ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ফেসবুকে গালিগালাজ নিয়ন্ত্রণে আইন করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী ‘মাননীয়’ বাদ, অনলাইন হাজিরা: নিজ দপ্তর থেকেই নিয়ম মানার দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিলেন আফরোজা আব্বাস ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে: হাইকোর্ট পাকা ঘর নির্মাণ করা হলো না, দাদা-দাদির পাশে চিরনিদ্রায় পিয়াস সৌদি থেকে ফিরেই ঠাকুরগাঁও যাবেন হিরো আলম, শুরু করবেন নির্বাচনী প্রস্তুতি  মায়ের মৃত্যুতে ৫ ঘণ্টার জন্য মুক্তি পেলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বাতিল না করলে সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ-বিক্ষোভ শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের সম্পৃক্ততা নেই: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭৮ বার পড়া হয়েছে

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা। তবে বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দাবির অবস্থান থেকে সরে এসে একটি সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

ভারতের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বা কূটনৈতিকভাবে নেওয়া হবে না। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নিষ্পত্তি হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না, তা যাচাই করা হবে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠিয়েছে ভারতকে। ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিও এর সঙ্গে দেওয়া হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রত্যর্পণের অনুরোধটি প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।

২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি সেখান থেকেই যোগাযোগ রাখছেন বলে দলটির কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন।

এরই মধ্যে শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। গত ৫ আগস্ট এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দেশে ফেরার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিসেম্বরকে বাংলাদেশের বিজয়ের মাস উল্লেখ করে ওই মাসে ফেরার কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা দেন। এই রায়ের ভিত্তিতেই তার প্রত্যর্পণ চেয়ে আসছে বাংলাদেশ।

তবে আওয়ামী লীগের নেতাদের ধারণা, ভারতে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলে বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালের রায়কে বিভিন্ন আইনি যুক্তিতে চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে। বিশেষ করে রায়টি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়টিও আদালতে তোলা হতে পারে।

২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তিতে বিচারিকভাবে সাজাপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। রাজনৈতিক অপরাধ সাধারণত প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে থাকলেও হত্যা, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও হত্যায় প্ররোচনার মতো গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার বিধানও রয়েছে।

এ ছাড়া ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইন অনুযায়ী, কোনো অনুরোধ পাওয়ার পর সরকার চাইলে একজন অনুসন্ধানী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে পারে। অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনি প্রত্যর্পণের সুপারিশ করতে পারেন। প্রমাণ না মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ারও সুযোগ রয়েছে।

ফলে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি এখন শুধু কূটনৈতিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই; ভারতের আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত এই প্রত্যর্পণের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেসবুকে গালিগালাজ নিয়ন্ত্রণে আইন করবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত

আপডেট সময় ১১:২২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা। তবে বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দাবির অবস্থান থেকে সরে এসে একটি সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

ভারতের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বা কূটনৈতিকভাবে নেওয়া হবে না। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নিষ্পত্তি হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না, তা যাচাই করা হবে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠিয়েছে ভারতকে। ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিও এর সঙ্গে দেওয়া হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রত্যর্পণের অনুরোধটি প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।

২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তিনি সেখান থেকেই যোগাযোগ রাখছেন বলে দলটির কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন।

এরই মধ্যে শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। গত ৫ আগস্ট এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দেশে ফেরার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিসেম্বরকে বাংলাদেশের বিজয়ের মাস উল্লেখ করে ওই মাসে ফেরার কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা দেন। এই রায়ের ভিত্তিতেই তার প্রত্যর্পণ চেয়ে আসছে বাংলাদেশ।

তবে আওয়ামী লীগের নেতাদের ধারণা, ভারতে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলে বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালের রায়কে বিভিন্ন আইনি যুক্তিতে চ্যালেঞ্জ করা হতে পারে। বিশেষ করে রায়টি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়টিও আদালতে তোলা হতে পারে।

২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তিতে বিচারিকভাবে সাজাপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। রাজনৈতিক অপরাধ সাধারণত প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে থাকলেও হত্যা, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও হত্যায় প্ররোচনার মতো গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার বিধানও রয়েছে।

এ ছাড়া ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইন অনুযায়ী, কোনো অনুরোধ পাওয়ার পর সরকার চাইলে একজন অনুসন্ধানী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে পারে। অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনি প্রত্যর্পণের সুপারিশ করতে পারেন। প্রমাণ না মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ারও সুযোগ রয়েছে।

ফলে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি এখন শুধু কূটনৈতিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই; ভারতের আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত এই প্রত্যর্পণের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।