ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মা-বাবা নেই, দুই ভাইয়ের শূন্য ঘরে ‘গোল্ডেন এ প্লাস’ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের বীরত্বের ইতিহাস নেই: রিজভী ভারতের ‘র’ প্রধানের ঢাকা সফর নিয়ে জল্পনার কিছু নেই: ডা. জাহেদ সাকিব এখন নষ্ট পচে যাওয়া মানুষ: ডা. জাহেদ আন্দোলনকারীদের ওপর ভর করে জামায়াত-বিএনপি খুন করছে: শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ওপর ভর করে জামায়াত-বিএনপি খুন করছে: শেখ হাসিনা কিউবার পরিণতি ইরানের মতো হতে পারে— মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সতর্কবার্তা সড়ক দুর্ঘটনায় এ আর রহমানের ছেলে আমিন আহত, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে ভয়াবহ বর্ণনা দিলেন মেঘলা মুক্তা ভারতের ‘র’ প্রধানের ঢাকা সফর নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ, জল্পনার কিছু নেই: তথ্য উপদেষ্টা

কিউবার পরিণতি ইরানের মতো হতে পারে— মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সতর্কবার্তা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:০২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

কিউবার বর্তমান সরকার উৎখাত হলে দেশটিতে ভেনিজুয়েলার চেয়েও জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমনকি পরিস্থিতি ইরানের মতো কট্টরপন্থি নেতৃত্বের দিকে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে অবহিত কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কিউবার ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েও ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনিজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তারের পর যেভাবে দেলসি রদ্রিগেজ ক্ষমতা নেন, কিউবাতেও তেমন একজন নেতাকে দেখতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। তবে মার্কিন গোয়েন্দাদের মূল্যায়ন, কিউবার রাজনৈতিক কাঠামো ভেনিজুয়েলার চেয়ে ইরানের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কিউবা নিয়ে গোপনে একটি বিশেষ টাস্কফোর্সও গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। এতে কিউবার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য পদক্ষেপ আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোকে আটক করা হলেও তার জায়গায় যুক্তরাষ্ট্রপন্থি কোনো নেতা সহজে ক্ষমতা নিতে পারবেন না। বরং কিউবার দীর্ঘদিনের বিপ্লবী ও আদর্শিক শাসনব্যবস্থার কারণে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হলে কট্টরপন্থি একটি গোষ্ঠী নেতৃত্বে আসতে পারে।

এর আগে ইরানেও একই ধরনের পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তবে যুদ্ধ শুরুর পর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তা নিহত হওয়ায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, কিউবার ওপর মার্কিন অবরোধের কারণে দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্যসংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা আরও তীব্র হয়েছে। পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহও কমে গেছে।

কিউবার সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে কয়েকজনের নাম আলোচনায় থাকলেও তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রাউল কাস্ত্রোর নাতি রাউল জি রদ্রিগেজ কাস্ত্রো, যিনি ‘রাউলিতো’ নামে পরিচিত, তাদের একজন। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্টের দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও কখনো সরকারি বা নির্বাচিত কোনো পদে ছিলেন না।

চলতি বছরের শুরুতে সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ কিউবা সফর করে রদ্রিগেজ কাস্ত্রো এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লাজারো আলবার্তো আলভারেস কাসাসের সঙ্গে বৈঠক করেন। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে তাদের নামও আলোচনায় রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, কিউবার পরিস্থিতি ভেনিজুয়েলার মতো নয়। লন্ডনের চ্যাথাম হাউসের লাতিন আমেরিকা কর্মসূচির পরিচালক ক্রিস সাবাতিনির মতে, কিউবা ও ইরানের বিপ্লবী শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকায় তাদের নেতৃত্ব কাঠামো অনেক বেশি আদর্শিক ও অনমনীয়। ফলে হঠাৎ ক্ষমতার পরিবর্তন হলে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হতে পারে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করলে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কিউবা। দেশটির যুক্তরাজ্য রাষ্ট্রদূত ইসমারা মার্সেদেস ভার্গাস ওয়াল্টার বলেছেন, প্রয়োজনে কিউবার জনগণ নিজেদের রক্ষায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লড়াই করবে।

সব মিলিয়ে রাউল কাস্ত্রোকে সরিয়ে কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রপন্থি সরকার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা থাকলেও, সেই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে—তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মা-বাবা নেই, দুই ভাইয়ের শূন্য ঘরে ‘গোল্ডেন এ প্লাস’

কিউবার পরিণতি ইরানের মতো হতে পারে— মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সতর্কবার্তা

আপডেট সময় ০২:০২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

কিউবার বর্তমান সরকার উৎখাত হলে দেশটিতে ভেনিজুয়েলার চেয়েও জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমনকি পরিস্থিতি ইরানের মতো কট্টরপন্থি নেতৃত্বের দিকে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে অবহিত কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কিউবার ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েও ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনিজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তারের পর যেভাবে দেলসি রদ্রিগেজ ক্ষমতা নেন, কিউবাতেও তেমন একজন নেতাকে দেখতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন। তবে মার্কিন গোয়েন্দাদের মূল্যায়ন, কিউবার রাজনৈতিক কাঠামো ভেনিজুয়েলার চেয়ে ইরানের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কিউবা নিয়ে গোপনে একটি বিশেষ টাস্কফোর্সও গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। এতে কিউবার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য পদক্ষেপ আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোকে আটক করা হলেও তার জায়গায় যুক্তরাষ্ট্রপন্থি কোনো নেতা সহজে ক্ষমতা নিতে পারবেন না। বরং কিউবার দীর্ঘদিনের বিপ্লবী ও আদর্শিক শাসনব্যবস্থার কারণে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হলে কট্টরপন্থি একটি গোষ্ঠী নেতৃত্বে আসতে পারে।

এর আগে ইরানেও একই ধরনের পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। তবে যুদ্ধ শুরুর পর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তা নিহত হওয়ায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, কিউবার ওপর মার্কিন অবরোধের কারণে দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্যসংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা আরও তীব্র হয়েছে। পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহও কমে গেছে।

কিউবার সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে কয়েকজনের নাম আলোচনায় থাকলেও তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রাউল কাস্ত্রোর নাতি রাউল জি রদ্রিগেজ কাস্ত্রো, যিনি ‘রাউলিতো’ নামে পরিচিত, তাদের একজন। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্টের দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও কখনো সরকারি বা নির্বাচিত কোনো পদে ছিলেন না।

চলতি বছরের শুরুতে সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ কিউবা সফর করে রদ্রিগেজ কাস্ত্রো এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লাজারো আলবার্তো আলভারেস কাসাসের সঙ্গে বৈঠক করেন। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে তাদের নামও আলোচনায় রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, কিউবার পরিস্থিতি ভেনিজুয়েলার মতো নয়। লন্ডনের চ্যাথাম হাউসের লাতিন আমেরিকা কর্মসূচির পরিচালক ক্রিস সাবাতিনির মতে, কিউবা ও ইরানের বিপ্লবী শাসনব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকায় তাদের নেতৃত্ব কাঠামো অনেক বেশি আদর্শিক ও অনমনীয়। ফলে হঠাৎ ক্ষমতার পরিবর্তন হলে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হতে পারে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করলে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কিউবা। দেশটির যুক্তরাজ্য রাষ্ট্রদূত ইসমারা মার্সেদেস ভার্গাস ওয়াল্টার বলেছেন, প্রয়োজনে কিউবার জনগণ নিজেদের রক্ষায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লড়াই করবে।

সব মিলিয়ে রাউল কাস্ত্রোকে সরিয়ে কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রপন্থি সরকার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা থাকলেও, সেই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে—তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।