ঢাকা , শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোডশেডিংয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৬:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে দোয়া-মোনাজাত ও অসহায় দরিদ্রদের অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে লোডশেডিংয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন।

 

এসময দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সমাধানে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল সরকারের চেয়ে ভালো পরিকল্পনা দিলে সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে এবং বাস্তবায়নও করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

সব ঠিক থাকলে কয়েকদিনের মধ্যে গ্যাস সংকট কেটে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। আর তখন বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও জানান তিনি।

 

তবে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ সমালোচনাকারীদের একহাত নিলেন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পেছনে ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে, হাতে হারিকেন নিয়ে বসে বলছে— ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’; এগুলো হঠকারিতা। তাদের বন্ধুরাই ক্ষমতায় ছিল, অন্তর্বর্তী সরকার এলএনজি টার্মিনাল বসানো বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার দেশে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল বানানোর চেষ্টা করছে, এজন্য সময় লাগবে। সংকট সমাধানে সরকার চীন ও মালয়েশিয়ার সাথে কথা বলেছে।

 

বিরোধীদলকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুতের সমাধান যদি বিরোধী দল দিতে পারে, সেগুলো সরকার গ্রহণ করবে। যদি না পারে, তাহলে বিভ্রান্তির রাজনীতির জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে তাদের। বিভ্রান্তি, হঠকারী রাজনীতি বাদ দেন। জনগণের উপকার হবে সেই রকম পরিকল্পনা থাকলে উপস্থাপন করুন। রাস্তায় বসে ভাঙচুরের রাজনীতির দিন শেষ।

 

‘সমালোচনা করা খুবই সহজ কাজ, মুরদ থাকলে কোদাল হাতে মাঠে নামুন, জনগণের জন্য কাজ করুন। এমন কথা বলবেন না, যাতে দেশে বিশৃঙ্খলা হয়। যারা আজ বড় বড় কথা বলছে, সতেরো বছর জনগণ আপনাদের রাজপথে দেখেনি। পত্রিকা বের করুন, আমাদের দলের নেতাকর্মীরা কীভাবে সতেরো বছর নির্যাতন সহ্য করেছে দেখুন’— যোগ করেন তারেক রহমান।

 

বিরোধী দলের আরও সমালোচনা করে তিনি বলেন, ’৭১, ’৮৬, ’৯৬-এ ভুল করেছেন। ’২৪-এ টিকিট বিক্রি করে ভুল করেছেন। এখন উসকানি, বিভ্রান্তির রাজনীতি পরিহার করুন। মানুষ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখতে চায়। এগিয়ে যেতে হলে ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত শ্রমিকের হাতে রূপ দিতে হবে। আমি কী পেলাম সেটা বড় নয়, বরং জনগণের জন্য কী করতে পারলাম, সেটাই বড়। দেশ গঠনে যেই পথ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া দেখিয়ে গেছেন, তা অনুসরণ করতে হবে।

 

নিজের সরকারের প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, একটি শিশু হাঁটতেও এক বছর সময় লাগে। বর্তমান সরকারের সরকারের বয়স মাত্র ৬ মাস। ক্ষমতায় এসে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা শুরু করেছে সরকার।

 

আওয়ামী লীগের শাসনামল নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ছিল সমালোচনার ঝাঁজ। তিনি বললেন, ফ্যাসিবাদী সরকার মেগাপ্রকল্পের মাধ্যমে মেগা দুর্নীতি করেছে। দেশকে ফোকলা বানিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ খাতে তিন লাখ দেনা করে গেছে। বিদ্যুতে কষ্ট পাচ্ছে মানুষ, গ্যাসের কষ্ট হচ্ছে। দেশের নিজস্ব গ্যাস ছিল, কিন্তু তারা নতুন কূপ খনন করেনি। বরং বিদেশিদের হাতে এই সেক্টর তুলে দিয়েছে। একটি দেশের জন্য স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করা হয়েছিল।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে চার পরিকল্পনা তুলে ধরলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

