ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
“পদ্মা সেতুর পিলারের নিচে কারা কাটছে মাটি? উঠছে বড় প্রশ্ন” ৫৪ জেলার পানিতে বিপজ্জনক মাত্রায় আর্সেনিক-আয়রন, বাড়ছে ক্যানসারের আশঙ্কা পঞ্চম সন্তানের প্রত্যাশায় নেইমার, বাড়ছে বিশ্বকাপে না ফেরার আশঙ্কা আগামী তিন মাসের মধ্যে চীনে বিডার প্রথম বিদেশি অফিস খোলা হবে: আশিক চৌধুরী “ব্রাজিল শিবিরে বড় ধাক্কা, গ্রুপ পর্বেই নেই নেইমার” লন্ডনে এমপি হাসনাতের অনুষ্ঠানে ডিম নিক্ষেপ, আওয়ামী লীগ নেতাসহ আটক ৩ ২০০ ম্যাচের মহাকাব্যের দ্বারপ্রান্তে মেসি, গড়তে যাচ্ছেন নতুন ইতিহাস আমি জ্বালাময়ী কিছু সত্যি কথা বলব: অভিনেত্রী প্রভা নতুন গিলাফে সজ্জিত হলো পবিত্র কাবা শরিফ পুশইনের অভিযোগে নতুন মোড়, ২৩ জনকে নিয়ে সীমান্ত থেকে সরে গেল বিএসএফ

ধর্ষণ মামলায় নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলের ৪ বছরের কারাদণ্ড

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৬:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিটের ছেলে মারিয়াস বর্গ হোয়াইবি ধর্ষণসহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে চার বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। ওসলো জেলা আদালতের তিন বিচারকের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন।

২৯ বছর বয়সী হোয়াইবির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নির্যাতন, হুমকি প্রদান এবং মাদক-সংক্রান্ত অপরাধসহ মোট ৪০টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে চারটি ছিল ধর্ষণের অভিযোগ। আদালত দুটি ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দেন এবং বাকি দুটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেন। সব মিলিয়ে তিনি মোট ৩৪টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না হোয়াইবি। অসুস্থতার কারণে তিনি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

মামলাটি নরওয়ের রাজপরিবারকে সরাসরি না জড়ালেও দেশটিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মারিয়াস বর্গ হোয়াইবি ২০০১ সালে ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সঙ্গে মেটে-মারিটের বিয়ের আগের সম্পর্কের সন্তান। তিনি রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক সদস্য নন এবং কোনো রাজকীয় দায়িত্বও পালন করেন না।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, মামলায় ছয়জন নারী ভুক্তভোগী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। দুই নারীর অভিযোগ থেকে হোয়াইবিকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও, বাকি ঘটনাগুলোতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালে রাজপরিবারের স্কাগুম এস্টেটে এবং ২০২৪ সালে ওসলোতে পৃথক দুটি ঘটনায় দুই নারীকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও সহিংস আচরণের অভিযোগেরও প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালত আরও জানান, কয়েকজন ভুক্তভোগী ঘটনার সময় ঘুমন্ত বা অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরবর্তীতে হোয়াইবির ফোনে পাওয়া ভিডিও ফুটেজ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

রায় ঘোষণার পর হোয়াইবির আইনজীবীরা তাকে মুক্তির আবেদন জানান, যাতে তিনি অসুস্থ মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন। তবে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সেই আবেদন খারিজ করে দেন বিচারকরা। আদালত জানান, ভুক্তভোগীদের একজনের ক্ষেত্রে পূর্বেও নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের অভিযোগ ছিল।

এদিকে নরওয়ের এক অপরাধবিষয়ক বিশেষজ্ঞের ভাষ্য, দেশটিতে ধর্ষণ মামলায় প্রমাণের মানদণ্ড অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় অনেক অভিযোগ আদালতে টিকে না। এতে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে ভুক্তভোগীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

“পদ্মা সেতুর পিলারের নিচে কারা কাটছে মাটি? উঠছে বড় প্রশ্ন”

ধর্ষণ মামলায় নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলের ৪ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট সময় ১০:২৬:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিটের ছেলে মারিয়াস বর্গ হোয়াইবি ধর্ষণসহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে চার বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। ওসলো জেলা আদালতের তিন বিচারকের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন।

২৯ বছর বয়সী হোয়াইবির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নির্যাতন, হুমকি প্রদান এবং মাদক-সংক্রান্ত অপরাধসহ মোট ৪০টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে চারটি ছিল ধর্ষণের অভিযোগ। আদালত দুটি ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দেন এবং বাকি দুটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেন। সব মিলিয়ে তিনি মোট ৩৪টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না হোয়াইবি। অসুস্থতার কারণে তিনি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

মামলাটি নরওয়ের রাজপরিবারকে সরাসরি না জড়ালেও দেশটিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মারিয়াস বর্গ হোয়াইবি ২০০১ সালে ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সঙ্গে মেটে-মারিটের বিয়ের আগের সম্পর্কের সন্তান। তিনি রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক সদস্য নন এবং কোনো রাজকীয় দায়িত্বও পালন করেন না।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, মামলায় ছয়জন নারী ভুক্তভোগী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। দুই নারীর অভিযোগ থেকে হোয়াইবিকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও, বাকি ঘটনাগুলোতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালে রাজপরিবারের স্কাগুম এস্টেটে এবং ২০২৪ সালে ওসলোতে পৃথক দুটি ঘটনায় দুই নারীকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও সহিংস আচরণের অভিযোগেরও প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালত আরও জানান, কয়েকজন ভুক্তভোগী ঘটনার সময় ঘুমন্ত বা অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরবর্তীতে হোয়াইবির ফোনে পাওয়া ভিডিও ফুটেজ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

রায় ঘোষণার পর হোয়াইবির আইনজীবীরা তাকে মুক্তির আবেদন জানান, যাতে তিনি অসুস্থ মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন। তবে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সেই আবেদন খারিজ করে দেন বিচারকরা। আদালত জানান, ভুক্তভোগীদের একজনের ক্ষেত্রে পূর্বেও নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের অভিযোগ ছিল।

এদিকে নরওয়ের এক অপরাধবিষয়ক বিশেষজ্ঞের ভাষ্য, দেশটিতে ধর্ষণ মামলায় প্রমাণের মানদণ্ড অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় অনেক অভিযোগ আদালতে টিকে না। এতে বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে ভুক্তভোগীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।