ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সুনামগঞ্জে হাওরের বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে জমির ফসল আদালতে নেয়ার পথে প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনা, আহত পলক জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো ৯২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাসে ঘুমিয়ে পড়াই কাল হলো কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর ৪১৭ লিটার ডিজেলের কাজ করবে ৪ গ্রাম ইউরেনিয়াম, রূপপুরের জ্বালানির অবিশ্বাস্য সক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ইরানকে ‘বড় ছাড়’ দিতেই হবে: ফ্রান্স এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাঁদাবাজ-দুর্নীতিবিরোধী কার্ড চাইলেন আসিফ মাহমুদ স্কুলে যাওয়ার পথে ছাত্রীকে তুলে নিয়ে দিনভর ধর্ষণ, মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি এবার ইরানের পাশে জোরালোভাবে দাঁড়ানোর ঘোষণা রাশিয়ার ড. ইউনূসের প্রটোকলের মেয়াদ শেষ হয়নি, ভিভিআইপি থাকবেন বছরজুড়েই

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ইরানকে ‘বড় ছাড়’ দিতেই হবে: ফ্রান্স

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

এবার মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও অস্থিরতা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় ইরানকে বড় ধরনের নমনীয়তা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁনোয়েল বারো জানিয়েছেন, তেহরান যদি তাদের বর্তমান কঠোর অবস্থানের আমূল পরিবর্তন না করে, তবে এই অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।  জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক ভাষণে তিনি গুরুত্বারোপ করেন, আলোচনার টেবিলে উল্লেখযোগ্য কোনোছাড়দেওয়ার মানসিকতা রাখা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের প্রধান শর্ত। মিডল ইস্ট আইএর এক প্রতিবেদনে ফ্রান্সের এই কূটনৈতিক বার্তার বিষয়টি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁনোয়েল বারো তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেছেন, ইরানকে অবশ্যই তাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেশান্তিপূর্ণ সহাবস্থাননিশ্চিত করার পথে হাঁটতে হবে। তিনি মনে করেন, আঞ্চলিক রাজনীতি ও দ্বন্দ্বে তেহরানের বর্তমান নীতিগুলোতে বড় ধরনের সংস্কার আনা জরুরি।  এ ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন কেবল ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই আনবে না, বরং ইরানের সাধারণ নাগরিকদের একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ফ্রান্সের পক্ষ থেকে দেওয়া এই বার্তাকে তেহরানের ওপর নতুন করে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ চললেও সংঘাত নিরসনের আলোচনাগুলো অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সরাসরি যুদ্ধ এবং লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষ পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।  এমন এক সংকটময় মুহূর্তে ফ্রান্সের মতো একটি প্রভাবশালী ইউরোপীয় শক্তির কাছ থেকে এই কঠোর মন্তব্য তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বৃদ্ধি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্যারিস চাইছে ইরান যেন তাদের পারমাণবিক ও আঞ্চলিক সামরিক নীতিতে নমনীয় হয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি টেকসই সমঝোতায় পৌঁছায়।

সামগ্রিকভাবে ফ্রান্সের এই অবস্থান এটাই ইঙ্গিত দেয়, পশ্চিমা দেশগুলো এখন ইরানের ওপর দায়ভার চাপিয়ে এই যুদ্ধের একটি সমাপ্তি টানতে চাইছে। যদিও ইরান ইতিমধ্যে পাকিস্তানের মাধ্যমে তাদেররেড লাইনবা চূড়ান্ত সীমারেখা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে, তবুও ফ্রান্সের এই আহ্বান আলোচনার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।  মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া যখন এক গভীর অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন জ্যঁনোয়েল বারোর এই প্রস্তাব তেহরানের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক বিশ্বের। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জে হাওরের বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে জমির ফসল

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ইরানকে ‘বড় ছাড়’ দিতেই হবে: ফ্রান্স

আপডেট সময় ১১:০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

এবার মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও অস্থিরতা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় ইরানকে বড় ধরনের নমনীয়তা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁনোয়েল বারো জানিয়েছেন, তেহরান যদি তাদের বর্তমান কঠোর অবস্থানের আমূল পরিবর্তন না করে, তবে এই অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।  জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক ভাষণে তিনি গুরুত্বারোপ করেন, আলোচনার টেবিলে উল্লেখযোগ্য কোনোছাড়দেওয়ার মানসিকতা রাখা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের প্রধান শর্ত। মিডল ইস্ট আইএর এক প্রতিবেদনে ফ্রান্সের এই কূটনৈতিক বার্তার বিষয়টি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁনোয়েল বারো তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেছেন, ইরানকে অবশ্যই তাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেশান্তিপূর্ণ সহাবস্থাননিশ্চিত করার পথে হাঁটতে হবে। তিনি মনে করেন, আঞ্চলিক রাজনীতি ও দ্বন্দ্বে তেহরানের বর্তমান নীতিগুলোতে বড় ধরনের সংস্কার আনা জরুরি।  এ ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন কেবল ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই আনবে না, বরং ইরানের সাধারণ নাগরিকদের একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ফ্রান্সের পক্ষ থেকে দেওয়া এই বার্তাকে তেহরানের ওপর নতুন করে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ চললেও সংঘাত নিরসনের আলোচনাগুলো অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সরাসরি যুদ্ধ এবং লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষ পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।  এমন এক সংকটময় মুহূর্তে ফ্রান্সের মতো একটি প্রভাবশালী ইউরোপীয় শক্তির কাছ থেকে এই কঠোর মন্তব্য তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বৃদ্ধি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্যারিস চাইছে ইরান যেন তাদের পারমাণবিক ও আঞ্চলিক সামরিক নীতিতে নমনীয় হয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি টেকসই সমঝোতায় পৌঁছায়।

সামগ্রিকভাবে ফ্রান্সের এই অবস্থান এটাই ইঙ্গিত দেয়, পশ্চিমা দেশগুলো এখন ইরানের ওপর দায়ভার চাপিয়ে এই যুদ্ধের একটি সমাপ্তি টানতে চাইছে। যদিও ইরান ইতিমধ্যে পাকিস্তানের মাধ্যমে তাদেররেড লাইনবা চূড়ান্ত সীমারেখা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে, তবুও ফ্রান্সের এই আহ্বান আলোচনার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।  মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া যখন এক গভীর অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন জ্যঁনোয়েল বারোর এই প্রস্তাব তেহরানের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক বিশ্বের। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই।