ঢাকা , বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্ল্যান্ট বসানোর ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর জ্বালানি পরিবহণে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তান-ইরাকের চুক্তি জ্বালানির অভাবে নিজের গাড়িবহর অর্ধেক করছেন মোদি হামের টিকা নিয়ে দোষীদের খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা, ‘পানিবোমার’ শঙ্কায় ভারত হজ পালন করতে গিয়ে ১৩ বাংলাদেশির মৃত্যু রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন ফ্লাইওভার থেকে ঝুলন্ত ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার ঢাকায় আসছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’! ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী’ পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল রাশিয়া

সীমান্ত হত্যা বন্ধে উদ্যোগ না নিলে লংমার্চের হুঁশিয়ারি পাটওয়ারীর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:২১:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশির কবর জিয়ারত ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তিনি সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন এবং দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে লংমার্চ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

 

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের নিহতদের বাড়িতে গিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার বর্ণনা শোনেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সীমান্তে নিরীহ মানুষ হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধ করলে তার বিচার দেশের প্রচলিত আইনে হওয়া উচিত, কিন্তু কাউকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

 

তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চুড়ি পরিয়ে রাখা দরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত বোঝে না, জাতীয়তাবাদ বোঝে না, শুধু সংবিধান বোঝে। উনাদের কোনো উদ্যোগ নেই। সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। সরকার ঢাকাতে যেমন ব্যর্থ, তেমনি সকল সীমান্তেও ব্যর্থ। সরকারকে বলব, যদি সত্যিকার অর্থে জাতীয়তাবাদী হয়ে থাকে সীমান্ত রক্ষা প্রধান কর্তব্য। আর যদি তা না করতে পারে, তাহলে ভুয়া জাতীয়তাবাদী। যারা ভয়া জাতীয়তাবাদী আছে, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নেই।’

 

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অভিযোগ করেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারিদের রুট বন্ধ করে দেওয়ার জের ধরে কলেজছাত্র মুরসালিনকে সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে তিনি হত্যার শিকার হন।

 

সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। শুধু রাজধানী নয়, সীমান্ত এলাকাগুলোতেও মানুষের নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

 

বিজিবির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, যারা মারা গেছে, তাদের বিজিবি মাদক ও চোরাকারবারি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এগুলো ভারতীয় বয়ান, আমরা বলব ভারতীয় বয়ান থেকে সরে আসার জন্য। নিহতদের চোরাকারবারি বা মাদককারবারি হিসেবে আখ্যা দেওয়া ঠিক হয়নি।

 

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, কসবা সফরের পথে তাকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে এবং গত রাত থেকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

 

এর আগে তিনি নিহতদের কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, সীমান্তে নিহতদের পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়, সে দাবিতে তারা সোচ্চার থাকবেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার প্ল্যান্ট বসানোর ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

সীমান্ত হত্যা বন্ধে উদ্যোগ না নিলে লংমার্চের হুঁশিয়ারি পাটওয়ারীর

আপডেট সময় ০১:২১:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশির কবর জিয়ারত ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তিনি সীমান্ত হত্যা বন্ধে সরকারের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন এবং দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে লংমার্চ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

 

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের নিহতদের বাড়িতে গিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার বর্ণনা শোনেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সীমান্তে নিরীহ মানুষ হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধ করলে তার বিচার দেশের প্রচলিত আইনে হওয়া উচিত, কিন্তু কাউকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

 

তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চুড়ি পরিয়ে রাখা দরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত বোঝে না, জাতীয়তাবাদ বোঝে না, শুধু সংবিধান বোঝে। উনাদের কোনো উদ্যোগ নেই। সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। সরকার ঢাকাতে যেমন ব্যর্থ, তেমনি সকল সীমান্তেও ব্যর্থ। সরকারকে বলব, যদি সত্যিকার অর্থে জাতীয়তাবাদী হয়ে থাকে সীমান্ত রক্ষা প্রধান কর্তব্য। আর যদি তা না করতে পারে, তাহলে ভুয়া জাতীয়তাবাদী। যারা ভয়া জাতীয়তাবাদী আছে, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নেই।’

 

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অভিযোগ করেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারিদের রুট বন্ধ করে দেওয়ার জের ধরে কলেজছাত্র মুরসালিনকে সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে তিনি হত্যার শিকার হন।

 

সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। শুধু রাজধানী নয়, সীমান্ত এলাকাগুলোতেও মানুষের নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

 

বিজিবির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, যারা মারা গেছে, তাদের বিজিবি মাদক ও চোরাকারবারি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এগুলো ভারতীয় বয়ান, আমরা বলব ভারতীয় বয়ান থেকে সরে আসার জন্য। নিহতদের চোরাকারবারি বা মাদককারবারি হিসেবে আখ্যা দেওয়া ঠিক হয়নি।

 

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, কসবা সফরের পথে তাকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে এবং গত রাত থেকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

 

এর আগে তিনি নিহতদের কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, সীমান্তে নিহতদের পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়, সে দাবিতে তারা সোচ্চার থাকবেন।