ঢাকা , শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য, সব ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী: স্পিকার মেজর হাফিজ ‘যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই’ হুথিদের বিরুদ্ধে বড় আগ্রাসনের প্রস্তুতি সৌদি আরবের কারাগারে সাবেক এমপির মোবাইলে মিললো কয়েক ডজন পর্ন ভিডিও ইরানি মিত্রগোষ্ঠীর অবস্থানে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর বিমান হামলা, বহু হতাহত ভাইভায় বিশেষ নম্বর দিয়ে কাউকে পাস করানোর পরিকল্পনা নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী জামায়াতের কারণেই আওয়ামী লীগ মিছিল করার সাহস পাচ্ছে: রাশেদ খাঁন ‘মুসলিমদের চেয়ে হিন্দুরাই বেশি গরুর মাংস খায়’ দেশে সারের কোনো সংকট নেই, মজুতের চেষ্টা করলেই ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী লাড্ডুতে পোকা দেখিয়ে দোকানির কাছে আইফোন দাবির অভিযোগ কনটেন্ট ক্রিয়েটর দম্পতির বিরুদ্ধে

ঢাকার দুই সিটিতে এনসিপিকে ছাড় দেবে না জামায়াত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

এবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ছাড় দেওয়ার আগ্রহ নেই জামায়াতে ইসলামীর। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একসঙ্গে লড়লেও এবার দুই দলই আলাদা মেয়র প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ১১দলীয় ঐক্যের অন্য শরিকেরাও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রার্থী দেবে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রেখে একসঙ্গে কর্মসূচি পালনের কথা বলছেন দলগুলোর নেতারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শুধু ঢাকার দুই সিটি নয়, স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচনে আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১দলীয় ঐক্য। দলীয় প্রতীকে ভোট না হওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কোনো এলাকায় শরিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে একক প্রার্থী দিলে কেন্দ্র থেকে বাধা দেওয়া হবে না।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১১দলীয় ঐক্য গঠিত হয়েছিল। ঐক্যভুক্ত দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকার দুই সিটিতে এনসিপি প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্য শরিকদেরও যাদের সামর্থ্য আছে, তারা প্রার্থী দিতে পারে। স্থানীয় নির্বাচনে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রেখে একসঙ্গে কর্মসূচি পালনের কথা বলছেন দলগুলোর নেতারা। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শুধু ঢাকার দুই সিটি নয়, সারা দেশের সব সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ক্ষেত্রেই এ সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য। যেহেতু নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না, তাই জোটগতভাবে ভোট ভাগাভাগির বিষয়ও নেই। ভোটাররা যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।

জামায়াতের নেতারা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে দলের জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীল নেতারা প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করছেন। তাঁদের হিসাবে, এরই মধ্যে ৭০৭৫ শতাংশ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হয়নি। সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের সব স্তরের প্রার্থীর নাম একসঙ্গে কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হবে বলে জানান তাঁরা। জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের ঢাকা মহানগর আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) মেয়র পদে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। সেলিম উদ্দিন ইতিমধ্যে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। সাদিক কায়েমও যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।

জামায়াতের নেতারা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে দলের জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীল নেতারা প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করছেন। তাঁদের হিসাবে, এরই মধ্যে ৭০৭৫ শতাংশ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হয়নি। সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের সব স্তরের প্রার্থীর নাম একসঙ্গে কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হবে বলে জানান তাঁরা। অন্যদিকে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ঢাকা উত্তর সিটিতে এবং দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে প্রার্থী হবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এনসিপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের নাম ঘোষণা করেনি। স্থানীয় সরকারের অন্য স্তরের নির্বাচনেও এনসিপি এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

১১দলীয় ঐক্যের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক মাওলানা হাসান জুনাইদ বলেন, ঢাকার দুই সিটিতে তাঁদের চারজন সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। যাচাইবাছাই করে দুজনকে চূড়ান্ত করা হবে। তবে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ১১দলীয় ঐক্যের আরেক শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী বলেন, সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্যরা আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। ঢাকার দুই সিটিসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশনেও এবি পার্টির প্রার্থী থাকবে বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, যাঁরা প্রার্থী হতে চান, তাঁদের দল থেকে সমর্থন দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকারের অন্য স্তরগুলোতেও সক্ষমতা অনুযায়ী প্রার্থী দেওয়া হবে।

তবে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ১১দলীয় ঐক্যের আরেক শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী বলেন, সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্যরা আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। জামায়াত ও এনসিপির সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা প্রার্থী দিলেও রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রাখতে চায় দলগুলো। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসংকটসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে তারা একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করবে। কেন্দ্রীয়ভাবে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও স্থানীয় পর্যায়ে শরিকদের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ থাকছে। ১১দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো সমঝোতা হবে না। দলগুলো নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নেবে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করলে কেন্দ্র থেকে বাধা থাকবে না।

হামিদুর রহমান আযাদ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানান। এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এনসিপি এককভাবে নির্বাচন করবে। দলীয় প্রতীক না থাকায় দলের চেয়ে ব্যক্তি বেশি প্রাধান্য পাবেন। তাঁর মতে, এতে স্থানীয় পর্যায়ে জোটের ভোটে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।তবে জামায়াতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার মতে, স্থানীয় পর্যায়ে শরিকদের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ কম। তাঁদের দাবি, যোগ্যতা ও পরিচিতি বিবেচনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে জামায়াতের প্রার্থীই এগিয়ে থাকবেন।  এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, এনসিপি এককভাবে নির্বাচন করবে। দলীয় প্রতীক না থাকায় দলের চেয়ে ব্যক্তি বেশি প্রাধান্য পাবেন। তাঁর মতে, এতে স্থানীয় পর্যায়ে জোটের ভোটে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।

