ঢাকা , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির প্রস্তুতি সম্পন্ন মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল লেবানন মির্জা ফখরুলকে বক্তব্য প্রত্যাহার করতে বললেন জামায়াতের ১১ এমপি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে ভারতের স্পষ্ট অবস্থান চান বিশ্লেষকেরা মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড আইনি বাতিল করল লেবানন দেশে অনেক বড় আকারে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে: অর্থমন্ত্রী সারাদেশ ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঝাঁকুনি, পরে জানা গেল- গাঁজা খেয়ে বিমান চালাচ্ছিলেন পাইলট! তারা যা বলে আমি তাই করি: ট্রাম্প সিন্ডিকেটের কবজায় সারের বাজার, বিপাকে লাখো কৃষক

কিছুক্ষণ পর পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দিনেই নামবে রাতের অন্ধকার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

মহাজাগতিক বিরল এক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে পৃথিবী। আজ বুধবার, ১২ আগস্ট দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। প্রায় দুই বছর পর আবারও সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করায় চাঁদের ছায়ায় ঢেকে যাবে সূর্যের পুরো ডিস্ক। ফলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় দিনের আলো কিছু সময়ের জন্য বদলে যাবে অন্ধকারে।

এবারের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের ছায়াপথ প্রায় ৮ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। আর্কটিক অঞ্চলের উপকূল থেকে শুরু হয়ে ছায়াপথটি উত্তর মেরুর কাছ দিয়ে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, পর্তুগাল ও স্পেনের উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে।

অবস্থানভেদে ২০ সেকেন্ড থেকে দুই মিনিটেরও বেশি সময় সূর্য পুরোপুরি আড়াল হয়ে থাকতে পারে। পূর্ণগ্রাসের মূল পথের বাইরে ইউরোপ, আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকেও আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।

গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, স্পেন ও পর্তুগালের কিছু অংশে পূর্ণগ্রাস সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে। বিশেষ করে স্পেনের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিম পর্তুগালের কিছু এলাকায় সূর্যাস্তের ঠিক আগমুহূর্তে পূর্ণগ্রাস দেখা যেতে পারে। ফলে একই সঙ্গে সূর্যগ্রহণ ও সূর্যাস্তের বিরল দৃশ্য উপভোগের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে বাংলাদেশ থেকে এবারের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। গ্রহণের মূল পথ উত্তর আটলান্টিক ও ইউরোপকেন্দ্রিক হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলে এর কোনো দৃশ্যমানতা থাকবে না। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তখন বাংলাদেশে রাত থাকায় এটি দেখা সম্ভব হবে না।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, স্থানভেদে পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব ভিন্ন হবে। কেন্দ্রীয় পথের কাছাকাছি এলাকায় এটি দুই মিনিটের কিছু বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। আবার কোনো কোনো স্থানে স্থায়িত্ব নেমে আসতে পারে মাত্র ২০ সেকেন্ডে।

সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো আংশিক বা পুরোপুরি আড়াল করে। চাঁদের ছায়ার যে অংশে সূর্যের পুরো ডিস্ক ঢাকা পড়ে, সেখান থেকেই পূর্ণগ্রাস দেখা যায়। আর এর বাইরের অঞ্চল থেকে দেখা যায় আংশিক সূর্যগ্রহণ।

এর আগে সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে সেই গ্রহণ দেখা গিয়েছিল।

তবে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে এমন দৃশ্যের জন্য অপেক্ষাটা ছিল আরও দীর্ঘ। সর্বশেষ ২০০৬ সালে ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে পূর্ণগ্রাস দেখা গিয়েছিল। আর স্পেনের মূল ভূখণ্ডে সর্বশেষ এমন দৃশ্য দেখা যায় ১৯০৫ সালে। ফলে এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর স্পেনের বাসিন্দারা আবারও পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের পথ খুবই সরু হওয়ায় পৃথিবীর সব অঞ্চল থেকে এ দৃশ্য দেখা যায় না। গ্রহণের সময় নির্দিষ্ট এলাকায় দিনের আলো হঠাৎ কমে গিয়ে অস্বাভাবিক অন্ধকার নেমে আসতে পারে। সাময়িকভাবে তাপমাত্রারও পরিবর্তন অনুভূত হতে পারে।

তবে সূর্যগ্রহণ দেখার সময় নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খালি চোখে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো চোখের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। তাই গ্রহণের আংশিক পর্যায়ে অবশ্যই অনুমোদিত সৌরদর্শন চশমা বা নিরাপদ সৌর পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে।

