ঢাকা , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
৬৬৬ কোটি টাকার করের রায় স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ নিয়ে সন্ধ্যা লাইভে আসছেন আসিফ মাহমুদ সন্ত্রাস দমনে ক্রসফায়ারের পথে যাবে না সরকার: আইনমন্ত্রী মাগুরায় সাকিবের বাড়িতে শুরু হয়েছে সংস্কার কাজ হাসিনা অসুস্থতার কারণে তাকে সংবাদ সম্মেলন দেখা যায় না: আসিফ নজরুল পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি সরাতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ছাত্রদল আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আ.লীগ ব্যবসায়ী ও এমপিদের প্রটেকশন দিয়েছে: রাশেদ খাঁন এআই না জানলে মুসলিমরা পিছিয়ে পড়বে: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার

বান্ধবীর বাবার ধর্ষণের শিকার সাত বছরের স্কুলছাত্রী, হত্যার পর বসতঘরেই মাটিচাপা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫২:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

এবার জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই সহপাঠী ও বান্ধবীর বাবার বিরুদ্ধে। হত্যার পর মরদেহ গুম করতে নিজ বসতঘরের মেঝেতে গর্ত করে শিশুটিকে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জামিলুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার(১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা।

পুলিশ জানায়, নিহত শিশুটি মাদারগঞ্জের একটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অভিযুক্ত জামিলুল ইসলামের মেয়ের সঙ্গে একই স্কুলে পড়ত সে। বান্ধবী হওয়ায় প্রায়ই জামিলুলের বাড়িতে খেলতে যেত শিশুটি। বৃহস্পতিবার সকালে জামিলুলের স্ত্রী তার বোনের বাড়িতে গেলে বাড়িতে একাই ছিলেন তিনি। এ সময় শিশুটি ওই বাড়িতে গেলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে শিশুটিকে হত্যা করেন জামিলুল। এরপর মরদেহ গুম করতে বসতঘরের মেঝেতে গর্ত খুঁড়ে সেখানে শিশুটিকে পুঁতে রাখা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল শিশুটি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মা স্কুলে গিয়ে জানতে পারেন, মেয়েটি সেদিন স্কুলে যায়নি। এরপর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আশপাশের পুকুর ও নালাতেও তল্লাশি চালানো হয়। তবে শিশুটির সন্ধান না পাওয়ায় ওই দিনই মাদারগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন পরিবারের সদস্যরা।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের চর লোটাবর গ্রামে জামিলুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। বসতঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জামিলুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। রোববার এ ঘটনায় মাদারগঞ্জ মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়। পরে আসামিদের আদালতে পাঠানো হলে জামিলুল ইসলাম ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মর্মান্তিক এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শিশুটির মামা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এটা মেনে নেওয়ার মতো না। কী মেনে নেবো বলেন? আল্লাহ গো, এর বিচার কি হবে? এর বিচার সর্বোচ্চ কী করবেন আপনারা? ফাঁসির রায় দেবেন সর্বোচ্চ? কিন্তু ফাঁসি আপনারা দেবেন না। তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে আরেকটা ঘটনা ঘটছে। দুইটা ফাঁসি, দুইটা খুনের আসামি খালি রায় হয়েছে, কোনো ফাঁসি এখনো কার্যকর হয়নি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজন ও এলাকাবাসী এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

৬৬৬ কোটি টাকার করের রায় স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের

বান্ধবীর বাবার ধর্ষণের শিকার সাত বছরের স্কুলছাত্রী, হত্যার পর বসতঘরেই মাটিচাপা

আপডেট সময় ১০:৫২:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই সহপাঠী ও বান্ধবীর বাবার বিরুদ্ধে। হত্যার পর মরদেহ গুম করতে নিজ বসতঘরের মেঝেতে গর্ত করে শিশুটিকে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জামিলুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার(১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা।

পুলিশ জানায়, নিহত শিশুটি মাদারগঞ্জের একটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অভিযুক্ত জামিলুল ইসলামের মেয়ের সঙ্গে একই স্কুলে পড়ত সে। বান্ধবী হওয়ায় প্রায়ই জামিলুলের বাড়িতে খেলতে যেত শিশুটি। বৃহস্পতিবার সকালে জামিলুলের স্ত্রী তার বোনের বাড়িতে গেলে বাড়িতে একাই ছিলেন তিনি। এ সময় শিশুটি ওই বাড়িতে গেলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে শিশুটিকে হত্যা করেন জামিলুল। এরপর মরদেহ গুম করতে বসতঘরের মেঝেতে গর্ত খুঁড়ে সেখানে শিশুটিকে পুঁতে রাখা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল শিশুটি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মা স্কুলে গিয়ে জানতে পারেন, মেয়েটি সেদিন স্কুলে যায়নি। এরপর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আশপাশের পুকুর ও নালাতেও তল্লাশি চালানো হয়। তবে শিশুটির সন্ধান না পাওয়ায় ওই দিনই মাদারগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন পরিবারের সদস্যরা।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের চর লোটাবর গ্রামে জামিলুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। বসতঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জামিলুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। রোববার এ ঘটনায় মাদারগঞ্জ মডেল থানায় পেনাল কোডের ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়। পরে আসামিদের আদালতে পাঠানো হলে জামিলুল ইসলাম ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মর্মান্তিক এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শিশুটির মামা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এটা মেনে নেওয়ার মতো না। কী মেনে নেবো বলেন? আল্লাহ গো, এর বিচার কি হবে? এর বিচার সর্বোচ্চ কী করবেন আপনারা? ফাঁসির রায় দেবেন সর্বোচ্চ? কিন্তু ফাঁসি আপনারা দেবেন না। তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে আরেকটা ঘটনা ঘটছে। দুইটা ফাঁসি, দুইটা খুনের আসামি খালি রায় হয়েছে, কোনো ফাঁসি এখনো কার্যকর হয়নি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজন ও এলাকাবাসী এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।