ঢাকা , বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হাদির দ্রুত ফেরার সম্ভাবনা নেই, লম্বা সময় থাকতে হতে পারে আইসিইউতে: ডা. রাফি ব্রেনের ফোলা কমেনি, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ওসমান হাদি: চিকিৎসক হাদির অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন, অপারেশনের অপেক্ষায় ডাক্তাররা বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ ছাত্রদল নেতা আটক ফয়াসলই আমাকে হাদির কাছে নিয়ে গিয়েছিল: ফয়সালের সহযোগী জামায়াত যুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল ভারতের বিরুদ্ধে : আমির হামজা মুক্তিযুদ্ধ ও ইসলামের নামে দেশকে বিভাজন করা যাবে না ফিরছেন তারেক রহমান, বাসভবন-অফিস প্রস্তুত বিজয় দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে বিএনপির দলীয় স্লোগান, ইউএনওর বাধা ওসমান হাদিকে গুলি করা ফয়সালের সহযোগী কবির ৭ দিনের রিমান্ডে

আগামী নির্বাচনে তরুণদের ঝোঁক বিএনপি-জামায়াতের দিকে, এনসিপির সমর্থনও বাড়ছে: বিওয়াইএলসি জরিপ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৪৭:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ১২৩১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) ‘ইয়ুথ ম্যাটারস সার্ভে ২০২৫’ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশের তরুণ ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক পছন্দে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে বিওয়াইএলসির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ জরিপ প্রকাশ করা হয়। দেশের আটটি বিভাগের ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২ হাজার ৫০০ তরুণ-তরুণীর মতামতের ভিত্তিতে এ সমীক্ষা পরিচালিত হয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, ১৯.৬ শতাংশ তরুণ বিএনপিকে, ১৬.৯ শতাংশ জামায়াতে ইসলামকে এবং ৩.৬ শতাংশ এনসিপিকে সমর্থন করছেন। এ ছাড়া ৯.৫ শতাংশ তরুণ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পছন্দ করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ৩০ শতাংশ তরুণ এখনও ভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্তহীন এবং ১৭.৭ শতাংশ তাদের পছন্দের দলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

বক্তব্য দেন বিওয়াইএলসির নির্বাহী পরিচালক তাহসিনাহ আহমেদ, ভয়েস ফর রিফর্মের সহসমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. আব্দুন নূর তুষার, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ জান্নাতুল মাওয়া এবং লিড ফ্যাকাল্টি মুনিরা সুলতানা।

সমীক্ষায় বলা হয়, ১০–২১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের আট বিভাগ, ২৭ জেলা ও ১৭৫টি নমুনা ইউনিটে সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে জরিপটি পরিচালিত হয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৮৯ শতাংশ তরুণ নিবন্ধিত ভোটার এবং ৯৭.২ শতাংশ আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী।

নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় ৪৯.৮ শতাংশ উত্তরদাতার অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতি আস্থা রয়েছে। আবার ৬৩.১ শতাংশ মনে করেন, আগের সরকারের তুলনায় এখন সামাজিক মাধ্যমে মত প্রকাশ করা আরও নিরাপদ।

ছাত্র রাজনীতির বিষয়ে ৫২.৬ শতাংশ তরুণ একে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর মনে করেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাব (৪৮%), সহিংসতা (২৩.৮%) এবং ক্ষমতার অপব্যবহার (১১.১%) প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

দেশের আগামী পাঁচ বছরের অগ্রাধিকার হিসেবে ৬৭.১ শতাংশ দুর্নীতি দমনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন। ৬৫.৩ শতাংশ দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রীতি বজায় আছে বলে মনে করেন। তবে ৭৬ শতাংশ তরুণ নারীর নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জরিপে আরও উঠে এসেছে—তরুণদের ৩৯.১ শতাংশ উদ্যোক্তা হতে চান, আর ১৮.৩ শতাংশ ভবিষ্যতে বিদেশে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তাদের মতে, দেশে কর্মসংস্থানের অভাব ও সামাজিক-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এর প্রধান কারণ।

তথ্য বিভ্রান্তির বিষয়ে ৫৯.৬ শতাংশ তরুণ মনে করেন সামাজিক মাধ্যম দেশের বাস্তবতা সঠিকভাবে তুলে ধরে না। তবুও ৬১.৭ শতাংশ তরুণ দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী।

