মাত্র ১১ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের দুই জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল আটজনের। বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাস ও লেগুনার সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। একই দিন বিকেলে নেত্রকোণায় পিকআপ ভ্যান ও সারবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
সবশেষ দুর্ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নেত্রকোণার নারান্দিয়া এলাকায়। এতে ঘটনাস্থলে দুজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজন মারা যান। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও তিনজন পুরুষ। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ জানায়, পিকআপ ভ্যানটিতে চালকসহ আটজন ছিলেন। ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোণার দিকে যাওয়ার সময় নারান্দিয়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা সারবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে পিকআপটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে পড়ে।
দুর্ঘটনায় পিকআপে থাকা দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয়রা আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নেত্রকোণার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় ঘটে আরেকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা। খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে যাত্রীবাহী বাস ও বিপরীত দিক থেকে আসা একটি লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হন।
নিহতরা হলেন—চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের সেগুনবাগিচা গ্রামের মো. জসীম উদ্দিন (২৫), ফুলছড়িস্থ শিয়াপাড়ার মোহাম্মদ শাহেদ (২৭), নতুন অফিস এলাকার মো. জিয়াবুল হক (২৫) এবং ঈদগাঁও উপজেলার পশ্চিম গজারিয়া এলাকার মোহাম্মদ রফিক (২৮)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দিকে যাওয়া ‘লাল সবুজ পরিবহন’ নামে একটি এসি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী লেগুনাটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় লেগুনাটির ছাদ পর্যন্ত উপড়ে যায়। গাড়িটিতে থাকা নয়জন যাত্রীই গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়দের সহায়তায় মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে দুপুর ১টার দিকে সেখানে আরও তিনজন মারা যান।
আহত পাঁচজন বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার এসআই মো. শামছুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার পর ক্রেন দিয়ে মহাসড়ক থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও লেগুনা সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একই দিনে মাত্র ১১ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের দুই মহাসড়কে পৃথক দুর্ঘটনায় আটজনের প্রাণহানি আবারও মহাসড়কের নিরাপত্তা ও চালকদের সতর্কতার বিষয়টি সামনে এনেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















