ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নিষেধাজ্ঞা থাকা পর্যন্ত রাজনীতি করতে পারবে না আ. লীগ: তথ্য উপদেষ্টা নেতানিয়াহুর জন্য যুদ্ধাস্ত্র কেনা ঠিক হবে না: মার্কিন কংগ্রেসম্যান খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন ব্রাজিলের জয়ে উচ্ছ্বসিত তারকারা, ‘জাপান্টিনা’ খোঁচা হিমির শিবির কি শেখ মুজিবের স্থলে ওসমান হাদিকে জাতির পিতা হিসেবে দাঁড় করাতে চায়?: রাশেদ খান আমরা আর শীর্ষ সারির দল নই: জার্মানি কোচ খুচরার অভাবে ৮০ পয়সা বেশি দিয়ে সিগারেট কিনতে হচ্ছে ৪ বারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারানোর খুশিতে প্যারাগুয়েতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ চেয়ে ইরানকে আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে পেল যুক্তরাষ্ট্র মায়ের পথ ধরে বিশ্বকাপে ছেলে, গড়লেন ইতিহাস

‘মন খারাপ থাকলে হাসিনাকে গান শোনাতেন মমতাজ’ 

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:১০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫
  • ৩৪৬ বার পড়া হয়েছে

মন খারাপ থাকলে শেখ হাসিনাকে গণভবনে গিয়ে গান শুনিয়ে আসতেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম। মঙ্গলবার (১৩ মে) মিরপুর মডেল থানার হত্যা মামলায় সাত দিনের রিমান্ড শুনানিতে ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী একথা জানান। এদিন বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে মমতাজকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা তিনটার দিকে তাকে সিএমএম আদালতের সাততলায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তোলা হয়।

বিপুল সংখ্যক পুলিশ, আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে জনাকীর্ণ আদালতে বেলা ৩টা ৭ মিনিটে শুনানি শুরু হয়। কাঠগড়ায় পুলিশ বেষ্টনিতে মমতাজের হেলমেট ও মাস্ক খুলে দেওয়া হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে বক্তব্য রাখেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের সমর্থনে ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বক্তব্য রাখেন।

শুনানির শুরুতেই তিনি বলেন, আমরা জাতি হিসেবে আবেগপ্রবণ। একজন ফুটবলার ভালো খেললে আমরা তার খেলাটাই দেখি। তাকে পছন্দ করার কারণ তিনি ভালো খেলেন। তেমনিভাবে নায়িকার অভিনয়, শিল্পীর ভালো গান আমরা পছন্দ করি। তারা কোন দল করে, সেটা দেখা হয় না। তাদের কাজটাকে আমরা ভালোবাসি। তবে এই আসামি জণগণের ভালোবাসাটাকে ব্যবহার করে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেন।

পাবলিক প্রসিকিউটর আরও বলেন, আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব যখন আরেক রাষ্ট্রের কাছে জিম্মি ছিল, গুম, আয়নাঘর, আন্দোলন করলেই যখন গুলি করা হতো তখন এই মমতাজ গানের ভালোবাসা দিয়ে ফ্যাসিস্টকে সহযোগিতা করতে গেল!

সংসদে তার ভূমিকা নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, সংসদের অধিবেশনে যেখানে মিনিটে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়, সেখানে সে গান গাইলো—‘আমার নেত্রী শেখ হাসিনা, সারা বিশ্বে নাই তার তুলনা’। সংসদে তোফায়েল, আমুসহ আওয়ামী লীগের অন্য সিনিয়র নেতারা যেখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে কটু কথা বলে নাই। সেখানে সে বক্তব্য রাখল, খালেদার বাপের নাম কী? এসময় আদালতে উপস্থিত আইনজীবীরা ‘শেইম শেইম’ বলে স্লোগান দেন।

শুনানির একপর্যায়ে পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতকে বলেন, এই আন্দোলনের সময় যখন হাসিনার মন খারাপ থাকতো তখন সে গণভবনে গিয়ে হাসিনাকে গান শুনাতো। এসময় এজলাসে হাস্যরসের তৈরি হয়। কাঠগড়ায় পুরো সময় বিষণ্ন থাকলেও পাবলিক প্রসিকিউটরের এই বক্তব্য শুনে মমতাজ নিজেও হাসতে থাকেন। এরপর আদালত আসামিপক্ষের বক্তব্য শুনতে চান। সামনে দেখতে না পেয়ে আসামিপক্ষে দাখিল করা নথি থেকে আইনজীবী রেজাউল করিমকে ডাকতে থাকে দায়িত্বরত সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা। তখন ওই আইনজীবী সামনে আসেন।

