ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শিবির হত্যার বিচার না পেয়ে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছেড়েদেন বিএনপি নেতা সরকারি দলের দায়িত্বহীন বক্তব্যে দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বাড়ছে: জামায়াত আমির ইরানের পক্ষে যুদ্ধে না জড়ানোয় এরদোয়ানের প্রশংসা করলেন ট্রাম্প রাজনৈতিক খুনোখুনি: দায় চাপিয়ে দায়মুক্তি চাইছে বিএনপি-জামায়াত? খামেনির শেষ বিদায়ে ইরানের আমন্ত্রণ পেয়ে ‘বিপাকে’ মোদি ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলার উপকূলে ব্যাপক লুটপাট আশুরার রোজা কয়টি? আলেমদের অভিমত কী বলছে ‘চার মাসের মধ্যে আরও এক লাখ কোটি টাকার ঋণের জালে দেশ’ ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ১৬৪ জনের মরদেহ উদ্ধার প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কলেজছাত্রের আত্মহত্যা

দেশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়লে পারমাণবিক হামলা চালাবে পাকিস্তান 

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫
  • ৭২৯ বার পড়া হয়েছে

এবার পাকিস্তানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে, দক্ষিণ এশিয়ায় পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা নতুন করে দানা বাঁধছে। তবে এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালা ও সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে উদ্বেগ ও প্রশ্ন উঠছে।

পাকিস্তান এখন পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে “প্রথম আঘাত” না করার কোন প্রতিশ্রুতি দেয়নি। বরং, তারা স্পষ্ট করে বলেছে, যদি দেশটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে তারা প্রথমেই পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে। এছাড়া বড় ধরনের প্রচলিত সামরিক হামলার জবাবে ট্যাকটিক্যাল নিউক্লিয়ার অস্ত্র ব্যবহারের পক্ষেও নীতিগত অবস্থান নিয়েছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে ছোট হওয়ায়, একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করা তাদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির বিষয়। অতীতেও তিনটি প্রচলিত যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে দেশটি। এ কারণে পাকিস্তান এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না, যা তাদের জন্য বিজয়ের চেয়ে ধ্বংস ডেকে আনবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা ভারতের বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তবে তারা এখন পর্যন্ত সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দেয়নি।

অবশ্য, পাকিস্তান ও ভারত উভয়ই “পারমাণবিক স্থাপনায় আক্রমণ নিষিদ্ধকরণ চুক্তি”-তে সই করেছে, যার আওতায় প্রতি বছর একে অপরকে নিজেদের পারমাণবিক স্থাপনাসমূহের তালিকা জানায়। এ বছরের জানুয়ারিতেও এই তালিকা বিনিময় হয়েছে, এটি ছিল টানা ৩৪তম বার। তবে দু’দেশই এখনো বৈশ্বিক “পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি” (NPT)-তে স্বাক্ষর করেনি।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পাকিস্তানকে সংযত থাকতে এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া সহ বিভিন্ন দেশ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

বর্তমানে পাকিস্তানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এমনভাবে জবাব দেওয়া যাতে পরিস্থিতি আর না ঘনীভূত হয় এবং এমন সংঘাত শুরু না হয়, যার পরিণতি তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। কারণ, পারমাণবিক সংঘাত শুধু পাকিস্তান নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শিবির হত্যার বিচার না পেয়ে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছেড়েদেন বিএনপি নেতা

দেশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়লে পারমাণবিক হামলা চালাবে পাকিস্তান 

আপডেট সময় ১১:০০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫

এবার পাকিস্তানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে, দক্ষিণ এশিয়ায় পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা নতুন করে দানা বাঁধছে। তবে এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালা ও সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে উদ্বেগ ও প্রশ্ন উঠছে।

পাকিস্তান এখন পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে “প্রথম আঘাত” না করার কোন প্রতিশ্রুতি দেয়নি। বরং, তারা স্পষ্ট করে বলেছে, যদি দেশটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে তারা প্রথমেই পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে। এছাড়া বড় ধরনের প্রচলিত সামরিক হামলার জবাবে ট্যাকটিক্যাল নিউক্লিয়ার অস্ত্র ব্যবহারের পক্ষেও নীতিগত অবস্থান নিয়েছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে ছোট হওয়ায়, একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করা তাদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির বিষয়। অতীতেও তিনটি প্রচলিত যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে দেশটি। এ কারণে পাকিস্তান এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না, যা তাদের জন্য বিজয়ের চেয়ে ধ্বংস ডেকে আনবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা ভারতের বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তবে তারা এখন পর্যন্ত সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দেয়নি।

অবশ্য, পাকিস্তান ও ভারত উভয়ই “পারমাণবিক স্থাপনায় আক্রমণ নিষিদ্ধকরণ চুক্তি”-তে সই করেছে, যার আওতায় প্রতি বছর একে অপরকে নিজেদের পারমাণবিক স্থাপনাসমূহের তালিকা জানায়। এ বছরের জানুয়ারিতেও এই তালিকা বিনিময় হয়েছে, এটি ছিল টানা ৩৪তম বার। তবে দু’দেশই এখনো বৈশ্বিক “পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি” (NPT)-তে স্বাক্ষর করেনি।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পাকিস্তানকে সংযত থাকতে এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া সহ বিভিন্ন দেশ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

বর্তমানে পাকিস্তানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এমনভাবে জবাব দেওয়া যাতে পরিস্থিতি আর না ঘনীভূত হয় এবং এমন সংঘাত শুরু না হয়, যার পরিণতি তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। কারণ, পারমাণবিক সংঘাত শুধু পাকিস্তান নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।