ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
১ জুলাই থেকে মার্চেন্টদের জন্য বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক দেশের ১৪ অঞ্চলে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস শিবির হত্যার বিচার না পেয়ে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছেড়েদেন বিএনপি নেতা সরকারি দলের দায়িত্বহীন বক্তব্যে দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বাড়ছে: জামায়াত আমির ইরানের পক্ষে যুদ্ধে না জড়ানোয় এরদোয়ানের প্রশংসা করলেন ট্রাম্প রাজনৈতিক খুনোখুনি: দায় চাপিয়ে দায়মুক্তি চাইছে বিএনপি-জামায়াত? খামেনির শেষ বিদায়ে ইরানের আমন্ত্রণ পেয়ে ‘বিপাকে’ মোদি ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলার উপকূলে ব্যাপক লুটপাট আশুরার রোজা কয়টি? আলেমদের অভিমত কী বলছে ‘চার মাসের মধ্যে আরও এক লাখ কোটি টাকার ঋণের জালে দেশ’

ভারতের সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিষয়ে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫৮:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫
  • ৪৫৬ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ভারত শিগগিরই আরেকটি দুঃসাহসিক সামরিক অভিযান চালাতে পারে। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেছেন, উসকানিমূলক কোনো পদক্ষেপের জবাবে পাকিস্তান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন এবং জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় আবেগপ্রবণ ও বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।” তিনি আরও বলেন, “মোদি যদি হতাশা থেকে আগ্রাসী পদক্ষেপ নেন, তাহলে পাকিস্তান তার জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে – যার আন্তর্জাতিক পরিণতি হতে পারে।”

আসিফের মতে, উত্তেজনার নতুন মাত্রা তৈরি হলে, ভারতের মিত্ররাও হয়তো মোদির পদক্ষেপকে সমর্থন নাও করতে পারে। তিনি বলেন, “যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার জন্য পাকিস্তানের ওপর কোনো বাহ্যিক চাপ ছিল না। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মিত্র রাষ্ট্রগুলো যুদ্ধবিরতির পক্ষে মত দিয়ে পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে।”

প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, “পাকিস্তান চারদিন সংযম দেখিয়েছে, আশা করেছিল ভারত যুক্তির পথে আসবে, কিন্তু তা হয়নি। তবে আমাদের জয় হয়েছে বহু দিক থেকে।” তিনি জানান, সাম্প্রতিক সংঘাতে সাইবার যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং এতে ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামো বিপর্যস্ত হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, সংঘর্ষ চলাকালীন পাকিস্তান পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান এবং একটি ইউএভি ভূপাতিত করেছে। সেই সঙ্গে জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তান সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়েছে এবং বিশ্বের অনেক দেশ এখন পাকিস্তানকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে।

কাশ্মীর প্রসঙ্গে আসিফ বলেন, “প্রথমবারের মতো ভারত আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীর ইস্যু সমাধানে আগ্রহ দেখাচ্ছে, যা পাকিস্তানের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন।”

উল্লেখ্য, গত ১০ মে ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণাঙ্গ ও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যৌথভাবে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১ জুলাই থেকে মার্চেন্টদের জন্য বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক

ভারতের সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিষয়ে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

আপডেট সময় ১১:৫৮:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ভারত শিগগিরই আরেকটি দুঃসাহসিক সামরিক অভিযান চালাতে পারে। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেছেন, উসকানিমূলক কোনো পদক্ষেপের জবাবে পাকিস্তান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বর্তমানে রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন এবং জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় আবেগপ্রবণ ও বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।” তিনি আরও বলেন, “মোদি যদি হতাশা থেকে আগ্রাসী পদক্ষেপ নেন, তাহলে পাকিস্তান তার জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে – যার আন্তর্জাতিক পরিণতি হতে পারে।”

আসিফের মতে, উত্তেজনার নতুন মাত্রা তৈরি হলে, ভারতের মিত্ররাও হয়তো মোদির পদক্ষেপকে সমর্থন নাও করতে পারে। তিনি বলেন, “যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার জন্য পাকিস্তানের ওপর কোনো বাহ্যিক চাপ ছিল না। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মিত্র রাষ্ট্রগুলো যুদ্ধবিরতির পক্ষে মত দিয়ে পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে।”

প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, “পাকিস্তান চারদিন সংযম দেখিয়েছে, আশা করেছিল ভারত যুক্তির পথে আসবে, কিন্তু তা হয়নি। তবে আমাদের জয় হয়েছে বহু দিক থেকে।” তিনি জানান, সাম্প্রতিক সংঘাতে সাইবার যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং এতে ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামো বিপর্যস্ত হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, সংঘর্ষ চলাকালীন পাকিস্তান পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান এবং একটি ইউএভি ভূপাতিত করেছে। সেই সঙ্গে জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তান সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়েছে এবং বিশ্বের অনেক দেশ এখন পাকিস্তানকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে।

কাশ্মীর প্রসঙ্গে আসিফ বলেন, “প্রথমবারের মতো ভারত আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীর ইস্যু সমাধানে আগ্রহ দেখাচ্ছে, যা পাকিস্তানের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন।”

উল্লেখ্য, গত ১০ মে ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণাঙ্গ ও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যৌথভাবে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।