জামায়াত ও এনসিপির সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা প্রার্থী দিলেও রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রাখতে চায় দলগুলো। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসংকটসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে তারা একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করবে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগত সমঝোতা না হলেও রাজনৈতিক সমঝোতা অটুট থাকবে। ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠের কর্মসূচি পালন করা হবে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল প্রভাব বিস্তার করতে চাইলে ১১দলীয় ঐক্য একসঙ্গে তার প্রতিবাদ করবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য, সব ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা

ঢাকার দুই সিটিতে এনসিপিকে ছাড় দেবে না জামায়াত

আপডেট সময় ১০:০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ছাড় দেওয়ার আগ্রহ নেই জামায়াতে ইসলামীর। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একসঙ্গে লড়লেও এবার দুই দলই আলাদা মেয়র প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ১১দলীয় ঐক্যের অন্য শরিকেরাও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রার্থী দেবে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রেখে একসঙ্গে কর্মসূচি পালনের কথা বলছেন দলগুলোর নেতারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শুধু ঢাকার দুই সিটি নয়, স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচনে আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১দলীয় ঐক্য। দলীয় প্রতীকে ভোট না হওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কোনো এলাকায় শরিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে একক প্রার্থী দিলে কেন্দ্র থেকে বাধা দেওয়া হবে না।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১১দলীয় ঐক্য গঠিত হয়েছিল। ঐক্যভুক্ত দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকার দুই সিটিতে এনসিপি প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্য শরিকদেরও যাদের সামর্থ্য আছে, তারা প্রার্থী দিতে পারে। স্থানীয় নির্বাচনে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রেখে একসঙ্গে কর্মসূচি পালনের কথা বলছেন দলগুলোর নেতারা। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শুধু ঢাকার দুই সিটি নয়, সারা দেশের সব সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ক্ষেত্রেই এ সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য। যেহেতু নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না, তাই জোটগতভাবে ভোট ভাগাভাগির বিষয়ও নেই। ভোটাররা যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।

জামায়াতের নেতারা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে দলের জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীল নেতারা প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করছেন। তাঁদের হিসাবে, এরই মধ্যে ৭০৭৫ শতাংশ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হয়নি। সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের সব স্তরের প্রার্থীর নাম একসঙ্গে কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হবে বলে জানান তাঁরা। জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের ঢাকা মহানগর আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) মেয়র পদে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। সেলিম উদ্দিন ইতিমধ্যে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। সাদিক কায়েমও যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।

জামায়াতের নেতারা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে দলের জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীল নেতারা প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করছেন। তাঁদের হিসাবে, এরই মধ্যে ৭০৭৫ শতাংশ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হয়নি। সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের সব স্তরের প্রার্থীর নাম একসঙ্গে কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হবে বলে জানান তাঁরা। অন্যদিকে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ঢাকা উত্তর সিটিতে এবং দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে প্রার্থী হবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এনসিপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের নাম ঘোষণা করেনি। স্থানীয় সরকারের অন্য স্তরের নির্বাচনেও এনসিপি এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

১১দলীয় ঐক্যের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক মাওলানা হাসান জুনাইদ বলেন, ঢাকার দুই সিটিতে তাঁদের চারজন সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। যাচাইবাছাই করে দুজনকে চূড়ান্ত করা হবে। তবে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ১১দলীয় ঐক্যের আরেক শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী বলেন, সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্যরা আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। ঢাকার দুই সিটিসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশনেও এবি পার্টির প্রার্থী থাকবে বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, যাঁরা প্রার্থী হতে চান, তাঁদের দল থেকে সমর্থন দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকারের অন্য স্তরগুলোতেও সক্ষমতা অনুযায়ী প্রার্থী দেওয়া হবে।

তবে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ১১দলীয় ঐক্যের আরেক শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী বলেন, সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্যরা আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। জামায়াত ও এনসিপির সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা প্রার্থী দিলেও রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রাখতে চায় দলগুলো। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসংকটসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে তারা একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করবে। কেন্দ্রীয়ভাবে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও স্থানীয় পর্যায়ে শরিকদের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ থাকছে। ১১দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো সমঝোতা হবে না। দলগুলো নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নেবে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করলে কেন্দ্র থেকে বাধা থাকবে না।

হামিদুর রহমান আযাদ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানান। এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এনসিপি এককভাবে নির্বাচন করবে। দলীয় প্রতীক না থাকায় দলের চেয়ে ব্যক্তি বেশি প্রাধান্য পাবেন। তাঁর মতে, এতে স্থানীয় পর্যায়ে জোটের ভোটে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।তবে জামায়াতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার মতে, স্থানীয় পর্যায়ে শরিকদের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ কম। তাঁদের দাবি, যোগ্যতা ও পরিচিতি বিবেচনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে জামায়াতের প্রার্থীই এগিয়ে থাকবেন।  এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, এনসিপি এককভাবে নির্বাচন করবে। দলীয় প্রতীক না থাকায় দলের চেয়ে ব্যক্তি বেশি প্রাধান্য পাবেন। তাঁর মতে, এতে স্থানীয় পর্যায়ে জোটের ভোটে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।

জামায়াত ও এনসিপির সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা প্রার্থী দিলেও রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রাখতে চায় দলগুলো। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসংকটসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে তারা একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করবে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগত সমঝোতা না হলেও রাজনৈতিক সমঝোতা অটুট থাকবে। ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠের কর্মসূচি পালন করা হবে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল প্রভাব বিস্তার করতে চাইলে ১১দলীয় ঐক্য একসঙ্গে তার প্রতিবাদ করবে।