ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শিবিরে অবশেষে কিছুটা স্বস্তির খবর। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর প্রথমবার দলের সঙ্গে মাঠে অনুশীলন করেছেন নেইমার। কাফ ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের শুরুটা মিস করা ব্রাজিলের ১০ নম্বর ধীরে ধীরে ফেরার পথে। তবে ম্যাচে ফেরার অপেক্ষা আরও লম্বা হতে পারে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর এই প্রথম মাঠে দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন নেইমার। তবে তাঁকে নিয়ে এখনো সতর্ক ব্রাজিল শিবির। সাম্প্রতিক মেডিকেল পরীক্ষার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনও তাড়াহুড়া করতে চায় না। দলের ভেতরের বার্তা, সবকিছু প্রত্যাশার মধ্যেই আছে, কিন্তু ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ নেই।
এই পরিস্থিতিতে গ্রুপ পর্বে নেইমারের খেলার সম্ভাবনা খুব কম। শুরুতে ধারণা করা হচ্ছিল, হাইতির বিপক্ষে কিছু সময়ের জন্য তাঁকে দেখা যেতে পারে। এরপর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হয়তো আরও কিছু মিনিট পেতে পারেন। কিন্তু নতুন পরিস্থিতিতে সেই পরিকল্পনা আপাতত পিছিয়ে গেছে। হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর খেলা কঠিন, প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে।
কাফ ইনজুরির কারণে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে খেলতে পারেননি নেইমার। সেই ম্যাচে ১-১ ড্র করে ব্রাজিল। প্রথমার্ধে ছন্নছাড়া ফুটবল, মাঝমাঠের অস্বস্তি ও আক্রমণে ধারহীনতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এমন সময়ে নেইমারের সম্ভাব্য ফেরা নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে।
তবে ব্রাজিল জানে, নেইমারকে তাড়াহুড়া করে নামানো বিপজ্জনক হতে পারে। তাঁর ফিটনেস নিয়ে বছরের শুরু থেকেই আলোচনা ছিল। সান্তোসের হয়ে খেলার সময় পাওয়া কাফ ইনজুরিই বিশ্বকাপের শুরুতে তাঁকে বাইরে রেখেছে। এখন যদি আবার ধাক্কা লাগে, তাহলে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ কারণে ব্রাজিলের পরিকল্পনা এখন পরিষ্কার, নেইমারকে পুরোপুরি প্রস্তুত করেই মাঠে ফেরানো। গ্রুপ পর্বে তাঁকে না পেলেও নকআউট পর্বে ব্যবহার করার আশাই বেশি বাস্তবসম্মত মনে করছে দল। ব্রাজিল এখনো তাঁর ওপর আস্থা হারায়নি। বরং তাঁকে ধীরে ধীরে সেরা অবস্থায় ফেরাতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
দলের ভেতরেও নেইমারকে ঘিরে আশার সুর আছে। সংবাদ সম্মেলনে ডগলাস সান্তোস বলেছেন, নেইমার শতভাগ ফিট হলে ব্রাজিলের জন্য বড় সাহায্য হবেন। তাঁর ভাষায়, নেইমারকে পুরোপুরি সুস্থ অবস্থায় পাওয়ার আশা এখনো অনেক বেশি। সবাই তাঁর সুস্থতার জন্য অপেক্ষা করছে।
তবে এটাও পরিষ্কার, নেইমার ফিরলেই তিনি সরাসরি একাদশে জায়গা পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। আনচেলত্তির ব্রাজিলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, মাতেউস কুনিয়া, ইগর থিয়াগো ও এন্দ্রিকদের নিয়ে আক্রমণে প্রতিযোগিতা আছে। নেইমার এখন দলের বড় নাম, বড় অভিজ্ঞতা ও বিশেষ মুহূর্তের অস্ত্র; কিন্তু তাঁর ভূমিকা নির্ভর করবে ফিটনেসের ওপর।
মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর ব্রাজিলের সামনে এখন হাইতি। এরপর গ্রুপের শেষ ম্যাচ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এই দুই ম্যাচে নেইমারকে না পেলেও ব্রাজিলকে ফল তুলতেই হবে। কারণ প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারানোয় আনচেলত্তির দলের ওপর চাপ বেড়েছে।
নেইমারের জন্য তাই এখন লড়াইটা সময়ের সঙ্গে। মাঠে ফিরেছেন, সেটি ভালো খবর। কিন্তু ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় ফিরতে আরও সময় লাগবে। ব্রাজিলের আশাও তাই গ্রুপ পর্ব নয়, বরং টুর্নামেন্টের পরের ধাপ।
নেইমার যত এগোচ্ছেন, ব্রাজিলও তত অপেক্ষায়। কারণ এই বিশ্বকাপে তাঁর ভূমিকা হয়তো শুরুতে নয়, বড় মুহূর্তে দরকার হতে পারে। আর নেইমার শতভাগ ফিট হলে ব্রাজিলের আক্রমণ যে নতুন মাত্রা পাবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















