বিশ্বকাপ ফুটবলের ‘গ্রুপ আই’ এ আজ রাত ১টায় মুখোমুখি হবে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ও আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল সেনেগাল। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি শুধু গ্রুপপর্বের লড়াই নয়, বরং দুই দলের পুরোনো হিসাব মেলানোরও উপলক্ষ।
ফ্রান্স ও সেনেগালের নাম একসঙ্গে উচ্চারিত হলেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে ভেসে ওঠে ২০০২ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচ। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই সেনেগাল ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলে বড় চমক সৃষ্টি করেছিল। পাপা বুবা দিয়পের সেই গোল আজও সেনেগালের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। দুই দলের ইতিহাসে সেটিই ছিল একমাত্র প্রতিযোগিতামূলক সাক্ষাৎ, যেখানে জয়ী হয়েছিল আফ্রিকার দলটি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফ্রান্স অন্যতম সফল দল। ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালে শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ২০০৬ ও ২০২২ সালে রানার্সআপ হয়েছিল ‘লে ব্লু’রা। বিশ্বমঞ্চে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে এবারের আসরেও শিরোপাপ্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছে তারা।
অন্যদিকে সেনেগালের বিশ্বকাপ ইতিহাস তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও বেশ গৌরবময়। ২০০২ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল দলটি, যা এখনো আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সেরা অর্জনের মধ্যে গণ্য হয়। এছাড়া ২০২২ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতেও জায়গা করে নিয়েছিল তারা।
বর্তমান শক্তিমত্তার বিচারে ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকেরা। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া ফরাসি দল আক্রমণভাগে ভয়ঙ্কর। এমবাপ্পে ইতোমধ্যে বিশ্বকাপে ১২ গোল করে নতুন রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন।
তবে সেনেগালও কম শক্তিশালী নয়। সাদিও মানে, ইদ্রিসা গেইদের অভিজ্ঞতা এবং আফ্রিকান ফুটবলের গতিময়তা ফ্রান্সকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারে। সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও নিজেও ২০০২ সালে ফ্রান্সকে হারানো ঐতিহাসিক দলের সদস্য ছিলেন, ফলে ম্যাচটি তার জন্যও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
বিশ্বকাপের নতুন অভিযানে দুই দলেরই লক্ষ্য জয় দিয়ে শুরু করা। ফ্রান্স চাইবে ২৪ বছর আগের সেই দুঃসহ স্মৃতির প্রতিশোধ নিতে, আর সেনেগাল চাইবে আবারও বিশ্বমঞ্চে চমক দেখিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে। সব মিলিয়ে রাতের এই লড়াইটি বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















