ঢাকা , রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, সারা দেশে সতর্কতা জোরদার নতুন করে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-যুক্তরাজ্য, কলকাঠি নাড়ছে ওয়াশিংটন বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১ নোয়াখালীতে ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার ১৩ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ, পূজা চেরির বাবা গ্রেপ্তার উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর স্মার্টফোনের ন্যূনতম দাম ২৫০০ টাকার মধ্যে আনতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ‘স্থায়ী শান্তি’ আসবে না: রাশিয়া হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির আজহারী ও জারার ছবি ব্যবহার করে যৌন উত্তেজক ওষুধের বিজ্ঞাপন, গ্রেপ্তার ১০

আ.লীগ অফিস দখল বিতর্কে ব্যানার সরানো ও দুঃখ প্রকাশ।

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫
  • ৮৭৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মিনহাজ আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামীলীগ অফিস দখল নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পরে জুলাই যোদ্ধাদের কয়েকজন। ঘটনার একদিন না পার হতেই সংবাদ সম্মেলন ডেকে দুঃখ প্রকাশ করেন ভবন দখল নেয়া জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষে রায়হান চৌধুরী অপু ।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুরে জেলা শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন রায়হান চৌধুরী অপু।

লিখিত বক্তব্যে, তিনি দখলের ঘটনাটি দায় স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ইতিমধ্যে জুলাই যোদ্ধা ব্যানারটি ভবন থেকে নামিয়ে ফেলা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরোবলেন, গতকাল বুধবার (১৪ মে) শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তায় একটি বিধ্বস্ত পরিত্যক্ত পোড়া ভবন আমরা পরিষ্কার করেছি।
যেটি ৫ আগস্টের আগে আওয়ামীলীগের কার্যালয় হিসেবে আমরা জানতাম। ভবনটি পরিস্কার করার পর আমাদের সংগঠনের ব্যানারটি টাংগিয়ে দেই। আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মিডিয়ার সামনে তুলে ধরি। কিন্তু অত্যন্ত মর্মাহত হয়ে লক্ষ্য করেছি আমাদের গত কালকের কার্যক্রমকে অনেকেই নেতিবাচকভাবে নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাই আমি সবার প্রতি দুঃখ প্রকাশ করছি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়েছে আমরা যেটি করতে চাই সেটি আমরা মানুষকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি। অনেকেই ভাবছেন আমরা এ ভবনটি দখলে নিয়েছি। দখল ভাবাটা আক্ষরিক অর্থে দোষের কিছু না। আমি কাউকে দোষারোপ করতেও চাইনা। তাই নিজেদের অপারগতা স্বীকার করে আমরা এ ভবনটি মোটেও দখলে নেইনি বরং সমাজের এটি ভালো কাজের জন্য নিজস্ব অর্থ খরচ করে সংস্কার পূর্বক সাময়িক ব্যবহারের উপযোগি করে তোলার চেষ্টা করেছি মাত্র।

আপনারা যারা বিভিন্ন রাজনীতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী আপনাদের সাথে আমাদের কোন বিরোধ নেই। আর এই কার্যক্রমে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও নেই। ভাই সকল বিতর্ক নিরসনে আমরা ইতিমধ্যে আমাদের ব্যানারটা নামিয়ে ফেলেছি।

আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য এই যে, আমরা জুলাই যোদ্ধারা আন্দোলনে এসেছিলাম একটি সুন্দর দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। সুন্দর সমাজ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। আন্দোলন সময়ে এবং আন্দোলন পরবর্তী সময়ে নানা বিতর্কের মধ্য দিয়ে আমরা সমাজে চলছি। আমাদের লক্ষ্যে পৌছানোর চেষ্টা করছি। আমরা সমাজকে যে যার অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।
তারই ধারাবাহিকতায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যতদিন আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা কোন ঘর না পাচ্ছি ততদিন এই পরিত্যক্ত ভবনটিতে আমরা একটি অস্থায়ী জিমনেসিয়াম করবো। যেখানে আমরা যুবকরা সমাজ পরিবর্তনের জন্য টিম হয়ে কাজ করবো। আমাদের লক্ষ্য যুব সমাজকে মাদক থেকে ফিরিয়ে এনে সমাজের কাজে লাগানো।

আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আমাদের যুবসমাজকে মাদকের আগ্রাসন থেকে বাঁচাতে হলে একটা ওপেন জিমনেসিয়াম প্রয়োজন। এটি করতে পারলে জেলার অনেক গরীব খেলোয়াড়ও উপকৃত হবে। যারা অর্থে অভাবে নিজেদের ফিটনেস ঠিক রাখতে জিম প্রেক্টিস করতে পারেনা আর আমাদের দ্রুত এ কাজটা শুরু করতে একটা ঘরের দরকার ছিলো।
তাই আমরা সিদ্ধান্ত নেই পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের পরিত্যাক্ত জেলা কার্যালয় পরিস্কার করে এটিতে অস্থায়ীভাবে আমরা জিমনেসিয়ামের কাজ শুরু করবো। আর আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ঘর পেলে সেখানে চলে যাবো।
এখানে যদি আপনারা চিন্তাশীল মানুষ খুবই স্বাভাবিক ভাবে চিন্তা করেন দেখবেন আমরা সমাজের পরিবর্তনের জন্য বিতর্ক হওয়ার মতো কোন কাজ করিনি। তবে হা যেহেতু মানুষ এটিকে গতকাল আমাদের দখল হিসেবে নিয়েছে তাই আমরা সমস্ত বিতর্ক আমাদের কাঁধেই নিচ্ছি। সেই সাথে ঠাকুরগাঁওবাসীর সকল দলের, সকল মতের সকল শ্রেণির মানুষের কাছে সহযোগিতাও প্রত্যাশা করছি।

সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই আশা করি আমাদের দখলবাজ না বলে ভালো কাজে এগিয়ে আসবেন। আমাদের যারা সমালোচনা করেছেন। তাদের ধন্যবাদ। আপনারা সমালোচনা না করলে হয়তো আজ আবারও বিষয়টি খোলসা করার সুযোগ আমাদের হতোনা। যদি আমাদের ব্যানার আপনাদের মনে তিল পরিমাণ দাগ কাটে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার (১৪ মে) দুপুরে জুলাই যোদ্ধাদের কয়েকজন যুবক ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়টি দখলে নিয়ে ঝুলিয়ে দেয় “জুলাই যোদ্ধা ঠাকুরগাঁও” নামের একটি ব্যানার। যা নিয়ে সৃষ্টি হয় বিতর্ক।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, সারা দেশে সতর্কতা জোরদার

আ.লীগ অফিস দখল বিতর্কে ব্যানার সরানো ও দুঃখ প্রকাশ।

আপডেট সময় ০৬:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫

মোঃ মিনহাজ আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ
ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামীলীগ অফিস দখল নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পরে জুলাই যোদ্ধাদের কয়েকজন। ঘটনার একদিন না পার হতেই সংবাদ সম্মেলন ডেকে দুঃখ প্রকাশ করেন ভবন দখল নেয়া জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষে রায়হান চৌধুরী অপু ।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুরে জেলা শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন রায়হান চৌধুরী অপু।

লিখিত বক্তব্যে, তিনি দখলের ঘটনাটি দায় স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ইতিমধ্যে জুলাই যোদ্ধা ব্যানারটি ভবন থেকে নামিয়ে ফেলা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরোবলেন, গতকাল বুধবার (১৪ মে) শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তায় একটি বিধ্বস্ত পরিত্যক্ত পোড়া ভবন আমরা পরিষ্কার করেছি।
যেটি ৫ আগস্টের আগে আওয়ামীলীগের কার্যালয় হিসেবে আমরা জানতাম। ভবনটি পরিস্কার করার পর আমাদের সংগঠনের ব্যানারটি টাংগিয়ে দেই। আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মিডিয়ার সামনে তুলে ধরি। কিন্তু অত্যন্ত মর্মাহত হয়ে লক্ষ্য করেছি আমাদের গত কালকের কার্যক্রমকে অনেকেই নেতিবাচকভাবে নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাই আমি সবার প্রতি দুঃখ প্রকাশ করছি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়েছে আমরা যেটি করতে চাই সেটি আমরা মানুষকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি। অনেকেই ভাবছেন আমরা এ ভবনটি দখলে নিয়েছি। দখল ভাবাটা আক্ষরিক অর্থে দোষের কিছু না। আমি কাউকে দোষারোপ করতেও চাইনা। তাই নিজেদের অপারগতা স্বীকার করে আমরা এ ভবনটি মোটেও দখলে নেইনি বরং সমাজের এটি ভালো কাজের জন্য নিজস্ব অর্থ খরচ করে সংস্কার পূর্বক সাময়িক ব্যবহারের উপযোগি করে তোলার চেষ্টা করেছি মাত্র।