তাহসিনাহ আহমেদ বলেন, “তরুণরা রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও সামাজিকভাবে জাগ্রত। তাদের ভাবনা ও উদ্বেগ নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিতে হবে।”
ফাহিম মাশরুর মনে করেন, উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ বাড়লেও প্রয়োজন যথাযথ প্রশিক্ষণ।
ডা. আব্দুন নূর তুষারের ভাষায়, “হতাশার মধ্যেও তরুণদের দৃঢ়তা ও আশার প্রতিফলন এই জরিপ।”

 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হাদির দ্রুত ফেরার সম্ভাবনা নেই, লম্বা সময় থাকতে হতে পারে আইসিইউতে: ডা. রাফি

আগামী নির্বাচনে তরুণদের ঝোঁক বিএনপি-জামায়াতের দিকে, এনসিপির সমর্থনও বাড়ছে: বিওয়াইএলসি জরিপ

আপডেট সময় ১০:৪৭:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) ‘ইয়ুথ ম্যাটারস সার্ভে ২০২৫’ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দেশের তরুণ ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক পছন্দে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে বিওয়াইএলসির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ জরিপ প্রকাশ করা হয়। দেশের আটটি বিভাগের ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২ হাজার ৫০০ তরুণ-তরুণীর মতামতের ভিত্তিতে এ সমীক্ষা পরিচালিত হয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, ১৯.৬ শতাংশ তরুণ বিএনপিকে, ১৬.৯ শতাংশ জামায়াতে ইসলামকে এবং ৩.৬ শতাংশ এনসিপিকে সমর্থন করছেন। এ ছাড়া ৯.৫ শতাংশ তরুণ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পছন্দ করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ৩০ শতাংশ তরুণ এখনও ভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্তহীন এবং ১৭.৭ শতাংশ তাদের পছন্দের দলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

বক্তব্য দেন বিওয়াইএলসির নির্বাহী পরিচালক তাহসিনাহ আহমেদ, ভয়েস ফর রিফর্মের সহসমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. আব্দুন নূর তুষার, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ জান্নাতুল মাওয়া এবং লিড ফ্যাকাল্টি মুনিরা সুলতানা।

সমীক্ষায় বলা হয়, ১০–২১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের আট বিভাগ, ২৭ জেলা ও ১৭৫টি নমুনা ইউনিটে সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে জরিপটি পরিচালিত হয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৮৯ শতাংশ তরুণ নিবন্ধিত ভোটার এবং ৯৭.২ শতাংশ আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী।

নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় ৪৯.৮ শতাংশ উত্তরদাতার অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতি আস্থা রয়েছে। আবার ৬৩.১ শতাংশ মনে করেন, আগের সরকারের তুলনায় এখন সামাজিক মাধ্যমে মত প্রকাশ করা আরও নিরাপদ।

ছাত্র রাজনীতির বিষয়ে ৫২.৬ শতাংশ তরুণ একে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর মনে করেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাব (৪৮%), সহিংসতা (২৩.৮%) এবং ক্ষমতার অপব্যবহার (১১.১%) প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

দেশের আগামী পাঁচ বছরের অগ্রাধিকার হিসেবে ৬৭.১ শতাংশ দুর্নীতি দমনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন। ৬৫.৩ শতাংশ দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রীতি বজায় আছে বলে মনে করেন। তবে ৭৬ শতাংশ তরুণ নারীর নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জরিপে আরও উঠে এসেছে—তরুণদের ৩৯.১ শতাংশ উদ্যোক্তা হতে চান, আর ১৮.৩ শতাংশ ভবিষ্যতে বিদেশে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তাদের মতে, দেশে কর্মসংস্থানের অভাব ও সামাজিক-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এর প্রধান কারণ।

তথ্য বিভ্রান্তির বিষয়ে ৫৯.৬ শতাংশ তরুণ মনে করেন সামাজিক মাধ্যম দেশের বাস্তবতা সঠিকভাবে তুলে ধরে না। তবুও ৬১.৭ শতাংশ তরুণ দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী।

তাহসিনাহ আহমেদ বলেন, “তরুণরা রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও সামাজিকভাবে জাগ্রত। তাদের ভাবনা ও উদ্বেগ নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিতে হবে।”
ফাহিম মাশরুর মনে করেন, উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ বাড়লেও প্রয়োজন যথাযথ প্রশিক্ষণ।
ডা. আব্দুন নূর তুষারের ভাষায়, “হতাশার মধ্যেও তরুণদের দৃঢ়তা ও আশার প্রতিফলন এই জরিপ।”