ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মোদির মন্তব্যে উত্তাল বাংলাদেশ, কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভের ডাক ২৫ মার্চের আগে মুজিব বাহিনী গণহত্যা চালিয়েছিল: চট্টগ্রাম জামায়াত আমির নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিজয় দিবসের রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর পোড়াল দুর্বৃত্তরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত ইতিহাসের ৯০ শতাংশই কল্পকাহিনী: আমির হামজা বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ ছাত্রদল নেতা আটক একাত্তর ও চব্বিশের দালালদের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি: নাহিদ চাকসু ভিপিকে মারতে তেড়ে আসলেন ছাত্রদল সভাপতি ফয়সাল আমার কাছে অনেক রাতে আসতেন, সকালে চলে যেতেন: রিমান্ডে স্ত্রী সামিয়া চব্বিশের আন্দোলনকারীরাও মুক্তিযোদ্ধা: উপদেষ্টা শারমীন

৫০০ হোটেল-মোটেল-রিসোর্টে প্রায় দেড় লাখ পর্যটক রাত্রিযাপন করছেন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩৮:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩৪০ বার পড়া হয়েছে

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাসের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকাল থেকেই শুরু হয় টানা বৃষ্টিপাত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর ব্যাপ্তি ও তীব্রতা বেড়ে যায়। তবে সেইসাথে কমে আসে ভ্যাপসা গরম, যা পর্যটকদের জন্য কিছুটা স্বস্তিও বয়ে আনে।

 

 

তবে আবহাওয়া যতই প্রতিকূল হোক, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কক্সবাজার সাগরতীরে পর্যটকদের ঢল থামেনি। অনেকেই উত্তাল সাগরের ঢেউ আর বৃষ্টির ভেজায় খুঁজে পেয়েছেন ভিন্ন এক আনন্দের অনুভব।

 

কুমিল্লা থেকে আসা পর্যটক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সামনে এসে যে প্রশান্তি পাওয়া যায়, তা অন্য কোথাও সম্ভব নয়। শহরের দালানকোঠার জীবনের চেয়ে নোনাজলের ছোঁয়া অনেক বেশি শান্তির।’

 

সপরিবারে ঘুরতে আসা মরিয়ম খাতুন বলেন, ‘বৃষ্টিতে ঢেউয়ের সঙ্গে সমুদ্রস্নান, এটা দারুণ উপভোগ করছি। আনন্দ যেন দ্বিগুণ হয়েছে।’

 

বৃষ্টির মধ্যেও সমুদ্রের পানি ছিল উত্তাল। এমন অবস্থায় পর্যটকদের নিরাপত্তায় সচেতন অবস্থানে রয়েছেন লাইফ গার্ড কর্মীরা। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে উড়ছে লাল পতাকা। সাগরের ঢেউ বিপজ্জনক হওয়ায় মাইকিং ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

 

 

 

সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র কর্মী রবিউল ইসলাম রাজু বলেন, ‘সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে, সাথে সাগরও উত্তাল। লাল পতাকা দিয়ে সতর্ক করা হলেও অনেক পর্যটক তা উপেক্ষা করে সমুদ্রে নামছেন। তবে আমরা প্রতিটি পয়েন্টে নজরদারি করছি। মাইকিং ও পায়ে হেঁটে টহল বাড়ানো হয়েছে।’

 

যদিও পর্যটক সমাগমে সৈকত এলাকায় উৎসবের আমেজ, তবে বৃষ্টির কারণে বিপাকে পড়েছেন সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

 

জেড স্কী ব্যবসায়ী সোহেল বলেন, ‘সপ্তাহজুড়ে বসে থাকি, শুক্রবারে আয়ের আশায়। কিন্তু আজ প্রচণ্ড বৃষ্টি আর উত্তাল সাগরের কারণে পর্যটকরা জেড স্কী নিচ্ছেন না। আয়ের উৎসে ভাটা পড়েছে।’

 

ফটোগ্রাফার রহিম বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে ক্যামেরা বের করাই যাচ্ছে না। ভিজলে নষ্ট হয়ে যাবে। পর্যটক এলেও ছবি তোলা সম্ভব হচ্ছে না, তাই আয়ও বন্ধ।’

 