আপনারা যারা বিভিন্ন রাজনীতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী আপনাদের সাথে আমাদের কোন বিরোধ নেই। আর এই কার্যক্রমে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও নেই। ভাই সকল বিতর্ক নিরসনে আমরা ইতিমধ্যে আমাদের ব্যানারটা নামিয়ে ফেলেছি।

আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য এই যে, আমরা জুলাই যোদ্ধারা আন্দোলনে এসেছিলাম একটি সুন্দর দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। সুন্দর সমাজ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। আন্দোলন সময়ে এবং আন্দোলন পরবর্তী সময়ে নানা বিতর্কের মধ্য দিয়ে আমরা সমাজে চলছি। আমাদের লক্ষ্যে পৌছানোর চেষ্টা করছি। আমরা সমাজকে যে যার অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।
তারই ধারাবাহিকতায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যতদিন আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা কোন ঘর না পাচ্ছি ততদিন এই পরিত্যক্ত ভবনটিতে আমরা একটি অস্থায়ী জিমনেসিয়াম করবো। যেখানে আমরা যুবকরা সমাজ পরিবর্তনের জন্য টিম হয়ে কাজ করবো। আমাদের লক্ষ্য যুব সমাজকে মাদক থেকে ফিরিয়ে এনে সমাজের কাজে লাগানো।

আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আমাদের যুবসমাজকে মাদকের আগ্রাসন থেকে বাঁচাতে হলে একটা ওপেন জিমনেসিয়াম প্রয়োজন। এটি করতে পারলে জেলার অনেক গরীব খেলোয়াড়ও উপকৃত হবে। যারা অর্থে অভাবে নিজেদের ফিটনেস ঠিক রাখতে জিম প্রেক্টিস করতে পারেনা আর আমাদের দ্রুত এ কাজটা শুরু করতে একটা ঘরের দরকার ছিলো।
তাই আমরা সিদ্ধান্ত নেই পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের পরিত্যাক্ত জেলা কার্যালয় পরিস্কার করে এটিতে অস্থায়ীভাবে আমরা জিমনেসিয়ামের কাজ শুরু করবো। আর আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ঘর পেলে সেখানে চলে যাবো।
এখানে যদি আপনারা চিন্তাশীল মানুষ খুবই স্বাভাবিক ভাবে চিন্তা করেন দেখবেন আমরা সমাজের পরিবর্তনের জন্য বিতর্ক হওয়ার মতো কোন কাজ করিনি। তবে হা যেহেতু মানুষ এটিকে গতকাল আমাদের দখল হিসেবে নিয়েছে তাই আমরা সমস্ত বিতর্ক আমাদের কাঁধেই নিচ্ছি। সেই সাথে ঠাকুরগাঁওবাসীর সকল দলের, সকল মতের সকল শ্রেণির মানুষের কাছে সহযোগিতাও প্রত্যাশা করছি।

সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই আশা করি আমাদের দখলবাজ না বলে ভালো কাজে এগিয়ে আসবেন। আমাদের যারা সমালোচনা করেছেন। তাদের ধন্যবাদ। আপনারা সমালোচনা না করলে হয়তো আজ আবারও বিষয়টি খোলসা করার সুযোগ আমাদের হতোনা। যদি আমাদের ব্যানার আপনাদের মনে তিল পরিমাণ দাগ কাটে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার (১৪ মে) দুপুরে জুলাই যোদ্ধাদের কয়েকজন যুবক ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়টি দখলে নিয়ে ঝুলিয়ে দেয় “জুলাই যোদ্ধা ঠাকুরগাঁও” নামের একটি ব্যানার। যা নিয়ে সৃষ্টি হয় বিতর্ক।