ঢাকা , রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গঙ্গা চুক্তির ত্রুটি ও শেখ হাসিনার রহস্যময় নিরবতা ৬০ লাখ ডলারের অনলাইন প্রেমের প্রতারণা, ৬ নাইজেরীয়কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার: পরিকল্পনা উপদেষ্টা সর্বস্ব হারিয়ে দুধ দিয়ে গোসল করে ‘জুয়া’ ছাড়ার প্রতিজ্ঞা প্রশাসনকে ‘জি হুজুর’ বলার জন্য নয়, ডাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্লাটফর্ম: এজিএস ভুল অগ্রাধিকারের পথে হাঁটছে সরকার: নেজামে ইসলাম জাকির নায়েককে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে মোদি-আনোয়ারের আলোচনা কোরআনের আলোকে বাংলাদেশের পার্লামেন্ট পর্যন্ত পৌঁছে দেব: সেলিম উদ্দিন হেবা আইনে স্পর্শ করার ক্ষমতা ইহজাগতিক কারও নেই: আইনমন্ত্রী পরবর্তী ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজক চীন, জানালেন শি জিনপিং

২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার: পরিকল্পনা উপদেষ্টা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৪৬:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেছেন, ঋণনির্ভর ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থাননির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার। একই সঙ্গে স্বজনপ্রীতি, বৈষম্য ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সাভারের বিরুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে আজ শনিবার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত ‘কানেক্টিং নলেজ, পলিসি অ্যান্ড প্র্যাকটিস ফর বেটার গভর্ন্যান্স’ শীর্ষক জাতীয় গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

তিতুমীর বলেন, অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে উৎপাদন ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে হবে। বিদ্যুৎ খাতের সংকটের কারণে জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাসহ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

রাষ্ট্রব্যবস্থায় স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্য নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানি খাতসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্বজনপ্রীতি ও পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে একদিকে বেকারত্ব বেড়েছে, অন্যদিকে বৈষম্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাইয়ের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বৈষম্যবিরোধী মানুষের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।

তিনি বলেন, বৈষম্য কমানো, সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করা এবং সবার অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি।

তিতুমীর আরও বলেন, শাসকরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করেছে যে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে। শাসনব্যবস্থার সঙ্গে মূলত ক্ষমতা, নীতি নির্ধারণ ও নীতি বাস্তবায়নের বিষয়গুলো জড়িত। তবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দক্ষ ফলাফল অর্জন করলেই তা সামাজিকভাবে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে-এমন নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশের মতো দেশে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিষ্ঠান বলতে শুধু আইন, বিধি বা সাংগঠনিক কাঠামোকে বোঝায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সঙ্গে রীতি-রেওয়াজ ও মূল্যবোধও জড়িত। তাই আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক-দুই ধরনের প্রতিষ্ঠান নিয়েই গবেষণা প্রয়োজন।

অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের বৈশিষ্ট্য নিয়েও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা, সমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়নি। অর্থনীতির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও সবচেয়ে বড় শর্ত হচ্ছে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। তাই প্রতিষ্ঠানটি কার জন্য, কে আইন তৈরি করছে, আইনের ফলে কারা লাভবান হচ্ছে এবং পরিবর্তন করার ক্ষমতা কার হাতে-এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গঙ্গা চুক্তির ত্রুটি ও শেখ হাসিনার রহস্যময় নিরবতা

২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার: পরিকল্পনা উপদেষ্টা

আপডেট সময় ১১:৪৬:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেছেন, ঋণনির্ভর ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থাননির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার। একই সঙ্গে স্বজনপ্রীতি, বৈষম্য ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সাভারের বিরুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে আজ শনিবার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত ‘কানেক্টিং নলেজ, পলিসি অ্যান্ড প্র্যাকটিস ফর বেটার গভর্ন্যান্স’ শীর্ষক জাতীয় গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

তিতুমীর বলেন, অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে উৎপাদন ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে হবে। বিদ্যুৎ খাতের সংকটের কারণে জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাসহ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

রাষ্ট্রব্যবস্থায় স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্য নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানি খাতসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্বজনপ্রীতি ও পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে একদিকে বেকারত্ব বেড়েছে, অন্যদিকে বৈষম্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাইয়ের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বৈষম্যবিরোধী মানুষের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।

তিনি বলেন, বৈষম্য কমানো, সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করা এবং সবার অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি।

তিতুমীর আরও বলেন, শাসকরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করেছে যে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে। শাসনব্যবস্থার সঙ্গে মূলত ক্ষমতা, নীতি নির্ধারণ ও নীতি বাস্তবায়নের বিষয়গুলো জড়িত। তবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দক্ষ ফলাফল অর্জন করলেই তা সামাজিকভাবে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে-এমন নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশের মতো দেশে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিষ্ঠান বলতে শুধু আইন, বিধি বা সাংগঠনিক কাঠামোকে বোঝায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সঙ্গে রীতি-রেওয়াজ ও মূল্যবোধও জড়িত। তাই আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক-দুই ধরনের প্রতিষ্ঠান নিয়েই গবেষণা প্রয়োজন।

অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের বৈশিষ্ট্য নিয়েও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা, সমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়নি। অর্থনীতির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও সবচেয়ে বড় শর্ত হচ্ছে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। তাই প্রতিষ্ঠানটি কার জন্য, কে আইন তৈরি করছে, আইনের ফলে কারা লাভবান হচ্ছে এবং পরিবর্তন করার ক্ষমতা কার হাতে-এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি।