অস্ত্রোপচার চলার মাঝেই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। জেনারেটরও তাৎক্ষণিকভাবে চালু না হওয়ায় ভারতের বিহার রাজ্যের একটি হাসপাতালে টর্চ ও মোবাইল ফোনের আলোয় দুই অন্তঃসত্ত্বা নারীর অস্ত্রোপচার চালিয়ে যেতে হয়েছে চিকিৎসকদের। প্রায় ৪৫ মিনিট বিদ্যুৎহীন অবস্থায় এভাবে অস্ত্রোপচার চলে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর বিহারের হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, পূজা কুমারী ও অঞ্জনি কুমারী নামের ওই দুই নারীকে প্রসূতি বিভাগ থেকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেয়া হয়েছিল। তারা অপারেশন থিয়েটারে থাকা অবস্থায়ই একপর্যায়ে বিদ্যুৎ চলে যায়। জেনারেটরও তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারায় চিকিৎসক দল টর্চ ও মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশের আলো ব্যবহার করে অস্ত্রোপচার চালিয়ে যায়।
অস্ত্রোপচারে থাকা চিকিৎসক ডা. শালিনী কুমারী, ডা. রঘুনন্দন এবং ওটি সহকারী অমিত কুমার বিষয়টি সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্টকে জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মোবাইল ফোনের আলোয় দুই নারীকে অস্ত্রোপচার করতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে অস্ত্রোপচার কক্ষে বিদ্যুৎ নেই। বিষয়টি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তখনও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। ভিডিওতে এক নার্সকে মোবাইল ফোনের আলো অস্ত্রোপচারের জায়গায় ধরে রাখতে দেখা যায়, যাতে চিকিৎসকেরা কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।
হাসপাতালের একটি অভ্যন্তরীণ গ্রুপেও চিকিৎসকেরা ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেখানে তারা দাবি করেন, এর আগেও একই ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অতীতেও মোবাইল ফোনের আলোয় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। তবে হাসপাতালের ব্যবস্থাপক রমেশ পাণ্ডে এসব দাবি নাকচ করে বলেছেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা কখনো ঘটেনি।
জামুই সদর হাসপাতালের ডেপুটি-সুপারিনটেনডেন্ট ডা. থানেশ কুমার বলেন, প্রশাসন ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছে এবং এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে।
এই ঘটনার পর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার মতো ঘটনা সেখানে বারবারই ঘটছে।

