ঢাকা , রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যুবলীগ নেতাকে জামায়াত সাজিয়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগদান যা বললেন জাহেদ-উর রহমান বিএনপি জোটে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন! আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আমার ৩ শিশুকন্যাকে একটু দেখে রাইখেন: আমীর হামজা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রকাশ্য সমর্থন নিরপেক্ষতার লঙ্ঘন নয়, এটি দায়িত্ব ও সংস্কারমূলক ম্যান্ডেটের বহিঃপ্রকাশ আগামী সংসদ নির্বাচন ‘অত্যন্ত, অত্যন্ত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’: তারেক রহমান ‘মঞ্জুর মুন্সী আপিল নিয়ে যেতে পারবেন উচ্চ আদালতে, পক্ষে আদেশ পেলে থাকতে পারবেন ভোটের মাঠেও’ ছাত্রসংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করতে না পেরে নির্বাচন কমিশন অফিস ঘেরাও করেছে ছাত্রদল: শিবির সভাপতি ফের ইরানিদের বিক্ষোভের আহ্বান রেজা পাহলভির, এবার মেলেনি সাড়া বিয়ে করলেই মিলবে ১৬ লাখ টাকা অনুদান, সন্তান হলে দ্বিগুণ! ‎পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়, তারা রাষ্ট্রের কর্মচারী: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আমাকে ভালো থাকতে বলে ছেলে নিজেই না ফেরার দেশে চলে গেল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৪২:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৭০ বার পড়া হয়েছে

সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দিয়েছিলেন মাত্র এক মাস আট দিন আগে। বুকভরা স্বপ্ন ছিল—মিশন শেষ করে দেশে ফিরে বাবার পৈতৃক ভিটায় গড়ে তুলবেন একটি সুন্দর বাড়ি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্পোরাল মাসুদ রানার। সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় বিদেশের মাটিতেই নিভে গেল তার জীবনপ্রদীপ, ভেঙে চুরমার হয়ে গেল একটি পরিবারের তিল তিল করে জমানো স্বপ্ন।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের হামলায় শহীদ হন মাসুদ রানা। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আরবাব ইউনিয়নের বোয়ালিয়াপাড়া গ্রামের মৃত সাহার উদ্দিনের বড় ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সংসারের হাল ধরেন মাসুদ। নিজের সুখ-শখ বিসর্জন দিয়ে বড় করেন ছোট দুই ভাই মনিরুল ইসলাম ও রনি আলমকে। শুধু তাই নয়, তাদেরও গড়ে তুলেছেন সেনাবাহিনীর গর্বিত সদস্য হিসেবে। ভাইদের প্রতিষ্ঠা ও পরিবারের দায়িত্ব নিতে গিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন—পৈতৃক ভিটায় একটি আধুনিক পাকা বাড়ি নির্মাণ—বারবার পিছিয়ে যায়।

সর্বশেষ যশোর ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত অবস্থায় সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার সুযোগ পেলে নতুন করে আশায় বুক বাঁধেন মাসুদ রানা। পরিকল্পনা ছিল, মিশন শেষে ফিরলেই ঘুচবে অভাব, বাস্তবায়িত হবে স্বপ্নের বাড়ি। গত ৭ নভেম্বর স্ত্রী আসমাউল হুসনা আঁখি ও আট বছরের একমাত্র কন্যা মাগফিরাতুল মাওয়া আমিনাকে বিদায় জানিয়ে তিনি সুদানের উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু মাত্র ৩৮ দিনের মাথায় দেশের পতাকায় মোড়ানো কফিনই হয়ে উঠল তার শেষ ঠিকানা।

মাসুদের মৃত্যুর খবর প্রথম জানতে পারেন তার ছোট ভাই সেনাসদস্য রনি আলম। খবরটি গ্রামে পৌঁছাতেই বোয়ালিয়াপাড়া গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। শহীদের বাড়িতে এখন শুধুই কান্না আর আহাজারি।

শহীদ মাসুদ রানার মা মর্জিনা খাতুন ছেলের শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বিলাপ করে তিনি বলেন, “আমার ছেলে ভবিষ্যতের জন্য কিছুই রেখে যায়নি। যাওয়ার আগে বলেছিল দেশে ফিরে একটা সুন্দর বাড়ি করবে। গতকালই ফোনে কথা হলো। ডিউটির কষ্টের কথা জানতে চাইলে বলল—‘মা, এখন আর কষ্ট নাই, ডিউটি কম।’ আমাকে ভালো থাকতে বলে ছেলে নিজেই না ফেরার দেশে চলে গেল।”

