‘যৌতুকের জন্য ঘুসি মেরেছি, খুন তো করিনি’—স্ত্রীকে মারধরের বিষয়ে সাংবাদিক ও পুলিশের সামনেই এমন বক্তব্য দিয়েছেন মো. আকাশ (২১) নামে এক যুবক। যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে (২০) মারধর করে ডান চোখ রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি কোলে থাকা ২২ মাস বয়সি শিশুকন্যাকেও কেড়ে নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী। অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রায় সাড়ে চার বছর আগে সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ভুক্তভোগীর সঙ্গে একই ইউনিয়নের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মো. আকাশের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে।
অভিযোগে ভুক্তভোগী বলেন, বিয়ের পর থেকেই আকাশ, তার শাশুড়ি রেহেনা বেগম (৫০) এবং নানি শাশুড়ি সুফিয়া বেগম (৬৫) প্রায়ই তার কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। টাকা দিতে না পারায় তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এরই ধারাবাহিকতায় ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে যৌতুকের টাকার জন্য তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ডান চোখে সজোরে ঘুসি মারলে চোখের চারপাশ কালো হয়ে যায়। চোখের ভেতরে রক্ত জমে যায়। ওই সময় সুফিয়া বেগম তার চুল ধরে টানাটানি ও চড়–থাপ্পড় মেরে কোলে থাকা শিশুকন্যাকে কেড়ে নিয়ে গলা ধাক্কা দিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী বলেন, আমার স্বামী একজন মাদকসেবী। পাশাপাশি থাই জুয়ার সঙ্গে জড়িত। অল্পদিনের মধ্যে অঢেল অর্থের মালিক হওয়ায় আমাকে প্রায় সময় নির্যাতন করেন। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশকে একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চোখের অবস্থার অবনতি হলে বর্তমানে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় আকাশের পরিবার। তাদের দাবি, বিষয়টি পারিবারিক বিরোধ ও স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে বাগবিতণ্ডা থেকে তৈরি হয়েছে। তারা গুরুতর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে আকাশ বলেন, টাকার জন্য আমি তাকে একটি ঘুসি মেরেছি, খুন তো করিনি। তার দাবি, পারিবারিক একটি সাধারণ বিষয় নিয়ে ঝগড়ার সময় ঘটনাটি ঘটে এবং এটিকে গুরুতর নির্যাতন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে সৈয়দপুর থানায় উভয়পক্ষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সে মীমাংসায় রাজি না হওয়ায় সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। এ কারণে পুলিশ উভয়পক্ষকে সমঝোতার জন্য তিন দিনের সময় দিয়েছে। ভুক্তভোগী বলেন, এখানে সমঝোতার কিছু নেই। যৌতুকের জন্য আমার স্বামী আমাকে নির্যাতনের একপর্যায়ে ঘুসি মেরে চোখ নষ্ট করতে চেয়েছিল। এর আগে আমার স্বামী আমাকে একাধিকবার শারীরিক নির্যাতন করেছেন। আমরা গরিব বলে সঠিক বিচার পাই না। পুলিশ ও আমার স্বামীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে স্বামীর সঙ্গে ঘর–সংসার করতে বলছে। আমি গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশের কথা শুনে স্বামীর সংসারে গেলে আমাকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে পারে। তখন এর দায়ভার কে নেবে?
তিনি আরও বলেন, কারণ সে একজন মাদকসেবী এবং থাই জুয়া ও ভিসা প্রতারক। টাকার অহংকারে সে আমাকে মানুষ বলে গণ্য করে না। আমিসহ আমার পরিবার গরিব মানুষ। গরিবের বিচার না হলে আমি প্রধানমন্ত্রীর দুয়ারে বিচারের আশায় পড়ে থাকব। সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা বলেন, গৃহবধূর একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে এবং চোখ রক্তাক্ত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মিথিলার কাছে ক্ষমা চাওয়া না হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট 























