

এদিকে তার এক সহকর্মী অভিযোগ করে বলেন, মুবাশ্বির মাসে মাত্র ২-৩ দিন সার্ভিস দেন। দিনের অধিকাংশ সময় তাকে ল্যাবে পাওয়া যায় না। প্রতিদিন ল্যাবে এসে শুধু স্বাক্ষর করেই চলে যান। এ বিষয়ে ল্যাব পরিচালকের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছি।

এর আগে, গত ২৬ এপ্রিল দুপুরে ইবির এই বৈষম্যবিরোধী নেতার মাদক সেবনের একটি ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতা। পরে ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মাঝে তুমুল সমালোচনার জন্ম দিলে এটিকে অভিনয়ের একটি দৃশ্য বলে দাবি করেন মুবাশ্বির। পরে বিষয়টি নিয়ে ইবি থানায় জিডি করেন তিনি।

 

 

অভিযুক্ত মুবাশ্বির আমিন বলেন, আমার ল্যাবটিতে সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন শিক্ষার্থীদের পারপাসে কাজ করা হয়। অন্য সময়ে আমার পার্সোনাল কাজে ল্যাবে আসা হয়। তাই দুই একদিন এসে পুরো মাসের বেতন নেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং মানহানিকর তথ্য।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি ক্ষমতার কোনো অপব্যবহার করিনি। আমি নিজ যোগ্যতাই নিয়োগ পেয়েছি। আর মাদকের ব্যাপারটা মূলত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ছড়ানো। এটি নিয়ে আমি মামলাও করেছি। আর এমনিতেও নিষিদ্ধঘোষিত একটি সংগঠনের প্রোপাগান্ডার কোনো বৈধতা থাকতে পারে না।

 

কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের পরিচালক অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, উপাচার্যের সিদ্ধান্তে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ল্যাবে অস্থায়ীভাবে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। যে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে সেটি সত্য প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করে নিয়োগ বাতিল করা হবে।