ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সুনামগঞ্জে হাওরের বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে জমির ফসল আদালতে নেয়ার পথে প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনা, আহত পলক জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাসে ঘুমিয়ে পড়াই কাল হলো কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর ৪১৭ লিটার ডিজেলের কাজ করবে ৪ গ্রাম ইউরেনিয়াম, রূপপুরের জ্বালানির অবিশ্বাস্য সক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ইরানকে ‘বড় ছাড়’ দিতেই হবে: ফ্রান্স এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাঁদাবাজ-দুর্নীতিবিরোধী কার্ড চাইলেন আসিফ মাহমুদ স্কুলে যাওয়ার পথে ছাত্রীকে তুলে নিয়ে দিনভর ধর্ষণ, মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি এবার ইরানের পাশে জোরালোভাবে দাঁড়ানোর ঘোষণা রাশিয়ার ড. ইউনূসের প্রটোকলের মেয়াদ শেষ হয়নি, ভিভিআইপি থাকবেন বছরজুড়েই

ভেবেছিলাম গুদামঘর: আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে বিএনপি নেতার ব্যাখ্যা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:১২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১২ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশজুড়ে যখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, ঠিক সেই সময় পঞ্চগড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগএর একটি দলীয় কার্যালয় খোলাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ কার্যালয় খোলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপিএর সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে জেলা শহরের পুরাতন ক্যাম্প এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আবু দাউদ প্রধান অভিযোগ করেন, ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংসের অপচেষ্টা চলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত রয়েছেন আবু দাউদ প্রধান। সেখানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেটকে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তিনি কার্যালয়টি খুলে দেওয়ার জন্য আবু দাউদ প্রধানকে ধন্যবাদ জানান। ভিডিওতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগএর এক সাবেক নেতা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।

সংবাদ সম্মেলনে আবু দাউদ প্রধান বলেন, তিনি দীর্ঘ সময় চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। ঘটনার দিন সকালে গ্রাম থেকে শহরে আসার পথে বাজারে মানুষের জটলা দেখে তিনি সেখানে দাঁড়ান। তখন লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন, এক জামায়াত কর্মী একটি গুদামঘরের চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তিনি মধ্যস্থতা করে চাবিটি চাকলাহাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতির কাছে জমা রাখার ব্যবস্থা করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানতাম ওটি একটি গুদামঘর। সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড, চেয়ার বা টেবিল ছিল না। আমার পাশে দাঁড়িয়ে কে কী বক্তব্য দিয়েছেন বা কেন আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেনভিড়ের মধ্যে আমি তা বুঝে উঠতে পারিনি। এখন সেই ভিডিওকে ব্যবহার করে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে।ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে একজন দায়িত্বশীল বিএনপি নেতার উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এদিকে চাকলাহাট বাজার বণিক সমিতি জানিয়েছে, গুদামঘরের চাবিটি বর্তমানে তাঁদের হেফাজতেই রয়েছে এবং সেটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবু দাউদ প্রধান বলেন, ‘এটি আমার দলের কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থেই অফিসটি খুলে দেওয়া হয়েছে। এর আগে জামায়াতে ইসলামীর লোকজন সেটি তালাবদ্ধ করে রেখেছিল।অন্যদিকে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন জানান, ‘জামায়াতের লোকজন অফিসটি তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। পরে আবু দাউদ প্রধানসহ এলাকার অনেক মানুষ নিয়ে সেটি খোলা হয়েছে। এখন পরিষ্কারপরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। আপাতত এই কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধারা বসবেন। আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রম এখানে আপাতত হবে না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জে হাওরের বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে জমির ফসল

ভেবেছিলাম গুদামঘর: আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে বিএনপি নেতার ব্যাখ্যা

আপডেট সময় ০৩:১২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশজুড়ে যখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, ঠিক সেই সময় পঞ্চগড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগএর একটি দলীয় কার্যালয় খোলাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ কার্যালয় খোলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপিএর সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে জেলা শহরের পুরাতন ক্যাম্প এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আবু দাউদ প্রধান অভিযোগ করেন, ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংসের অপচেষ্টা চলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত রয়েছেন আবু দাউদ প্রধান। সেখানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেটকে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তিনি কার্যালয়টি খুলে দেওয়ার জন্য আবু দাউদ প্রধানকে ধন্যবাদ জানান। ভিডিওতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগএর এক সাবেক নেতা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।

সংবাদ সম্মেলনে আবু দাউদ প্রধান বলেন, তিনি দীর্ঘ সময় চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। ঘটনার দিন সকালে গ্রাম থেকে শহরে আসার পথে বাজারে মানুষের জটলা দেখে তিনি সেখানে দাঁড়ান। তখন লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন, এক জামায়াত কর্মী একটি গুদামঘরের চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তিনি মধ্যস্থতা করে চাবিটি চাকলাহাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতির কাছে জমা রাখার ব্যবস্থা করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানতাম ওটি একটি গুদামঘর। সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড, চেয়ার বা টেবিল ছিল না। আমার পাশে দাঁড়িয়ে কে কী বক্তব্য দিয়েছেন বা কেন আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেনভিড়ের মধ্যে আমি তা বুঝে উঠতে পারিনি। এখন সেই ভিডিওকে ব্যবহার করে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে।ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে একজন দায়িত্বশীল বিএনপি নেতার উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এদিকে চাকলাহাট বাজার বণিক সমিতি জানিয়েছে, গুদামঘরের চাবিটি বর্তমানে তাঁদের হেফাজতেই রয়েছে এবং সেটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবু দাউদ প্রধান বলেন, ‘এটি আমার দলের কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থেই অফিসটি খুলে দেওয়া হয়েছে। এর আগে জামায়াতে ইসলামীর লোকজন সেটি তালাবদ্ধ করে রেখেছিল।অন্যদিকে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন জানান, ‘জামায়াতের লোকজন অফিসটি তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। পরে আবু দাউদ প্রধানসহ এলাকার অনেক মানুষ নিয়ে সেটি খোলা হয়েছে। এখন পরিষ্কারপরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। আপাতত এই কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধারা বসবেন। আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রম এখানে আপাতত হবে না।