ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বিএসএফকে পুশ ইনে সহায়তার অভিযোগে বিজিবির হাতে আটক ৭ বাংলাদেশি আদ্-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিনের পদত্যাগ ‘তারেক রহমান আসলেও কাজ হবে না’ বলা সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার নেতাকে কাঁধে তুলে স্লোগানের সময় ভিড়ের মধ্যে চড়-থাপ্পড় দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার প্রতিবাদ হিসেবে ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরেছি: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা “পদ্মা সেতুর পিলারের নিচে কারা কাটছে মাটি? উঠছে বড় প্রশ্ন” ৫৪ জেলার পানিতে বিপজ্জনক মাত্রায় আর্সেনিক-আয়রন, বাড়ছে ক্যানসারের আশঙ্কা পঞ্চম সন্তানের প্রত্যাশায় নেইমার, বাড়ছে বিশ্বকাপে না ফেরার আশঙ্কা আগামী তিন মাসের মধ্যে চীনে বিডার প্রথম বিদেশি অফিস খোলা হবে: আশিক চৌধুরী “ব্রাজিল শিবিরে বড় ধাক্কা, গ্রুপ পর্বেই নেই নেইমার”

“পদ্মা সেতুর পিলারের নিচে কারা কাটছে মাটি? উঠছে বড় প্রশ্ন”

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেখা দিয়েছে বিতর্ক ও উদ্বেগ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে মাটি অপসারণ অব্যাহত থাকলে সেতুর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমতির কাগজ দেখিয়ে পিলারের গোড়ার মাটি কেটে তা ইটভাটায় বিক্রি করছে প্রভাবশালী একটি চক্র। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফতুল্লার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান।

তিনি জানান, সেতুটি বাংলাদেশ রেলওয়ের আওতাধীন হলেও প্রকল্পটির দায়িত্বে রয়েছে সেনাবাহিনী। অন্যদিকে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দাবি, পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের নির্মাণকারী চায়না কোম্পানির ওয়ার্ক অর্ডার নিয়েই তারা কাজ করছেন এবং এটি প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ।

তবে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, অনুমতির দাবি করা হলেও বিতর্কের কারণে আপাতত মাটি কাটার কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা স্পষ্টভাবে বলেন, রেলওয়ে কখনো এ ধরনের মাটি কাটার অনুমোদন দেয়নি।

অন্যদিকে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের উপপরিচালক আমিনুল করিমের দাবি, পিলার নম্বর ৭৬ থেকে ৯০ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার এলাকা আগে জলাশয় ছিল। ভায়াডাক্ট নির্মাণের সময় ভরাট করা সেই স্থান পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেই খননকাজ চালানো হচ্ছিল।

একই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে সমন্বয়ের ঘাটতি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি পরিবেশ পুনরুদ্ধারের অংশ, নাকি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর পাশ থেকে অবৈধভাবে মাটি সরানোর ঘটনা? এখন সেই উত্তর খুঁজছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএসএফকে পুশ ইনে সহায়তার অভিযোগে বিজিবির হাতে আটক ৭ বাংলাদেশি

“পদ্মা সেতুর পিলারের নিচে কারা কাটছে মাটি? উঠছে বড় প্রশ্ন”

আপডেট সময় ১২:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেখা দিয়েছে বিতর্ক ও উদ্বেগ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে মাটি অপসারণ অব্যাহত থাকলে সেতুর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমতির কাগজ দেখিয়ে পিলারের গোড়ার মাটি কেটে তা ইটভাটায় বিক্রি করছে প্রভাবশালী একটি চক্র। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফতুল্লার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান।

তিনি জানান, সেতুটি বাংলাদেশ রেলওয়ের আওতাধীন হলেও প্রকল্পটির দায়িত্বে রয়েছে সেনাবাহিনী। অন্যদিকে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দাবি, পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের নির্মাণকারী চায়না কোম্পানির ওয়ার্ক অর্ডার নিয়েই তারা কাজ করছেন এবং এটি প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ।

তবে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, অনুমতির দাবি করা হলেও বিতর্কের কারণে আপাতত মাটি কাটার কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা স্পষ্টভাবে বলেন, রেলওয়ে কখনো এ ধরনের মাটি কাটার অনুমোদন দেয়নি।

অন্যদিকে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের উপপরিচালক আমিনুল করিমের দাবি, পিলার নম্বর ৭৬ থেকে ৯০ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার এলাকা আগে জলাশয় ছিল। ভায়াডাক্ট নির্মাণের সময় ভরাট করা সেই স্থান পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেই খননকাজ চালানো হচ্ছিল।

একই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে সমন্বয়ের ঘাটতি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি পরিবেশ পুনরুদ্ধারের অংশ, নাকি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর পাশ থেকে অবৈধভাবে মাটি সরানোর ঘটনা? এখন সেই উত্তর খুঁজছে স্থানীয় বাসিন্দারা।