কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের স্কুলজীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। দীর্ঘ সরকারি চাকরিজীবন, প্রকৌশল খাতে অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত একটি পরিবারের সদস্য হিসেবে তার এই নিয়োগ কক্সবাজারজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে পেকুয়ার একসময়কার দুই সহপাঠীর একজন এখন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আর অন্যজন কক্সবাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান— এমন বাস্তবতা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের আদেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী তাকে চুক্তিভিত্তিকভাবে চেয়ারম্যান (গ্রেড-২) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যমান সব ধরনের কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে।
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর মেহেরনামা এলাকার বাসিন্দা প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন স্থানীয়ভাবে একজন পরিচিত মুখ। তিনি মাস্টার কামাল হোসেনের ছেলে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৪ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে কর্মজীবন শুরু করেন। প্রায় সাড়ে তিন দশকের কর্মজীবন শেষে ২০২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা চিকিৎসক। অন্যদিকে তার ছেলে বর্তমানে একটি মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, পেকুয়ার শিক্ষাজীবন থেকেই বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে জসিম উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাদের পারিবারিক যোগাযোগও বজায় রয়েছে।
কক্সবাজারের পরিকল্পিত নগরায়ণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও পর্যটনকেন্দ্রিক প্রকল্প বাস্তবায়নে কউকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে প্রকৌশলী জসিম উদ্দিনের দায়িত্ব গ্রহণের পর সংস্থাটির কার্যক্রমে কী ধরনের পরিবর্তন ও গতি আসে, সেদিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।

ডেস্ক রিপোর্ট 























