জুলাই আন্দোলন ঘিরে আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার নির্দেশনার অভিযোগসংক্রান্ত নতুন ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
মঙ্গলবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ শেখ হাসিনার সঙ্গে তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের কথোপকথনের নতুন অডিও রেকর্ড উপস্থাপন করা হয়।
এর আগে সোমবারও এসব ফোনালাপের কয়েকটি অংশ প্রমাণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের দাবি, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাইয়ের ফোনালাপে আন্দোলন দমনে বিভিন্ন নির্দেশনার কথা উঠে আসে। ১৯ জুলাই শেখ হাসিনা ও হাছান মাহমুদের কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ‘পাল্টা আগুন’ দেওয়ার প্রসঙ্গ আসে বলে জানানো হয়।
ফোনালাপে হাছান মাহমুদ কথিত এই কৌশলকে ‘টিট ফর ট্যাট’ হিসেবে সমর্থন করেন বলে প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার এবং সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় ‘প্রোটেকশনের’ ব্যবস্থা করার নির্দেশনার কথাও উঠে আসে।
পরে কথোপকথনে যুক্ত হন ওবায়দুল কাদের। সেতু ভবনে আগুন দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে সেখানে র্যাব মোতায়েনের কথা বলেন শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়ার কথাও ফোনালাপে রয়েছে বলে দাবি করেছে প্রসিকিউশন।
এ ছাড়া জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশ এবং আন্দোলনকারীদের ওপর সহিংসতার দায় তাদের ওপর চাপানোর বিষয়ে আরও দুটি অডিও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের পক্ষে অডিওগুলো উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। পরে সাংবাদিকদের কাছে ফোনালাপের কথোপকথনের লিখিত অনুলিপিও দেওয়া হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট 