সাপ্তাহিক ছুটিতে বেড়েছে হোটেল-মোটেলের চাহিদা। কক্সবাজারে ৫০০-এর বেশি হোটেল-মোটেল-রিসোর্টে একসাথে রাত্রিযাপন করতে পারেন প্রায় দেড় লাখ পর্যটক। পাশাপাশি সৈকতের পাড়ে আছে সহস্রাধিক বার্মিজ পণ্যের দোকান, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মোদির মন্তব্যে উত্তাল বাংলাদেশ, কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভের ডাক

৫০০ হোটেল-মোটেল-রিসোর্টে প্রায় দেড় লাখ পর্যটক রাত্রিযাপন করছেন

আপডেট সময় ০১:৩৮:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাসের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকাল থেকেই শুরু হয় টানা বৃষ্টিপাত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর ব্যাপ্তি ও তীব্রতা বেড়ে যায়। তবে সেইসাথে কমে আসে ভ্যাপসা গরম, যা পর্যটকদের জন্য কিছুটা স্বস্তিও বয়ে আনে।

 

 

তবে আবহাওয়া যতই প্রতিকূল হোক, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কক্সবাজার সাগরতীরে পর্যটকদের ঢল থামেনি। অনেকেই উত্তাল সাগরের ঢেউ আর বৃষ্টির ভেজায় খুঁজে পেয়েছেন ভিন্ন এক আনন্দের অনুভব।

 

কুমিল্লা থেকে আসা পর্যটক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সামনে এসে যে প্রশান্তি পাওয়া যায়, তা অন্য কোথাও সম্ভব নয়। শহরের দালানকোঠার জীবনের চেয়ে নোনাজলের ছোঁয়া অনেক বেশি শান্তির।’

 

সপরিবারে ঘুরতে আসা মরিয়ম খাতুন বলেন, ‘বৃষ্টিতে ঢেউয়ের সঙ্গে সমুদ্রস্নান, এটা দারুণ উপভোগ করছি। আনন্দ যেন দ্বিগুণ হয়েছে।’

 

বৃষ্টির মধ্যেও সমুদ্রের পানি ছিল উত্তাল। এমন অবস্থায় পর্যটকদের নিরাপত্তায় সচেতন অবস্থানে রয়েছেন লাইফ গার্ড কর্মীরা। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে উড়ছে লাল পতাকা। সাগরের ঢেউ বিপজ্জনক হওয়ায় মাইকিং ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

 

 

 

সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র কর্মী রবিউল ইসলাম রাজু বলেন, ‘সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে, সাথে সাগরও উত্তাল। লাল পতাকা দিয়ে সতর্ক করা হলেও অনেক পর্যটক তা উপেক্ষা করে সমুদ্রে নামছেন। তবে আমরা প্রতিটি পয়েন্টে নজরদারি করছি। মাইকিং ও পায়ে হেঁটে টহল বাড়ানো হয়েছে।’

 

যদিও পর্যটক সমাগমে সৈকত এলাকায় উৎসবের আমেজ, তবে বৃষ্টির কারণে বিপাকে পড়েছেন সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

 

জেড স্কী ব্যবসায়ী সোহেল বলেন, ‘সপ্তাহজুড়ে বসে থাকি, শুক্রবারে আয়ের আশায়। কিন্তু আজ প্রচণ্ড বৃষ্টি আর উত্তাল সাগরের কারণে পর্যটকরা জেড স্কী নিচ্ছেন না। আয়ের উৎসে ভাটা পড়েছে।’

 

ফটোগ্রাফার রহিম বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে ক্যামেরা বের করাই যাচ্ছে না। ভিজলে নষ্ট হয়ে যাবে। পর্যটক এলেও ছবি তোলা সম্ভব হচ্ছে না, তাই আয়ও বন্ধ।’

 

সাপ্তাহিক ছুটিতে বেড়েছে হোটেল-মোটেলের চাহিদা। কক্সবাজারে ৫০০-এর বেশি হোটেল-মোটেল-রিসোর্টে একসাথে রাত্রিযাপন করতে পারেন প্রায় দেড় লাখ পর্যটক। পাশাপাশি সৈকতের পাড়ে আছে সহস্রাধিক বার্মিজ পণ্যের দোকান, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।