ঢাকা , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হাসিনা অসুস্থতার কারণে তাকে সংবাদ সম্মেলন দেখা যায় না: আসিফ নজরুল পশ্চিমবঙ্গে ২৫২ টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি সরাতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ছাত্রদল আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আ.লীগ ব্যবসায়ী ও এমপিদের প্রটেকশন দিয়েছে: রাশেদ খাঁন এআই না জানলে মুসলিমরা পিছিয়ে পড়বে: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার নতুন পোশাক আইন করছে ভারত, বিপাকে মুসলিমরা ক্ষমতায় না যেতেই মজলুম থেকে জালিমে পরিণত হয়েছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসু ‘পাকিস্তান প্রেম’ জাহির করছে: ছাত্রদল

মৌসুমের আগেই পঞ্চগড়ে ধরা দিল কাঞ্চনজঙ্ঘা, ছুটছেন পর্যটকরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:০১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৯৩ বার পড়া হয়েছে

স্বাভাবিক সময়ের প্রায় এক মাস আগেই এবার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে দেখা মিলছে বিশ্বের অন্যতম উঁচু পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার। সাধারণত সেপ্টেম্বরের দিকে শীতের আমেজ শুরু হলে বরফে ঢাকা চূড়াটি দৃশ্যমান হলেও, এবার আগস্টের শুরু থেকেই মেঘমুক্ত আকাশ ও অনুকূল আবহাওয়ায় খালি চোখে দেখা যাচ্ছে পর্বতটি।

আগাম কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এর ছবি ও ভিডিও। আর সেই দৃশ্য দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তেঁতুলিয়ায় ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকেরা।

দিনের বিভিন্ন সময়ে বদলে যায় কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ। ভোরের কোমল আলো কিংবা বিকেলের শেষ রোদে বরফঢাকা চূড়া কখনো সাদা, কখনো গোলাপি আবার কখনো লালচে আভায় রাঙা হয়ে ওঠে। তবে সূর্য ওপরে উঠতে শুরু করলে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায় সেই মায়াবী দৃশ্য।

স্থানীয়রা বলছেন, আগস্টের শুরু থেকেই পরিষ্কার আকাশে নিয়মিত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে। ফলে পর্যটকদের আনাগোনাও বেড়েছে। এতে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পর্যটক বাড়লে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন তারা।

তেঁতুলিয়ার আকর্ষণ অবশ্য শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘায় সীমাবদ্ধ নয়। ডাকবাংলো এলাকা থেকে সন্ধ্যার পর দেখা যায় ভারতের দার্জিলিং ও শিলিগুড়ির পাহাড়ি জনপদের ঝলমলে আলো। দিনে বরফঢাকা পর্বত আর রাতে দূরের পাহাড়ের আলোকচ্ছটা—দুই ভিন্ন সৌন্দর্যই বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে পর্যটকদের কাছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও পঞ্চগড়ের পর্যটন সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের কারণে নেপাল, ভুটান এবং ভারতের দার্জিলিং-শিলিগুড়ি অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকায় এ জেলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আকাশ পরিষ্কার ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সাধারণত ভোর ও বিকেলে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। দেশের ভেতর থেকেই এমন বিরল প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ থাকায় প্রতি বছরই বাড়ছে পর্যটকের সংখ্যা।

ঢাকা থেকে ট্রেন বা বাসে সহজেই পঞ্চগড়ে যাওয়া যায়। এরপর স্থানীয় যানবাহনে ঘুরে দেখা যায় তেঁতুলিয়া, ডাকবাংলো, মহানন্দা নদীর তীর ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরসহ আশপাশের দর্শনীয় স্থান।

মৌসুম শুরুর আগেই কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মেলায় নতুন করে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সামনের দিনগুলোতে পর্যটকের আনাগোনা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনা অসুস্থতার কারণে তাকে সংবাদ সম্মেলন দেখা যায় না: আসিফ নজরুল

মৌসুমের আগেই পঞ্চগড়ে ধরা দিল কাঞ্চনজঙ্ঘা, ছুটছেন পর্যটকরা

আপডেট সময় ০২:০১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

স্বাভাবিক সময়ের প্রায় এক মাস আগেই এবার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে দেখা মিলছে বিশ্বের অন্যতম উঁচু পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার। সাধারণত সেপ্টেম্বরের দিকে শীতের আমেজ শুরু হলে বরফে ঢাকা চূড়াটি দৃশ্যমান হলেও, এবার আগস্টের শুরু থেকেই মেঘমুক্ত আকাশ ও অনুকূল আবহাওয়ায় খালি চোখে দেখা যাচ্ছে পর্বতটি।

আগাম কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এর ছবি ও ভিডিও। আর সেই দৃশ্য দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তেঁতুলিয়ায় ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকেরা।

দিনের বিভিন্ন সময়ে বদলে যায় কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ। ভোরের কোমল আলো কিংবা বিকেলের শেষ রোদে বরফঢাকা চূড়া কখনো সাদা, কখনো গোলাপি আবার কখনো লালচে আভায় রাঙা হয়ে ওঠে। তবে সূর্য ওপরে উঠতে শুরু করলে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায় সেই মায়াবী দৃশ্য।

স্থানীয়রা বলছেন, আগস্টের শুরু থেকেই পরিষ্কার আকাশে নিয়মিত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে। ফলে পর্যটকদের আনাগোনাও বেড়েছে। এতে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পর্যটক বাড়লে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন তারা।

তেঁতুলিয়ার আকর্ষণ অবশ্য শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘায় সীমাবদ্ধ নয়। ডাকবাংলো এলাকা থেকে সন্ধ্যার পর দেখা যায় ভারতের দার্জিলিং ও শিলিগুড়ির পাহাড়ি জনপদের ঝলমলে আলো। দিনে বরফঢাকা পর্বত আর রাতে দূরের পাহাড়ের আলোকচ্ছটা—দুই ভিন্ন সৌন্দর্যই বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে পর্যটকদের কাছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও পঞ্চগড়ের পর্যটন সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের কারণে নেপাল, ভুটান এবং ভারতের দার্জিলিং-শিলিগুড়ি অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকায় এ জেলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আকাশ পরিষ্কার ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সাধারণত ভোর ও বিকেলে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। দেশের ভেতর থেকেই এমন বিরল প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার সুযোগ থাকায় প্রতি বছরই বাড়ছে পর্যটকের সংখ্যা।

ঢাকা থেকে ট্রেন বা বাসে সহজেই পঞ্চগড়ে যাওয়া যায়। এরপর স্থানীয় যানবাহনে ঘুরে দেখা যায় তেঁতুলিয়া, ডাকবাংলো, মহানন্দা নদীর তীর ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরসহ আশপাশের দর্শনীয় স্থান।

মৌসুম শুরুর আগেই কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মেলায় নতুন করে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সামনের দিনগুলোতে পর্যটকের আনাগোনা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।