ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
একসঙ্গে র‍্যালি করলেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকরা, বিতরণ হলো খেজুর-সেভেন আপ একটানা ৪১ দিন জামাতে নামাজ পড়ায় ৯ শিশু পেল সাইকেল উপহার ‘খুনিদের সঙ্গে আঁতাত করে আইভীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে’ : পাটওয়ারী আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই অর্ধেক ফি, বিশ্বকাপ উপলক্ষে চিকিৎসকের বিশেষ ঘোষণা জন্মদিনের দিনই ঝুলন্ত মরদেহ, রহস্য ঘনীভূত বিমানবন্দর লোডারের মৃত্যুতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা, পুলিশের কাছ থেকে বিএনপি নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি আবারও আ. লীগের ফাঁদে পড়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন বাংলাদেশে যৌথ ড্রোন কারখানা গড়তে চায় তুরস্ক তুরস্ক বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু: জামায়াত আমির

শেখ হাসিনা-কামালের ১৪০০ বার মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিৎ: চিফ প্রসিকিউটর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩১৬ বার পড়া হয়েছে

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতা হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ১৪০০ ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে। একজন মানুষকে হত্যার জন্য যদি একবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, তাহলে ১৪০০ মানুষকে হত্যার দায়ে শেখ হাসিনাকে ১৪০০ বার ফাঁসি দিতে হবে। তবে আইনে এ বিধান না থাকায় সর্বোচ্চ দণ্ড মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন প্রসিকিউশন। এছাড়া চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের শাস্তির বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন প্রসিকিউশন।

টানা পাঁচদিন রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শেষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আদালতের কাছে চরম দণ্ড দেওয়ার আর্জি জানান। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ আবেদন জানান চিফ প্রসিকিউটর। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন।

ট্রাইব্যুনালকে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১৪০০ ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে। একজন মানুষকে হত্যার জন্য যদি একবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, তাহলে ১৪০০ মানুষকে হত্যার দায়ে শেখ হাসিনাকে ১৪০০ বার ফাঁসি দিতে হবে। কিন্তু আইনে এটা সম্ভব নয়। এজন্য মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আমরা তার চরম দণ্ড দেওয়ার জন্য আবেদন করছি। যদি তাকে এ দণ্ড দেওয়া হয় তাহলে ন্যায়বিচার পাবে দেশের জনগণ। এর আগে যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনার গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এনটিএমসি থেকে। এনটিএমসিতে যারা সার্ভিল্যান্সের (নজরদারি) দায়িত্বে নিয়োজিত তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যাদের কথোপকথন হয়েছে তাদেরকে এই সার্ভিল্যান্সের আওতায় এনেছিলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই মামলার বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা এসব ফোনালাপ রেকর্ড এনটিএমসি থেকে উদ্ধার করেছেন। যেহেতু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এসব ফোনালাপ রেকর্ড হয়েছে, সেহেতু এগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালকে বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এনটিএমসি থেকে যেহেতু এসব রেকর্ড উদ্ধার করা হয়েছে, সেহেতু এগুলো অফিসিয়াল ডকুমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হবে। এরপরও ফোনালাপের কণ্ঠস্বরগুলোর ফরেনসিক টেস্ট করা হয়েছে।

সিআইডি কর্তৃক করা টেস্টের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এগুলো শেখ হাসিনা, ইনু, তাপস ও মাসুদ কামালের। এগুলো এআই (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স) দিয়ে বানানো নয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ও বিবিসি এসব ফোনালাপ নিয়েও ডকুমেন্টারি তৈরি করেছে। তারা নিজস্ব বিশেষজ্ঞ দিয়ে এ ফোনালাপগুলো পরীক্ষা করেছে। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করা ও দমনে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে। সেসব হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো হয়েছে আন্দোলনকারীদের ওপর। তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া চিঠির প্রেক্ষিতে র‌্যাব ও পুলিশ জানিয়েছে, আন্দোলনের সময় ৩৬ বার ফ্লাই করেছে হেলিকপ্টারগুলো। এগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর রোডসহ বিভিন্ন স্থানের ওপর দিয়ে উড্ডয়ন করেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

একসঙ্গে র‍্যালি করলেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকরা, বিতরণ হলো খেজুর-সেভেন আপ

শেখ হাসিনা-কামালের ১৪০০ বার মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিৎ: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেট সময় ০৩:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতা হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ১৪০০ ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে। একজন মানুষকে হত্যার জন্য যদি একবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, তাহলে ১৪০০ মানুষকে হত্যার দায়ে শেখ হাসিনাকে ১৪০০ বার ফাঁসি দিতে হবে। তবে আইনে এ বিধান না থাকায় সর্বোচ্চ দণ্ড মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন প্রসিকিউশন। এছাড়া চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের শাস্তির বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন প্রসিকিউশন।

টানা পাঁচদিন রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শেষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আদালতের কাছে চরম দণ্ড দেওয়ার আর্জি জানান। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ আবেদন জানান চিফ প্রসিকিউটর। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন।

ট্রাইব্যুনালকে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১৪০০ ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে। একজন মানুষকে হত্যার জন্য যদি একবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, তাহলে ১৪০০ মানুষকে হত্যার দায়ে শেখ হাসিনাকে ১৪০০ বার ফাঁসি দিতে হবে। কিন্তু আইনে এটা সম্ভব নয়। এজন্য মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আমরা তার চরম দণ্ড দেওয়ার জন্য আবেদন করছি। যদি তাকে এ দণ্ড দেওয়া হয় তাহলে ন্যায়বিচার পাবে দেশের জনগণ। এর আগে যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনার গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এনটিএমসি থেকে। এনটিএমসিতে যারা সার্ভিল্যান্সের (নজরদারি) দায়িত্বে নিয়োজিত তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যাদের কথোপকথন হয়েছে তাদেরকে এই সার্ভিল্যান্সের আওতায় এনেছিলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই মামলার বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা এসব ফোনালাপ রেকর্ড এনটিএমসি থেকে উদ্ধার করেছেন। যেহেতু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এসব ফোনালাপ রেকর্ড হয়েছে, সেহেতু এগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালকে বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এনটিএমসি থেকে যেহেতু এসব রেকর্ড উদ্ধার করা হয়েছে, সেহেতু এগুলো অফিসিয়াল ডকুমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হবে। এরপরও ফোনালাপের কণ্ঠস্বরগুলোর ফরেনসিক টেস্ট করা হয়েছে।

সিআইডি কর্তৃক করা টেস্টের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এগুলো শেখ হাসিনা, ইনু, তাপস ও মাসুদ কামালের। এগুলো এআই (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স) দিয়ে বানানো নয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ও বিবিসি এসব ফোনালাপ নিয়েও ডকুমেন্টারি তৈরি করেছে। তারা নিজস্ব বিশেষজ্ঞ দিয়ে এ ফোনালাপগুলো পরীক্ষা করেছে। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করা ও দমনে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে। সেসব হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো হয়েছে আন্দোলনকারীদের ওপর। তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া চিঠির প্রেক্ষিতে র‌্যাব ও পুলিশ জানিয়েছে, আন্দোলনের সময় ৩৬ বার ফ্লাই করেছে হেলিকপ্টারগুলো। এগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর রোডসহ বিভিন্ন স্থানের ওপর দিয়ে উড্ডয়ন করেছে।