বন্যার পানি শুধু ঘরবাড়িই ভাসিয়ে নেয় না, সঙ্গে নিয়ে আসে নতুন নতুন বিপদও। চট্টগ্রামে এবার সেই বিপদ আরও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যার পর একদিকে যেমন বেড়েছে সাপের উপদ্রব, অন্যদিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, গত সাত দিনে বন্যাকবলিত এলাকায় সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৮৬ জন। এর মধ্যে বিষধর সাপের দংশনে দুইজন বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্বাস্থ্য বিভাগের ভাষ্য, বন্যার পানিতে সাপের স্বাভাবিক আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লোকালয় ও বসতবাড়িতে সাপের উপস্থিতি বেড়ে গেছে।

শুধু সাপের দংশনই নয়, বাড়ছে পানিবাহিত রোগের প্রকোপও। গত এক সপ্তাহে জেলার ১৫টি উপজেলায় অন্তত ১০২ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের প্রায় ৭০ শতাংশই শিশু। বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার অবনতিকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১ হাজার ১০০ ভায়াল অ্যান্টি-স্নেক ভেনম, দুই লাখের বেশি ওআরএস, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল মেডিকেল টিম বন্যাকবলিত এলাকায় চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ—রাতে চলাচলের সময় টর্চ ব্যবহার করুন, পানিতে নামার আগে লাঠি দিয়ে জায়গা পরীক্ষা করুন এবং সাপে কামড়ালে ঝাড়ফুঁকে সময় নষ্ট না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যান। কারণ, বন্যার এই সংকটে সচেতনতাই হতে পারে জীবন রক্ষার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।