ঢাকা , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

ধর্মান্তর ঠেকাতে কঠোর আইন করছে পশ্চিমবঙ্গ, জমি কেনাবেচাতেও বিধিনিষেধ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৩৩:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসির পর এবার জোরপূর্বক ধর্মান্তর ঠেকানো এবং জমি কেনাবেচায় নতুন বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাঁকুড়ায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের এক পর্যালোচনা সভায় এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই জোরপূর্বক ধর্মান্তর বন্ধে কঠোর আইন করা হবে। পাশাপাশি জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও নতুন আইনি বিধিনিষেধ আনা হবে।

তবে প্রস্তাবিত আইনে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে জমি বা সম্পত্তি কেনাবেচায় সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে কি না, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

শুভেন্দু অধিকারীর ভাষ্য, প্রথমে ইউসিসি বাস্তবায়ন করা হবে। এরপর ধর্মান্তর ও জমি কেনাবেচা নিয়ে পৃথক দুটি আইন করা হবে।

বিজেপির রাজনৈতিক বক্তব্যে ধর্মান্তর এবং ‘ল্যান্ড জিহাদ’ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত বিষয়। এবার এই দুই ইস্যুতে আইনি উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যের ভূমি আইন ও জমি কেনাবেচায় বিদ্যমান বিধিনিষেধের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাব্য আইনের তুলনা করছেন বিশ্লেষকেরা।

বিজেপির দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অভিবাসনের কারণে জনসংখ্যার চিত্র বদলে যাচ্ছে এবং স্থানীয় মানুষ জমি হারাচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাবিত ভূমি আইনের উদ্যোগের সঙ্গে এই রাজনৈতিক বক্তব্যেরও যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সভায় শুভেন্দু অধিকারী বাঁকুড়া ও জঙ্গলমহল অঞ্চলে বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত কয়েকটি সংগঠনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, এসব সংগঠন দরিদ্র মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করছে এবং অবৈধ ধর্মান্তর ও ‘মৌলবাদী’ কর্মকাণ্ডে জড়িত।

এ সময় সীমান্তবর্তী জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া, ‘অবৈধ’ ওবিসি তালিকা বাতিল, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা বন্ধসহ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি বাস্তবায়নের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত চার সদস্যের কমিটি প্রস্তাবিত ইউসিসি বিল পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেবে। এরপর বিলটি বিধানসভায় উত্থাপনের কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত ইউসিসির আওতায় বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও দত্তক গ্রহণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিন্ন দেওয়ানি কাঠামো চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিধানসভার চলমান বাজেট অধিবেশনে বিলটি পাস হলে ইউসিসি বাস্তবায়নকারী ভারতের চতুর্থ রাজ্য হবে পশ্চিমবঙ্গ। আর বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে ইউসিসি কার্যকরের লক্ষ্যও রয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গভীর রাতে পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নারীসহ আটক

ধর্মান্তর ঠেকাতে কঠোর আইন করছে পশ্চিমবঙ্গ, জমি কেনাবেচাতেও বিধিনিষেধ

আপডেট সময় ১১:৩৩:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসির পর এবার জোরপূর্বক ধর্মান্তর ঠেকানো এবং জমি কেনাবেচায় নতুন বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাঁকুড়ায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের এক পর্যালোচনা সভায় এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই জোরপূর্বক ধর্মান্তর বন্ধে কঠোর আইন করা হবে। পাশাপাশি জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও নতুন আইনি বিধিনিষেধ আনা হবে।

তবে প্রস্তাবিত আইনে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে জমি বা সম্পত্তি কেনাবেচায় সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে কি না, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

শুভেন্দু অধিকারীর ভাষ্য, প্রথমে ইউসিসি বাস্তবায়ন করা হবে। এরপর ধর্মান্তর ও জমি কেনাবেচা নিয়ে পৃথক দুটি আইন করা হবে।

বিজেপির রাজনৈতিক বক্তব্যে ধর্মান্তর এবং ‘ল্যান্ড জিহাদ’ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত বিষয়। এবার এই দুই ইস্যুতে আইনি উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যের ভূমি আইন ও জমি কেনাবেচায় বিদ্যমান বিধিনিষেধের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাব্য আইনের তুলনা করছেন বিশ্লেষকেরা।

বিজেপির দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অভিবাসনের কারণে জনসংখ্যার চিত্র বদলে যাচ্ছে এবং স্থানীয় মানুষ জমি হারাচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাবিত ভূমি আইনের উদ্যোগের সঙ্গে এই রাজনৈতিক বক্তব্যেরও যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সভায় শুভেন্দু অধিকারী বাঁকুড়া ও জঙ্গলমহল অঞ্চলে বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত কয়েকটি সংগঠনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, এসব সংগঠন দরিদ্র মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করছে এবং অবৈধ ধর্মান্তর ও ‘মৌলবাদী’ কর্মকাণ্ডে জড়িত।

এ সময় সীমান্তবর্তী জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া, ‘অবৈধ’ ওবিসি তালিকা বাতিল, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা বন্ধসহ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি বাস্তবায়নের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত চার সদস্যের কমিটি প্রস্তাবিত ইউসিসি বিল পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেবে। এরপর বিলটি বিধানসভায় উত্থাপনের কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত ইউসিসির আওতায় বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও দত্তক গ্রহণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিন্ন দেওয়ানি কাঠামো চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিধানসভার চলমান বাজেট অধিবেশনে বিলটি পাস হলে ইউসিসি বাস্তবায়নকারী ভারতের চতুর্থ রাজ্য হবে পশ্চিমবঙ্গ। আর বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে ইউসিসি কার্যকরের লক্ষ্যও রয়েছে।