ঢাকা , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জমকালো গালায় ‘ফেস অব টুমোরো ২০২৬’-এর চ্যাম্পিয়ন রাইসা-লাবন বিএনপি জনগণের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে: পাটওয়ারী শাবনূর সালমানকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাচ্ছিল, আমি দেখে ফেলেছিলাম : সামিরা হক অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে কাল, ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ভারতে বাজার করতে বেরিয়েছিলেন মুসলিম নারী, তুলে নিয়ে বাংলাদেশে পুশ ইন চাকরি হারালেন রাব্বানীর ভাই ও বিপ্লব কুমারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে ছাত্রদল-যুবদল সংঘর্ষ, ঢাকা কলেজের ৫ নেতা বহিষ্কার ‘জাতি’ দিয়ে দুই মাসের শিশুকে গলা কেটে হত্যা করলেন মা একজন ভালো অভিনেতা হতে চাই: এমএইচএস লাবন

ভারতে বাজার করতে বেরিয়েছিলেন মুসলিম নারী, তুলে নিয়ে বাংলাদেশে পুশ ইন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:১১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ভারতের মুম্বাইয়ে বাজারে যাওয়ার পথে এক মুসলিম গৃহবধূকে আটক করে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, ওই নারী ও তার স্বামী জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক এবং তাদের কাছে নাগরিকত্বের পক্ষে একাধিক নথিপত্র রয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী সাইদা ফকির ও তার স্বামী জুম্মান ফকিরের পৈতৃক বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে। প্রায় ২০ বছর ধরে তারা নভি মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন। জুম্মান একটি হাউজিং সোসাইটিতে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করেন। তাদের ১২ বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৮ জুলাই সকালে বাজারে যাওয়ার সময় সাইদাকে মুম্বাই পুলিশ আটক করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়।

খবর পেয়ে সাইদার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা চেম্বুর থানায় গিয়ে তার জন্মসনদ, স্কুলের সনদ, বাবা-মায়ের পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন নথি পুলিশের কাছে জমা দেন। এসব নথি যাচাইয়ের আশ্বাস দেওয়া হলেও তিনদিন পর পরিবারকে জানানো হয়, সাইদাকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর স্বামীকে ফোন করেন সাইদা। তিনি জানান, সাতক্ষীরায় পৌঁছে চাষের জমি ও কাদার মধ্য দিয়ে কয়েক কিলোমিটার হাঁটার পর একটি সড়কে ওঠেন। পরে স্থানীয় একটি পরিবার তাকে আশ্রয় দিয়ে খাবার ও পোশাক দেয়।

জুম্মানের দাবি, তার স্ত্রী কোনোভাবেই বাংলাদেশি নন। ভারতীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও তাকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে পুশ-ইন করা হয়েছে। বর্তমানে সাইদা বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং ১২ বছরের ছেলের কাছে দ্রুত ফিরতে চান।

সাইদাকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তার পরিবার। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ—মাসুমও এ ঘটনায় আদালতে অভিযোগ করেছে।

সংগঠনটির দাবি, ভারতীয় নাগরিকত্বের নথি থাকা সত্ত্বেও সাইদাকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জমকালো গালায় ‘ফেস অব টুমোরো ২০২৬’-এর চ্যাম্পিয়ন রাইসা-লাবন

ভারতে বাজার করতে বেরিয়েছিলেন মুসলিম নারী, তুলে নিয়ে বাংলাদেশে পুশ ইন

আপডেট সময় ০৬:১১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের মুম্বাইয়ে বাজারে যাওয়ার পথে এক মুসলিম গৃহবধূকে আটক করে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, ওই নারী ও তার স্বামী জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক এবং তাদের কাছে নাগরিকত্বের পক্ষে একাধিক নথিপত্র রয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী সাইদা ফকির ও তার স্বামী জুম্মান ফকিরের পৈতৃক বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে। প্রায় ২০ বছর ধরে তারা নভি মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন। জুম্মান একটি হাউজিং সোসাইটিতে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করেন। তাদের ১২ বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৮ জুলাই সকালে বাজারে যাওয়ার সময় সাইদাকে মুম্বাই পুলিশ আটক করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়।

খবর পেয়ে সাইদার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা চেম্বুর থানায় গিয়ে তার জন্মসনদ, স্কুলের সনদ, বাবা-মায়ের পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন নথি পুলিশের কাছে জমা দেন। এসব নথি যাচাইয়ের আশ্বাস দেওয়া হলেও তিনদিন পর পরিবারকে জানানো হয়, সাইদাকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর স্বামীকে ফোন করেন সাইদা। তিনি জানান, সাতক্ষীরায় পৌঁছে চাষের জমি ও কাদার মধ্য দিয়ে কয়েক কিলোমিটার হাঁটার পর একটি সড়কে ওঠেন। পরে স্থানীয় একটি পরিবার তাকে আশ্রয় দিয়ে খাবার ও পোশাক দেয়।

জুম্মানের দাবি, তার স্ত্রী কোনোভাবেই বাংলাদেশি নন। ভারতীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও তাকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে পুশ-ইন করা হয়েছে। বর্তমানে সাইদা বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং ১২ বছরের ছেলের কাছে দ্রুত ফিরতে চান।

সাইদাকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তার পরিবার। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ—মাসুমও এ ঘটনায় আদালতে অভিযোগ করেছে।

সংগঠনটির দাবি, ভারতীয় নাগরিকত্বের নথি থাকা সত্ত্বেও সাইদাকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।