চীনে দীর্ঘদিনের লিঙ্গবৈষম্য ও জনসংখ্যাগত সংকটকে কাজে লাগিয়ে পাত্র খোঁজা নিঃসঙ্গ পুরুষদের টার্গেট করছে কিছু ঘটকালি সংস্থা। দ্রুত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতারণায় অনেকেই হারাচ্ছেন সর্বস্ব।
মঙ্গলবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।
বিশেষ করে দেশটির গুইঝৌ প্রদেশের গুইয়াং শহরে ‘ফ্ল্যাশ ম্যারেজ’ নামে পরিচিত এই প্রতারণা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, মাত্র তিন দিনের মধ্যে বিয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে পাত্রদের কাছ থেকে লাখ লাখ ইউয়ান আদায় করছে কিছু ঘটকালি এজেন্সি।
চীনে এক সন্তান নীতি এবং ছেলেসন্তানের প্রতি দীর্ঘদিনের সামাজিক পক্ষপাতের কারণে বর্তমানে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি বেশি। ফলে গ্রাম ও ছোট শহরের ৩০ বছরের বেশি বয়সী অনেক পুরুষের জন্য জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আর এই সংকটকেই কাজে লাগাচ্ছে প্রতারক চক্রগুলো।
ভুক্তভোগী ৩৭ বছর বয়সী ওয়াং ঝুয়াং জানান, পূর্ণাঙ্গ ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের আশ্বাসে একটি ঘটকালি সংস্থাকে তিনি চার থেকে পাঁচ লাখ ইউয়ান দেন। বিয়ের কয়েক মাস পর তিনি জানতে পারেন, তার স্ত্রী আগে একাধিকবার বিয়ে করেছেন, তিন সন্তানের মা, বড় অঙ্কের ঋণে জর্জরিত এবং যৌনরোগে আক্রান্ত। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সংস্থাটি কার্যালয় বন্ধ করে পালিয়ে যায়।
আরেক ভুক্তভোগী ৫৯ বছর বয়সী শু রুলিন। ছেলের বিয়ের জন্য প্রায় পাঁচ লাখ ইউয়ান খরচ করার পর মাত্র সাত দিনের মাথায় জানতে পারেন, নববধূ পালিয়ে গেছেন। পরে পুলিশ ওই নারী ও ঘটকালি সংস্থার মালিকদের গ্রেপ্তার করে।
চীনের সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ঘটকালিসংক্রান্ত অপরাধে ১ হাজার ৫৪৬ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পাঁচটি সরকারি সংস্থা যৌথভাবে দেশজুড়ে এ ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযানও শুরু করেছে।
আইনজীবী ফ্যান বিংহের মতে, বিয়ে-সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এবং প্রতারকদের কৌশলের কারণে ভুক্তভোগীদের অর্থ ফেরত পাওয়া কিংবা অপরাধ প্রমাণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
ফলে প্রতারণার শিকার বহু নিঃসঙ্গ পুরুষ এখন গুইয়াং শহরে ন্যায়বিচারের আশায় ঘুরছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অন্যদেরও সতর্ক করছেন তারা।
সূত্র: বিবিসি

ডেস্ক রিপোর্ট 






















