ঢাকা , রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, সারা দেশে সতর্কতা জোরদার নতুন করে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-যুক্তরাজ্য, কলকাঠি নাড়ছে ওয়াশিংটন বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১ নোয়াখালীতে ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার ১৩ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ, পূজা চেরির বাবা গ্রেপ্তার উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর স্মার্টফোনের ন্যূনতম দাম ২৫০০ টাকার মধ্যে আনতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ‘স্থায়ী শান্তি’ আসবে না: রাশিয়া হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির আজহারী ও জারার ছবি ব্যবহার করে যৌন উত্তেজক ওষুধের বিজ্ঞাপন, গ্রেপ্তার ১০

সাম্য হত্যাকাণ্ডের পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে কড়াকড়ি সিদ্ধান্ত: বন্ধ হচ্ছে গেট, উচ্ছেদ ভাসমান দোকান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৩৮:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
  • ২৩৪ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাম্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। উদ্যানে চলমান অব্যবস্থাপনা, অপরাধ কর্মকাণ্ড ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি দূর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

বুধবার (১৪ মে) বিকেলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঢাবির টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটি গেট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং উদ্যানে থাকা ভাসমান দোকানগুলোও উচ্ছেদ করা হবে।

উদ্যানকে ‘রমনা পার্ক’ মডেলে পরিচালনার পরিকল্পনা

আসিফ মাহমুদ জানান, উদ্যানটির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে। রমনা পার্কের আদলে উদ্যান পরিচালনা করা হবে, যেখানে থাকবে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, এবং রাত ৮টা বা সাড়ে ৮টার পর উদ্যান বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, “রাজু ভাস্কর্যের পেছনের গেট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এক-দুই দিনের মধ্যেই সেটি কার্যকর হবে। সেই গেটের আশপাশে থাকা ভাসমান দোকানগুলোও উচ্ছেদ করা হবে। এসব তদারকির জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হবে।”

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার: সিসিটিভি, পুলিশ বক্স, মাদকবিরোধী রেইড

উদ্যানে পর্যাপ্ত আলো এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যার নজরদারি করবে ডিএমপি। সেই সঙ্গে উদ্যানের ভেতর স্থাপন করা হবে একটি পুলিশ বক্স

তিনি জানান, মাদকবিরোধী রেইড আগামীকাল থেকেই শুরু হবে, যাতে অপরাধ দমন করা যায়। এসব অভিযানে থাকবে নারকোটিক্স বিভাগ এবং ডিএমপি। এসব রেইড নিয়মিত করা হবে বলে জানান উপদেষ্টা।

আসিফ মাহমুদ বলেন, “প্রতিদিনই উদ্যানে কোনো না কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ছিনতাই থেকে শুরু করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হয়। এসব স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “সাম্য আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে—আমাদের করণীয় কী। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মাদক ব্যবসা ও অপরাধচক্রকে এখনই থামাতে হবে।”

তদন্তে অগ্রগতি

সাম্য হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে জানা যাবে প্রকৃত দোষী কারা। মামলাটি বিশেষ কোনো তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ

এ ছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া এবং ডিএমপির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, সারা দেশে সতর্কতা জোরদার

সাম্য হত্যাকাণ্ডের পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে কড়াকড়ি সিদ্ধান্ত: বন্ধ হচ্ছে গেট, উচ্ছেদ ভাসমান দোকান

আপডেট সময় ০৮:৩৮:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাম্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। উদ্যানে চলমান অব্যবস্থাপনা, অপরাধ কর্মকাণ্ড ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি দূর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

বুধবার (১৪ মে) বিকেলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঢাবির টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটি গেট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং উদ্যানে থাকা ভাসমান দোকানগুলোও উচ্ছেদ করা হবে।

উদ্যানকে ‘রমনা পার্ক’ মডেলে পরিচালনার পরিকল্পনা

আসিফ মাহমুদ জানান, উদ্যানটির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে। রমনা পার্কের আদলে উদ্যান পরিচালনা করা হবে, যেখানে থাকবে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, এবং রাত ৮টা বা সাড়ে ৮টার পর উদ্যান বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, “রাজু ভাস্কর্যের পেছনের গেট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এক-দুই দিনের মধ্যেই সেটি কার্যকর হবে। সেই গেটের আশপাশে থাকা ভাসমান দোকানগুলোও উচ্ছেদ করা হবে। এসব তদারকির জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হবে।”

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার: সিসিটিভি, পুলিশ বক্স, মাদকবিরোধী রেইড

উদ্যানে পর্যাপ্ত আলো এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যার নজরদারি করবে ডিএমপি। সেই সঙ্গে উদ্যানের ভেতর স্থাপন করা হবে একটি পুলিশ বক্স

তিনি জানান, মাদকবিরোধী রেইড আগামীকাল থেকেই শুরু হবে, যাতে অপরাধ দমন করা যায়। এসব অভিযানে থাকবে নারকোটিক্স বিভাগ এবং ডিএমপি। এসব রেইড নিয়মিত করা হবে বলে জানান উপদেষ্টা।

আসিফ মাহমুদ বলেন, “প্রতিদিনই উদ্যানে কোনো না কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ছিনতাই থেকে শুরু করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হয়। এসব স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “সাম্য আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে—আমাদের করণীয় কী। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মাদক ব্যবসা ও অপরাধচক্রকে এখনই থামাতে হবে।”

তদন্তে অগ্রগতি

সাম্য হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে জানা যাবে প্রকৃত দোষী কারা। মামলাটি বিশেষ কোনো তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ

এ ছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া এবং ডিএমপির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।