ঢাকা , রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান প্রস্তাব হাসনাতের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বিরোধী দলগুলোকে ছয় মাসের সময় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। একই সঙ্গে সংকট সমাধানে বেশ কিছু প্রস্তাবও তুলে ধরেছেন তিনি।

শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে হাসনাত বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা দিতে ছয় মাসের সময় দিয়েছেন। তারা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন এবং সমাধানের পরিকল্পনাও প্রস্তাব করছেন।

এর আগে বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে জ্বালানি সংকট সমাধানে নিজেদের পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বান জানান। কোনো দলের পরিকল্পনা ছয় মাসের মধ্যে সংকট সমাধান করতে পারলে তা বাস্তবায়নের কথাও বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের জবাবে হাসনাত দাবি করেন, বিদ্যুৎ সংকটের সমাধানে এরই মধ্যে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি মিলিয়ে ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

হাসনাতের অভিযোগ, এসব প্রস্তাব সরকার যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীসহ সরকারের বড় টিম থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের দেওয়া প্রস্তাবগুলো গুরুত্ব না পাওয়ায় তিনি সরকারের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন ডাকার দাবিও জানান এই সংসদ সদস্য। পাশাপাশি জ্বালানি পরিকল্পনা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা না থাকার অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

হাসনাত আরও বলেন, ডলার ও বকেয়ার কারণে বিদ্যুৎ-জ্বালানি কেনা যাচ্ছে না বলে সরকার যে যুক্তি দিচ্ছে, তার বিকল্প হিসেবে ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’ বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। তার দাবি, এই নীতির আওতায় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা সরাসরি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে। এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে না।

মহেশখালীর এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের পর রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায়ও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত।

তিনি বলেন, ছয় মাসের সময়সীমা তারা মেনে নিয়েছেন, তবে এই সময়ের হিসাব বিরোধী দলের নয়, সরকারের। ছয় মাসের মধ্যে প্রস্তাবিত নীতিগুলো বাস্তবায়ন করা না গেলে সেটি সরকারের সক্ষমতার ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষে হাসনাত বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারেরই জনগণের কাছে জবাবদিহি করার কথা। তাই ছয় মাস ক্ষমতায় থাকার পরও দেশে কেন বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং তৈরি হলো, সেই প্রশ্নের জবাব সরকারের দেওয়া উচিত।

তার ভাষায়, ‘সমাধান আমাদের হাতে আছে, কিন্তু ক্ষমতা আপনার হাতে।’ ছয় মাস পর জনগণ জানতে চাইবে—দেশ অন্ধকারে ছিল পরিকল্পনার অভাবে, নাকি ক্ষমতা প্রয়োগের সক্ষমতার অভাবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হাঙ্গেরিতে চালক ঘুমিয়ে পড়ায় উল্টে যায় বাস, নিহত ১২

প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান প্রস্তাব হাসনাতের

আপডেট সময় ১২:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বিরোধী দলগুলোকে ছয় মাসের সময় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। একই সঙ্গে সংকট সমাধানে বেশ কিছু প্রস্তাবও তুলে ধরেছেন তিনি।

শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে হাসনাত বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা দিতে ছয় মাসের সময় দিয়েছেন। তারা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন এবং সমাধানের পরিকল্পনাও প্রস্তাব করছেন।

এর আগে বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে জ্বালানি সংকট সমাধানে নিজেদের পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বান জানান। কোনো দলের পরিকল্পনা ছয় মাসের মধ্যে সংকট সমাধান করতে পারলে তা বাস্তবায়নের কথাও বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের জবাবে হাসনাত দাবি করেন, বিদ্যুৎ সংকটের সমাধানে এরই মধ্যে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি মিলিয়ে ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

হাসনাতের অভিযোগ, এসব প্রস্তাব সরকার যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীসহ সরকারের বড় টিম থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের দেওয়া প্রস্তাবগুলো গুরুত্ব না পাওয়ায় তিনি সরকারের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন ডাকার দাবিও জানান এই সংসদ সদস্য। পাশাপাশি জ্বালানি পরিকল্পনা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা না থাকার অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

হাসনাত আরও বলেন, ডলার ও বকেয়ার কারণে বিদ্যুৎ-জ্বালানি কেনা যাচ্ছে না বলে সরকার যে যুক্তি দিচ্ছে, তার বিকল্প হিসেবে ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫’ বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। তার দাবি, এই নীতির আওতায় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা সরাসরি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে। এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে না।

মহেশখালীর এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের পর রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায়ও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত।

তিনি বলেন, ছয় মাসের সময়সীমা তারা মেনে নিয়েছেন, তবে এই সময়ের হিসাব বিরোধী দলের নয়, সরকারের। ছয় মাসের মধ্যে প্রস্তাবিত নীতিগুলো বাস্তবায়ন করা না গেলে সেটি সরকারের সক্ষমতার ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষে হাসনাত বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারেরই জনগণের কাছে জবাবদিহি করার কথা। তাই ছয় মাস ক্ষমতায় থাকার পরও দেশে কেন বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং তৈরি হলো, সেই প্রশ্নের জবাব সরকারের দেওয়া উচিত।

তার ভাষায়, ‘সমাধান আমাদের হাতে আছে, কিন্তু ক্ষমতা আপনার হাতে।’ ছয় মাস পর জনগণ জানতে চাইবে—দেশ অন্ধকারে ছিল পরিকল্পনার অভাবে, নাকি ক্ষমতা প্রয়োগের সক্ষমতার অভাবে।