ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মৃত্যুর আগে মাকে যা বলেছিলেন সালমান শাহ দেশে ফিরলেন ছাত্র আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের রাজনীতি থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল গভীর রাতে গৃহবধূর ঘরে জামায়াত নেতা, শ্বশুরের চিৎকারে ধরা কিছু মনে করবেন না বলে, বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে যা বললেন ওমর সানী দিন গোনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী বাগেরহাটে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি হলো একটি মাছ বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দযাত্রা মুহূর্তেই রূপ নিল বিষাদে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে ইতিবাচক ঢাকা মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ সরকার। বিনিয়োগকারীদের সফলতার জন্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে দেশের সম্ভাবনা যাচাই করতে আসা মার্কিন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানানো হচ্ছে। তাদের সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নিজের ব্যবসায়ী জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনিও ব্যবসার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ব্যবসার বিকাশের জন্য সঠিক নীতি ও অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন—নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি তা উপলব্ধি করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার নেতৃত্বাধীন সরকার চায় মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক। বিনিয়োগকারীদের পুঁজি, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানিয়ে তাদের সাফল্য নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

বাংলাদেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের বড় ও ক্রমবর্ধমান বাজার, তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি।

সরকার নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ, ব্যবসাবান্ধব বাজেট এবং উদার অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান তিনি। বেসরকারি খাতকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি করে একটি বিধিনির্ভর ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

এ ক্ষেত্রে জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, অর্থায়ন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের জন্য পারস্পরিক সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিনিয়োগ পরিবেশ আরও পূর্বানুমানযোগ্য ও ব্যবসাবান্ধব করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সহজীকরণ, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার উন্নয়ন, মুনাফা স্থানান্তর সহজ করা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি সেবা ডিজিটাল করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তার উন্নয়নের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার কথাও জানান তিনি।

মার্কিন ব্যবসায়ীদের সরাসরি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পরামর্শক সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। বাংলাদেশকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি অগ্রাধিকার খাতে লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা নয়; বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।

মার্কিন ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং একটি সমৃদ্ধ, প্রতিযোগিতামূলক ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মৃত্যুর আগে মাকে যা বলেছিলেন সালমান শাহ

মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৪:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ সরকার। বিনিয়োগকারীদের সফলতার জন্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে দেশের সম্ভাবনা যাচাই করতে আসা মার্কিন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানানো হচ্ছে। তাদের সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নিজের ব্যবসায়ী জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনিও ব্যবসার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ব্যবসার বিকাশের জন্য সঠিক নীতি ও অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন—নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি তা উপলব্ধি করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার নেতৃত্বাধীন সরকার চায় মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক। বিনিয়োগকারীদের পুঁজি, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানিয়ে তাদের সাফল্য নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

বাংলাদেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের বড় ও ক্রমবর্ধমান বাজার, তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি।

সরকার নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ, ব্যবসাবান্ধব বাজেট এবং উদার অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান তিনি। বেসরকারি খাতকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি করে একটি বিধিনির্ভর ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

এ ক্ষেত্রে জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, অর্থায়ন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের জন্য পারস্পরিক সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিনিয়োগ পরিবেশ আরও পূর্বানুমানযোগ্য ও ব্যবসাবান্ধব করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সহজীকরণ, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার উন্নয়ন, মুনাফা স্থানান্তর সহজ করা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি সেবা ডিজিটাল করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তার উন্নয়নের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার কথাও জানান তিনি।

মার্কিন ব্যবসায়ীদের সরাসরি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পরামর্শক সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। বাংলাদেশকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি অগ্রাধিকার খাতে লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা নয়; বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।

মার্কিন ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং একটি সমৃদ্ধ, প্রতিযোগিতামূলক ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।