ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেলেন শহীদ আফ্রিদি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তান ক্রিকেটের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার এবং সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদিকে দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘হিলাল-ই-ইমতিয়াজ’-এ ভূষিত করা হয়েছে। পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অসামান্য সেবা এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

বুধবার (১৩ মে) ইসলামাবাদের আইওয়ান-ই-সদরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি আনুষ্ঠানিকভাবে আফ্রিদির হাতে এই পদক তুলে দেন। কেবল মাঠের ক্রিকেট নয়, তার পুরো ক্যারিয়ারের প্রভাবকে এই পুরস্কারের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়েছে। জমকালো এই অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং ক্রীড়া জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

অনুষ্ঠানে ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লর্ডসের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বল হাতে ১ উইকেট নেয়ার পর অপরাজিত ৫৪ রানের ইনিংস খেলে পাকিস্তানকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করায় আফ্রিদির অনবদ্য ভূমিকার কথা বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে তার ভূমিকা এবং ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস’-এ তার নেতৃত্বদানকেও এই পুরস্কারের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

 

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে পাকিস্তানের হয়ে তিন ফরম্যাটেই দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন ৪৬ বছর বয়সী শহীদ আফ্রিদি। পুরস্কার প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় এই সম্মাননার জন্য দেশবাসী ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এই কিংবদন্তি জানান, দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করাটাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন, আর এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি সেই পথচলাকে পূর্ণতা দিল।

 

 

পাকিস্তানের জার্সিতে ১৯৯৬ সালে অভিষেক আফ্রিদির। এরপর জাতীয় দলের হয়ে ২৭ টেস্টে ১৭১৬ রান (৫টি সেঞ্চুরি ও ৮টি হাফ-সেঞ্চুরি) ও ৪৮ উইকেট শিকার করেন। ৩৯৮ ওয়ানডেতে ৮০৬৪ রান (৬টি সেঞ্চুরি ও ৩৯টি হাফ-সেঞ্চুরি) এবং ৩৯৫টি উইকেট শিকার করেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে ৯৯ ম্যাচে ১৪১৬ রান (৪টি হাফ-সেঞ্চুরি) এবং ৯৮টি উইকেট আছে তার নামের পাশে।

 

 

উল্লেখ্য, ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন আফ্রিদি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই ম্যাচে মাত্র ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করে দীর্ঘ সময় রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছিলেন তিনি। এছাড়া পাকিস্তান সুপার লিগ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, আইপিএল এবং বিগ ব্যাশসহ বিশ্বের প্রায় সব বড় লিগে দাপটের সাথে খেলেছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেলেন শহীদ আফ্রিদি

আপডেট সময় ১১:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

পাকিস্তান ক্রিকেটের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার এবং সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদিকে দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘হিলাল-ই-ইমতিয়াজ’-এ ভূষিত করা হয়েছে। পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অসামান্য সেবা এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

বুধবার (১৩ মে) ইসলামাবাদের আইওয়ান-ই-সদরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি আনুষ্ঠানিকভাবে আফ্রিদির হাতে এই পদক তুলে দেন। কেবল মাঠের ক্রিকেট নয়, তার পুরো ক্যারিয়ারের প্রভাবকে এই পুরস্কারের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়েছে। জমকালো এই অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং ক্রীড়া জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

অনুষ্ঠানে ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লর্ডসের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বল হাতে ১ উইকেট নেয়ার পর অপরাজিত ৫৪ রানের ইনিংস খেলে পাকিস্তানকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করায় আফ্রিদির অনবদ্য ভূমিকার কথা বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে তার ভূমিকা এবং ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস’-এ তার নেতৃত্বদানকেও এই পুরস্কারের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

 

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে পাকিস্তানের হয়ে তিন ফরম্যাটেই দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন ৪৬ বছর বয়সী শহীদ আফ্রিদি। পুরস্কার প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় এই সম্মাননার জন্য দেশবাসী ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এই কিংবদন্তি জানান, দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করাটাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন, আর এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি সেই পথচলাকে পূর্ণতা দিল।

 

 

পাকিস্তানের জার্সিতে ১৯৯৬ সালে অভিষেক আফ্রিদির। এরপর জাতীয় দলের হয়ে ২৭ টেস্টে ১৭১৬ রান (৫টি সেঞ্চুরি ও ৮টি হাফ-সেঞ্চুরি) ও ৪৮ উইকেট শিকার করেন। ৩৯৮ ওয়ানডেতে ৮০৬৪ রান (৬টি সেঞ্চুরি ও ৩৯টি হাফ-সেঞ্চুরি) এবং ৩৯৫টি উইকেট শিকার করেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে ৯৯ ম্যাচে ১৪১৬ রান (৪টি হাফ-সেঞ্চুরি) এবং ৯৮টি উইকেট আছে তার নামের পাশে।

 

 

উল্লেখ্য, ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন আফ্রিদি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই ম্যাচে মাত্র ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করে দীর্ঘ সময় রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছিলেন তিনি। এছাড়া পাকিস্তান সুপার লিগ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, আইপিএল এবং বিগ ব্যাশসহ বিশ্বের প্রায় সব বড় লিগে দাপটের সাথে খেলেছেন।