লোডশেডিংয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ১০:২৬:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে দোয়া-মোনাজাত ও অসহায় দরিদ্রদের অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে লোডশেডিংয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন।

 

এসময দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সমাধানে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল সরকারের চেয়ে ভালো পরিকল্পনা দিলে সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে এবং বাস্তবায়নও করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

সব ঠিক থাকলে কয়েকদিনের মধ্যে গ্যাস সংকট কেটে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। আর তখন বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও জানান তিনি।

 

তবে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ সমালোচনাকারীদের একহাত নিলেন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পেছনে ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে, হাতে হারিকেন নিয়ে বসে বলছে— ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’; এগুলো হঠকারিতা। তাদের বন্ধুরাই ক্ষমতায় ছিল, অন্তর্বর্তী সরকার এলএনজি টার্মিনাল বসানো বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার দেশে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল বানানোর চেষ্টা করছে, এজন্য সময় লাগবে। সংকট সমাধানে সরকার চীন ও মালয়েশিয়ার সাথে কথা বলেছে।

 

বিরোধীদলকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুতের সমাধান যদি বিরোধী দল দিতে পারে, সেগুলো সরকার গ্রহণ করবে। যদি না পারে, তাহলে বিভ্রান্তির রাজনীতির জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে তাদের। বিভ্রান্তি, হঠকারী রাজনীতি বাদ দেন। জনগণের উপকার হবে সেই রকম পরিকল্পনা থাকলে উপস্থাপন করুন। রাস্তায় বসে ভাঙচুরের রাজনীতির দিন শেষ।

 

‘সমালোচনা করা খুবই সহজ কাজ, মুরদ থাকলে কোদাল হাতে মাঠে নামুন, জনগণের জন্য কাজ করুন। এমন কথা বলবেন না, যাতে দেশে বিশৃঙ্খলা হয়। যারা আজ বড় বড় কথা বলছে, সতেরো বছর জনগণ আপনাদের রাজপথে দেখেনি। পত্রিকা বের করুন, আমাদের দলের নেতাকর্মীরা কীভাবে সতেরো বছর নির্যাতন সহ্য করেছে দেখুন’— যোগ করেন তারেক রহমান।

 

বিরোধী দলের আরও সমালোচনা করে তিনি বলেন, ’৭১, ’৮৬, ’৯৬-এ ভুল করেছেন। ’২৪-এ টিকিট বিক্রি করে ভুল করেছেন। এখন উসকানি, বিভ্রান্তির রাজনীতি পরিহার করুন। মানুষ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখতে চায়। এগিয়ে যেতে হলে ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত শ্রমিকের হাতে রূপ দিতে হবে। আমি কী পেলাম সেটা বড় নয়, বরং জনগণের জন্য কী করতে পারলাম, সেটাই বড়। দেশ গঠনে যেই পথ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া দেখিয়ে গেছেন, তা অনুসরণ করতে হবে।

 

নিজের সরকারের প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, একটি শিশু হাঁটতেও এক বছর সময় লাগে। বর্তমান সরকারের সরকারের বয়স মাত্র ৬ মাস। ক্ষমতায় এসে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা শুরু করেছে সরকার।

 

আওয়ামী লীগের শাসনামল নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ছিল সমালোচনার ঝাঁজ। তিনি বললেন, ফ্যাসিবাদী সরকার মেগাপ্রকল্পের মাধ্যমে মেগা দুর্নীতি করেছে। দেশকে ফোকলা বানিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ খাতে তিন লাখ দেনা করে গেছে। বিদ্যুতে কষ্ট পাচ্ছে মানুষ, গ্যাসের কষ্ট হচ্ছে। দেশের নিজস্ব গ্যাস ছিল, কিন্তু তারা নতুন কূপ খনন করেনি। বরং বিদেশিদের হাতে এই সেক্টর তুলে দিয়েছে। একটি দেশের জন্য স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করা হয়েছিল।