ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
২০২৭ সালের মধ্যে বসিলা ও রায়েরবাজারে হবে আলাদা থানা: ববি হাজ্জাজ অতিরিক্ত যাত্রী, বড় ঢেউ; জিম্বাবুয়েতে ফেরি দুর্ঘটনায় নিহত ৪৪ বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা নারী, যুবলীগ কর্মী গ্রেফতার বিএনপির পতন হলে আপনারা সরকার চালাতে পারবেন?-প্রশ্ন রাশেদ খানের বালুর ঘাটে ইজারাদারের কর্মীকে ইউএনওর মারধর তুরস্কে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত অন্যতম শীর্ষ অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্ট লিপুর বাগানবাড়িতে ডিবির অভিযান সরকারের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত দেশকে সংকটে ফেলেছে, ১৫ দফা প্রস্তাব নাহিদের সকল প্রশংসা আল্লাহর, মধ্যপ্রাচ্যের অত্যাচারী ইরান আর নেই: ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘ ১০ বছরের প্রেমের পর অবশেষে বিয়ের বন্ধনে রোনালদো-জর্জিনা

অতিরিক্ত যাত্রী, বড় ঢেউ; জিম্বাবুয়েতে ফেরি দুর্ঘটনায় নিহত ৪৪

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

জিম্বাবুয়ের লেক কারিবায় অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ফেরি উল্টে অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় ফেরিটি উল্টে যায়। বুধবারও (১২ আগস্ট) নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলছিল।

জিম্বাবুয়ের পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৪ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে কয়েক দফায় মৃতের সংখ্যা ১৫ ও পরে ৩৮ বলে জানানো হয়েছিল। পরে উদ্ধারকারীরা হ্রদ থেকে আরও মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪-এ দাঁড়ায়।

 

 

জিম্বাবুয়ের সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট (সিপিইউ) জানিয়েছে, ফেরিটির ধারণক্ষমতা ছিল ৯০ জন। কিন্তু টিকিট বিক্রির তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু ছিলেন। এ ছাড়া কতজন শিশু ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

তবে জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসিকে এক ক্রু সদস্য জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ফেরিতে মোট ১৫৩ জন ছিলেন। মঙ্গলবার লেকের বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় ফেরিটি উল্টে যায়। এক যাত্রী জানান, কারিবা শহরের তীর থেকে যাত্রা শুরুর প্রায় ৩০ মিনিট পরই ফেরিটিতে পানি উঠতে শুরু করে। ফেরিটি হ্রদের বিভিন্ন দ্বীপ ও মাছ ধরার ক্যাম্পের দিকে যাচ্ছিল।

 

 

দুর্ঘটনার পর বুধবার বিশেষ প্রশিক্ষিত একটি পানির নিচে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জেডবিসির প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উল্টে যাওয়া ফেরিটির ওপর কয়েকজন মানুষ অবস্থান করছেন। এ সময় অন্তত চারটি স্পিডবোট তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে এবং একটি হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলের ওপর চক্কর দিচ্ছিল।

 

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ম্যাক্সওয়েল কানহেমা পেজ ঘটনাস্থল থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি দুর্ঘটনার আগে লেকটির পানিকে ‘উত্তাল’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।

 

লেক কারিবা আয়তন নয়, পানির পরিমাণের হিসাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম হ্রদ। জিম্বাবুয়ের উত্তর সীমান্ত বরাবর জাম্বিয়ার সঙ্গে প্রায় ১৫০ মাইলজুড়ে বিস্তৃত এই হ্রদটি ১৯৫০-এর দশকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে জাম্বেজি নদীতে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। এতে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

 

লেকটির কারিবা বাঁধ থেকে জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করা হয়।

 

লেক কারিবায় নৌযান দুর্ঘটনা নতুন নয়। ২০১৪ সালে হ্রদের জাম্বিয়া অংশে একটি নৌকা উল্টে ২৬ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ২৪ জনই ছিল শিশু। ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের অংশে আরেক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে নৌকা উল্টে তিনজনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছিল। এর আগের মাসেও একটি পুলিশ নৌকা উল্টে গেলেও সেবার কেউ মারা যাননি।

 

সূত্র: গার্ডিয়ান

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৭ সালের মধ্যে বসিলা ও রায়েরবাজারে হবে আলাদা থানা: ববি হাজ্জাজ

অতিরিক্ত যাত্রী, বড় ঢেউ; জিম্বাবুয়েতে ফেরি দুর্ঘটনায় নিহত ৪৪

আপডেট সময় ১১:৫৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

জিম্বাবুয়ের লেক কারিবায় অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ফেরি উল্টে অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় ফেরিটি উল্টে যায়। বুধবারও (১২ আগস্ট) নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলছিল।

জিম্বাবুয়ের পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৪ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে কয়েক দফায় মৃতের সংখ্যা ১৫ ও পরে ৩৮ বলে জানানো হয়েছিল। পরে উদ্ধারকারীরা হ্রদ থেকে আরও মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪-এ দাঁড়ায়।

 

 

জিম্বাবুয়ের সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট (সিপিইউ) জানিয়েছে, ফেরিটির ধারণক্ষমতা ছিল ৯০ জন। কিন্তু টিকিট বিক্রির তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু ছিলেন। এ ছাড়া কতজন শিশু ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

তবে জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসিকে এক ক্রু সদস্য জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ফেরিতে মোট ১৫৩ জন ছিলেন। মঙ্গলবার লেকের বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় ফেরিটি উল্টে যায়। এক যাত্রী জানান, কারিবা শহরের তীর থেকে যাত্রা শুরুর প্রায় ৩০ মিনিট পরই ফেরিটিতে পানি উঠতে শুরু করে। ফেরিটি হ্রদের বিভিন্ন দ্বীপ ও মাছ ধরার ক্যাম্পের দিকে যাচ্ছিল।

 

 

দুর্ঘটনার পর বুধবার বিশেষ প্রশিক্ষিত একটি পানির নিচে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জেডবিসির প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উল্টে যাওয়া ফেরিটির ওপর কয়েকজন মানুষ অবস্থান করছেন। এ সময় অন্তত চারটি স্পিডবোট তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে এবং একটি হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলের ওপর চক্কর দিচ্ছিল।

 

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ম্যাক্সওয়েল কানহেমা পেজ ঘটনাস্থল থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি দুর্ঘটনার আগে লেকটির পানিকে ‘উত্তাল’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।

 

লেক কারিবা আয়তন নয়, পানির পরিমাণের হিসাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম হ্রদ। জিম্বাবুয়ের উত্তর সীমান্ত বরাবর জাম্বিয়ার সঙ্গে প্রায় ১৫০ মাইলজুড়ে বিস্তৃত এই হ্রদটি ১৯৫০-এর দশকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে জাম্বেজি নদীতে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। এতে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

 

লেকটির কারিবা বাঁধ থেকে জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করা হয়।

 

লেক কারিবায় নৌযান দুর্ঘটনা নতুন নয়। ২০১৪ সালে হ্রদের জাম্বিয়া অংশে একটি নৌকা উল্টে ২৬ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ২৪ জনই ছিল শিশু। ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের অংশে আরেক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে নৌকা উল্টে তিনজনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছিল। এর আগের মাসেও একটি পুলিশ নৌকা উল্টে গেলেও সেবার কেউ মারা যাননি।

 

সূত্র: গার্ডিয়ান