এরপর বিচারক মমতাজকে জিজ্ঞাসা করেন আপনি কি ওনাকে চেনেন? আপনার আইনজীবী হিসেবে তাকে নিয়োগ করতে চান? তাহলে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেন। পরে মমতাজ সম্মতি দিয়ে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেন। তবে ওই আইনজীবী আদালতকে জানান, আজকে আমার কোনো বক্তব্য নেই। এরপর বেলা ৩টা ২৮ মিনিটে মমতাজের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন আদালত। এর আগে সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টায় রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিষেধাজ্ঞা থাকা পর্যন্ত রাজনীতি করতে পারবে না আ. লীগ: তথ্য উপদেষ্টা

‘মন খারাপ থাকলে হাসিনাকে গান শোনাতেন মমতাজ’ 

আপডেট সময় ০৬:১০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

মন খারাপ থাকলে শেখ হাসিনাকে গণভবনে গিয়ে গান শুনিয়ে আসতেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম। মঙ্গলবার (১৩ মে) মিরপুর মডেল থানার হত্যা মামলায় সাত দিনের রিমান্ড শুনানিতে ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী একথা জানান। এদিন বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে মমতাজকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা তিনটার দিকে তাকে সিএমএম আদালতের সাততলায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তোলা হয়।

বিপুল সংখ্যক পুলিশ, আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে জনাকীর্ণ আদালতে বেলা ৩টা ৭ মিনিটে শুনানি শুরু হয়। কাঠগড়ায় পুলিশ বেষ্টনিতে মমতাজের হেলমেট ও মাস্ক খুলে দেওয়া হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে বক্তব্য রাখেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের সমর্থনে ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বক্তব্য রাখেন।

শুনানির শুরুতেই তিনি বলেন, আমরা জাতি হিসেবে আবেগপ্রবণ। একজন ফুটবলার ভালো খেললে আমরা তার খেলাটাই দেখি। তাকে পছন্দ করার কারণ তিনি ভালো খেলেন। তেমনিভাবে নায়িকার অভিনয়, শিল্পীর ভালো গান আমরা পছন্দ করি। তারা কোন দল করে, সেটা দেখা হয় না। তাদের কাজটাকে আমরা ভালোবাসি। তবে এই আসামি জণগণের ভালোবাসাটাকে ব্যবহার করে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেন।

পাবলিক প্রসিকিউটর আরও বলেন, আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব যখন আরেক রাষ্ট্রের কাছে জিম্মি ছিল, গুম, আয়নাঘর, আন্দোলন করলেই যখন গুলি করা হতো তখন এই মমতাজ গানের ভালোবাসা দিয়ে ফ্যাসিস্টকে সহযোগিতা করতে গেল!

সংসদে তার ভূমিকা নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, সংসদের অধিবেশনে যেখানে মিনিটে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়, সেখানে সে গান গাইলো—‘আমার নেত্রী শেখ হাসিনা, সারা বিশ্বে নাই তার তুলনা’। সংসদে তোফায়েল, আমুসহ আওয়ামী লীগের অন্য সিনিয়র নেতারা যেখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে কটু কথা বলে নাই। সেখানে সে বক্তব্য রাখল, খালেদার বাপের নাম কী? এসময় আদালতে উপস্থিত আইনজীবীরা ‘শেইম শেইম’ বলে স্লোগান দেন।

শুনানির একপর্যায়ে পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতকে বলেন, এই আন্দোলনের সময় যখন হাসিনার মন খারাপ থাকতো তখন সে গণভবনে গিয়ে হাসিনাকে গান শুনাতো। এসময় এজলাসে হাস্যরসের তৈরি হয়। কাঠগড়ায় পুরো সময় বিষণ্ন থাকলেও পাবলিক প্রসিকিউটরের এই বক্তব্য শুনে মমতাজ নিজেও হাসতে থাকেন। এরপর আদালত আসামিপক্ষের বক্তব্য শুনতে চান। সামনে দেখতে না পেয়ে আসামিপক্ষে দাখিল করা নথি থেকে আইনজীবী রেজাউল করিমকে ডাকতে থাকে দায়িত্বরত সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা। তখন ওই আইনজীবী সামনে আসেন।

এরপর বিচারক মমতাজকে জিজ্ঞাসা করেন আপনি কি ওনাকে চেনেন? আপনার আইনজীবী হিসেবে তাকে নিয়োগ করতে চান? তাহলে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেন। পরে মমতাজ সম্মতি দিয়ে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেন। তবে ওই আইনজীবী আদালতকে জানান, আজকে আমার কোনো বক্তব্য নেই। এরপর বেলা ৩টা ২৮ মিনিটে মমতাজের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন আদালত। এর আগে সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টায় রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।