ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
“কূটনীতির চাপে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য ইসরায়েল”—ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বট বাহিনীর ট্রলে ক্ষুব্ধ শিক্ষামন্ত্রী: “ফেসবুকেই এখন দেশ চালায়” বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে মোমবাতি বিতরণ কর্মসূচি হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণা: লেবানন যুদ্ধবিরতির পর ইরানের কৌশলগত বার্তা খুলনায় পূর্ববিরোধের জেরে ছুরিকাঘাত, যুবক নিহত মেহেরপুরে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছিল ‘ছুটির ঘণ্টা’ সিনেমা, বাথরুমে বন্দি ছাত্রীকে অবশেষে উদ্ধার অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পড়লে জনগণের অনেক ভোগান্তি হয়: স্পিকার ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বলল চীন বাউফলের পাঁচ নবজাতকের অসহায় পরিবারে ড. মাসুদ এমপির মানবতার স্পর্শ সাবেক আইআরজিসি প্রধান কেন চান যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘স্থল আক্রমণ’ চালাক

হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণা: লেবানন যুদ্ধবিরতির পর ইরানের কৌশলগত বার্তা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:৩২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ এক মোড় নিল সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিস্থিতি। লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই Abbas Araghchi ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি আবারও ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ৪৮ দিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হচ্ছে।

আরাগচি বলেন, যুদ্ধবিরতির সময়কালে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। তবে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ইরান নির্ধারিত ‘সমন্বিত রুট’ অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একদিকে অবরোধ শিথিলের ইঙ্গিত, অন্যদিকে সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার কৌশল।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। যদিও এই চুক্তিতে সরাসরি Hezbollah-এর নাম উল্লেখ না থাকায় শুরু থেকেই কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। তবুও ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ইঙ্গিত করছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা সাময়িকভাবে প্রশমনের পথে।

বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর ইরান এই প্রণালি বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়—তেলের দাম বেড়ে যায় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত।

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতি ও জ্বালানি বিশ্লেষকরা। তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, আঞ্চলিক সংঘাত পুরোপুরি নিরসন না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি থেকেই যাবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

“কূটনীতির চাপে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য ইসরায়েল”—ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণা: লেবানন যুদ্ধবিরতির পর ইরানের কৌশলগত বার্তা

আপডেট সময় ০৭:৩২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ এক মোড় নিল সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিস্থিতি। লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই Abbas Araghchi ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি আবারও ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ৪৮ দিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হচ্ছে।

আরাগচি বলেন, যুদ্ধবিরতির সময়কালে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। তবে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ইরান নির্ধারিত ‘সমন্বিত রুট’ অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একদিকে অবরোধ শিথিলের ইঙ্গিত, অন্যদিকে সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার কৌশল।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। যদিও এই চুক্তিতে সরাসরি Hezbollah-এর নাম উল্লেখ না থাকায় শুরু থেকেই কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। তবুও ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ইঙ্গিত করছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা সাময়িকভাবে প্রশমনের পথে।

বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর ইরান এই প্রণালি বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়—তেলের দাম বেড়ে যায় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত।

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতি ও জ্বালানি বিশ্লেষকরা। তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, আঞ্চলিক সংঘাত পুরোপুরি নিরসন না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি থেকেই যাবে।