এবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আমার সংকটকাল অতিক্রম করছি। হামের টিকা নিয়ে কে দোষ করেছে সেটা খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে। আমরা এটাই চেষ্টা করছি। বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পোলিও ভ্যাকসিন গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় আগামী জুনের মধ্যে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হবে বলেও জানান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো হলেও, সরকার এই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। বেশিরভাগ জেলাতেই টিকাদান শেষ হয়েছে। বাকি শিশুদেরকেও টিকার আওতায় আনা হবে। এছাড়া, আগামী জুনের মধ্যে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হবে।
হামের এই ভয়াবহ দুর্যোগ কাটিয়ে উঠার পর, এমন সংকটময় পরিস্থিতির পেছনে কারা দায়ী, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। অনুষ্ঠানে সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা এবং ইপিআই কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে সরকারকে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান হিসেবে দিয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন। সময়মতো টিকা না দেওয়ায় সারা দেশেই হাম সংক্রমনের বলি হচ্ছে দেশের শিশুরা।
প্রশ্ন উঠেছে, যে রোগে মৃত্যু শূন্যে নেমেছিল, সেই রোগেই এত প্রাণ কেন যাচ্ছে? এ অবস্থায় চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো টিকার অভাবেই হাম সারাদেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে। মন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখেছেন হামের পরেই অনেকের নিউমোনিয়া হয়ে যায়। ভেন্টিলেশনই এই রোগের শেষ চিকিৎসা। আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে সেই ভেন্টিলেশন দিয়েছি। আমাদের হাতে আজকে এই মুহূর্ত পর্যন্ত আমেরিকা থেকে আরও দশটি ভেন্টিলেটর দান করেছে একজন বেসরকারি ফার্মাসিটিউক্যালস উদ্যাক্তা। আমরা সেগুলো আজকে বণ্টন করব।
আমাদের হামের চিকিৎসা চলছে, আইসোলেশন চলছে, আইসিইউ আছে, চিকিৎসকরাও সচেষ্ট আছে। আমরা চেষ্টা করছি, আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। তিনি বলেন, আজকে চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাক চায়না সরকারের এনড্রোসমেন্টসহ ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল, যা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজের সমপরিমাণ ভ্যাকসিন হাতে পেয়েছি। আমাদের হাতেও পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন রয়েছে। আমরা পোলিও ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করব। এটা দেওয়া কোনো অসুবিধা হবে না। আমরা অ্যান্টিরেবিস টিকাও দেওয়া শুরু করছি। একটা রোগীও এই ভ্যাকসিনের বাইরে থাকবে না। প্রতিটা ভ্যাকসিনেসন এখন চলছে।
ভিটামিন এ ক্যাপসুলটা একটু শর্ট আছে। জুন নাগাদ আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-এ পেয়ে যাবো। পূর্ব নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আমরা বছরে দুইবার ভিটামিন-এ দেবো। এই সেক্টরে কোনো ঘাটতি রাখা যাবে না। হামের টিকার সংকট নিয়ে প্রশ্ন করা করা হলে মন্ত্রী বলেন, আমরা তো আশা করি। আমরা তো টিকাই দিচ্ছি। হামের টিকার ওপরে তো আর কোন ট্রিটমেন্ট নেই। ইট টজ এ কন্টিনিউয়াজ প্রসেস। উই আর কন্টিনিউ এভরি ডে। এমন না যে আমাদের টার্গেট শেষ হয়ে গেলে আমরা অফ হয়ে যাবো, আমরা খুঁজে খুজে টিকা দিবো। যেখানে হান্ড্রেড পার্সেন্ট টার্গেট আমাদের হয়েছে ওয়ালর্ড হেল্থ অর্গানাজেশন স্বীকার করেছে যে আমাদের টার্গেট ফিলাপ হয়েছে।এখন আমরা উই আর লুকিং ফর দ্য বেবিস আনভ্যাক্সিনেটেট। আমাদের রুটিন ইপিআই চলমান রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