প্রতিবেশীরা জানান, মাসুদ রানা ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও মিশুক স্বভাবের মানুষ। গ্রামের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন গর্বের প্রতীক। তার এমন আকস্মিক মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না।

রোববার বিকেলে শহীদ মাসুদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন নাটোর স্টেডিয়াম সেনাক্যাম্পের কমান্ডার মেজর মো. নাজমুল আলম আবীর। তিনি জানান, শহীদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সব ধরনের প্রচেষ্টা চলছে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শহীদের পরিবারের পাশে থাকবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যুবলীগ নেতাকে জামায়াত সাজিয়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগদান

আমাকে ভালো থাকতে বলে ছেলে নিজেই না ফেরার দেশে চলে গেল

আপডেট সময় ০৩:৪২:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দিয়েছিলেন মাত্র এক মাস আট দিন আগে। বুকভরা স্বপ্ন ছিল—মিশন শেষ করে দেশে ফিরে বাবার পৈতৃক ভিটায় গড়ে তুলবেন একটি সুন্দর বাড়ি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্পোরাল মাসুদ রানার। সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় বিদেশের মাটিতেই নিভে গেল তার জীবনপ্রদীপ, ভেঙে চুরমার হয়ে গেল একটি পরিবারের তিল তিল করে জমানো স্বপ্ন।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের হামলায় শহীদ হন মাসুদ রানা। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আরবাব ইউনিয়নের বোয়ালিয়াপাড়া গ্রামের মৃত সাহার উদ্দিনের বড় ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সংসারের হাল ধরেন মাসুদ। নিজের সুখ-শখ বিসর্জন দিয়ে বড় করেন ছোট দুই ভাই মনিরুল ইসলাম ও রনি আলমকে। শুধু তাই নয়, তাদেরও গড়ে তুলেছেন সেনাবাহিনীর গর্বিত সদস্য হিসেবে। ভাইদের প্রতিষ্ঠা ও পরিবারের দায়িত্ব নিতে গিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন—পৈতৃক ভিটায় একটি আধুনিক পাকা বাড়ি নির্মাণ—বারবার পিছিয়ে যায়।

সর্বশেষ যশোর ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত অবস্থায় সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার সুযোগ পেলে নতুন করে আশায় বুক বাঁধেন মাসুদ রানা। পরিকল্পনা ছিল, মিশন শেষে ফিরলেই ঘুচবে অভাব, বাস্তবায়িত হবে স্বপ্নের বাড়ি। গত ৭ নভেম্বর স্ত্রী আসমাউল হুসনা আঁখি ও আট বছরের একমাত্র কন্যা মাগফিরাতুল মাওয়া আমিনাকে বিদায় জানিয়ে তিনি সুদানের উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু মাত্র ৩৮ দিনের মাথায় দেশের পতাকায় মোড়ানো কফিনই হয়ে উঠল তার শেষ ঠিকানা।

মাসুদের মৃত্যুর খবর প্রথম জানতে পারেন তার ছোট ভাই সেনাসদস্য রনি আলম। খবরটি গ্রামে পৌঁছাতেই বোয়ালিয়াপাড়া গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। শহীদের বাড়িতে এখন শুধুই কান্না আর আহাজারি।

শহীদ মাসুদ রানার মা মর্জিনা খাতুন ছেলের শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বিলাপ করে তিনি বলেন, “আমার ছেলে ভবিষ্যতের জন্য কিছুই রেখে যায়নি। যাওয়ার আগে বলেছিল দেশে ফিরে একটা সুন্দর বাড়ি করবে। গতকালই ফোনে কথা হলো। ডিউটির কষ্টের কথা জানতে চাইলে বলল—‘মা, এখন আর কষ্ট নাই, ডিউটি কম।’ আমাকে ভালো থাকতে বলে ছেলে নিজেই না ফেরার দেশে চলে গেল।”

প্রতিবেশীরা জানান, মাসুদ রানা ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও মিশুক স্বভাবের মানুষ। গ্রামের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন গর্বের প্রতীক। তার এমন আকস্মিক মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না।

রোববার বিকেলে শহীদ মাসুদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন নাটোর স্টেডিয়াম সেনাক্যাম্পের কমান্ডার মেজর মো. নাজমুল আলম আবীর। তিনি জানান, শহীদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সব ধরনের প্রচেষ্টা চলছে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শহীদের পরিবারের পাশে থাকবে।