বাংলাদেশের আকাশে দেখা না গেলেও ইউরোপ ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের জন্য এবারের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হতে যাচ্ছে বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনা। বিশেষ করে সূর্যাস্তের ঠিক আগে স্পেন ও পর্তুগালের কিছু এলাকায় পূর্ণগ্রাস দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ঘটনাটিকে করে তুলেছে আরও ব্যতিক্রমী।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির প্রস্তুতি সম্পন্ন

কিছুক্ষণ পর পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দিনেই নামবে রাতের অন্ধকার

আপডেট সময় ১০:২৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

মহাজাগতিক বিরল এক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে পৃথিবী। আজ বুধবার, ১২ আগস্ট দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। প্রায় দুই বছর পর আবারও সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করায় চাঁদের ছায়ায় ঢেকে যাবে সূর্যের পুরো ডিস্ক। ফলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় দিনের আলো কিছু সময়ের জন্য বদলে যাবে অন্ধকারে।

এবারের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের ছায়াপথ প্রায় ৮ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। আর্কটিক অঞ্চলের উপকূল থেকে শুরু হয়ে ছায়াপথটি উত্তর মেরুর কাছ দিয়ে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, পর্তুগাল ও স্পেনের উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে।

অবস্থানভেদে ২০ সেকেন্ড থেকে দুই মিনিটেরও বেশি সময় সূর্য পুরোপুরি আড়াল হয়ে থাকতে পারে। পূর্ণগ্রাসের মূল পথের বাইরে ইউরোপ, আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকেও আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।

গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, স্পেন ও পর্তুগালের কিছু অংশে পূর্ণগ্রাস সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে। বিশেষ করে স্পেনের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিম পর্তুগালের কিছু এলাকায় সূর্যাস্তের ঠিক আগমুহূর্তে পূর্ণগ্রাস দেখা যেতে পারে। ফলে একই সঙ্গে সূর্যগ্রহণ ও সূর্যাস্তের বিরল দৃশ্য উপভোগের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে বাংলাদেশ থেকে এবারের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। গ্রহণের মূল পথ উত্তর আটলান্টিক ও ইউরোপকেন্দ্রিক হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলে এর কোনো দৃশ্যমানতা থাকবে না। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তখন বাংলাদেশে রাত থাকায় এটি দেখা সম্ভব হবে না।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, স্থানভেদে পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব ভিন্ন হবে। কেন্দ্রীয় পথের কাছাকাছি এলাকায় এটি দুই মিনিটের কিছু বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। আবার কোনো কোনো স্থানে স্থায়িত্ব নেমে আসতে পারে মাত্র ২০ সেকেন্ডে।

সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো আংশিক বা পুরোপুরি আড়াল করে। চাঁদের ছায়ার যে অংশে সূর্যের পুরো ডিস্ক ঢাকা পড়ে, সেখান থেকেই পূর্ণগ্রাস দেখা যায়। আর এর বাইরের অঞ্চল থেকে দেখা যায় আংশিক সূর্যগ্রহণ।

এর আগে সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে সেই গ্রহণ দেখা গিয়েছিল।

তবে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে এমন দৃশ্যের জন্য অপেক্ষাটা ছিল আরও দীর্ঘ। সর্বশেষ ২০০৬ সালে ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে পূর্ণগ্রাস দেখা গিয়েছিল। আর স্পেনের মূল ভূখণ্ডে সর্বশেষ এমন দৃশ্য দেখা যায় ১৯০৫ সালে। ফলে এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর স্পেনের বাসিন্দারা আবারও পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের পথ খুবই সরু হওয়ায় পৃথিবীর সব অঞ্চল থেকে এ দৃশ্য দেখা যায় না। গ্রহণের সময় নির্দিষ্ট এলাকায় দিনের আলো হঠাৎ কমে গিয়ে অস্বাভাবিক অন্ধকার নেমে আসতে পারে। সাময়িকভাবে তাপমাত্রারও পরিবর্তন অনুভূত হতে পারে।

তবে সূর্যগ্রহণ দেখার সময় নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খালি চোখে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো চোখের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। তাই গ্রহণের আংশিক পর্যায়ে অবশ্যই অনুমোদিত সৌরদর্শন চশমা বা নিরাপদ সৌর পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে।

বাংলাদেশের আকাশে দেখা না গেলেও ইউরোপ ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের জন্য এবারের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হতে যাচ্ছে বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনা। বিশেষ করে সূর্যাস্তের ঠিক আগে স্পেন ও পর্তুগালের কিছু এলাকায় পূর্ণগ্রাস দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা ঘটনাটিকে করে তুলেছে আরও ব্যতিক্রমী।