ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে ইংল্যান্ড, জমে উঠেছে সেমিফাইনাল আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে আবার বিয়ে করার ঘোষণা পরীমনির শহীদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেমিফাইনালের আগে যে কারণে বিদায়ী বার্তা দিলেন মেসি ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে ১৮ দিন ধরে অনশনে সোনম ওয়াংচুক ইরানে ৯০ মিনিটের ‘বিশেষ অভিযান’, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনাকে হ্যারি কেনের কড়া বার্তা শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে: নাহিদ আইনের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খামেনির জানাজায় ৪ কোটির বেশি মানুষ অংশ নিয়েছে: ইরান

তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না’ বলে চাঁদা দাবি করা ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৪০:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

এখানে স্বয়ং তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না, প্রাইম মিনিস্টার আইলেও কাজ হইব না’—চাঁদা দাবি করে এমন কথা বলার ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের এক ওয়ার্ড সভাপতিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এবং দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকনেতার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

বহিষ্কৃত নেতা হলেন গাজীপুর মহানগরের ৫১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি রাতুল শিকদার ওরফে অমি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগকারী বাংলাদেশ পোশাকশ্রমিক ট্রেডিং ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আজ মঙ্গলবার গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গত রাতেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে রাতুল শিকদার অমিকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কল রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে এক ব্যক্তির কাছে টাকা দাবি এবং টাকা না দিলে হুমকি দিতে শোনা যায় রাতুল শিকদারকে। অডিওটি প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হলে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের নজরে বিষয়টি আসে। পরে তদন্তসাপেক্ষে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার সকালে মাজহারুল ইসলাম টঙ্গী পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে রাতুল শিকদারসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, সাতাইশ এলাকায় শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিয়মিত চাঁদা দাবি করতেন। পরে কার্যালয় স্থানান্তর করা হলেও সেখানে গিয়েও চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়। দাবি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় কয়েক মাস আগে তাঁকে জোর করে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে ৬৫ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া অডিওতে রাতুল শিকদারকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি আমাকে একদিন দিয়েছেন এক হাজার টাকা, আরেক দিন দিয়েছেন পাঁচ শ টাকা। আজকে ভাই দুই-তিন হাজার টাকা দিয়েন। আপনি টাকাটা পাঠান না কেন বুঝলাম না। অফিসের কিন্তু কিছুই বার করতে পারবেন না। আপনি টাইম দিয়েছেন পাঁচটা। সাড়ে ৫টার পর কয়ডা ফোন দিলাম, ফোন ধরেন নাই।’ একপর্যায়ে তিনি আরও বলেন, ‘এখানে স্বয়ং তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না। আপনি তো পাপ্পু সরকারের নাম বেচেন মিয়া। আপনি সুমন লস্কররে কইয়েন, তারেক রহমানের নাম কইলেও কাজ হইব না। এইডা আমার বাড়ির রোড। এখানে প্রাইম মিনিস্টার আইলেও কাজ হইব না। আমি ফাপরে ডরাই না।’

তবে অভিযোগের বিষয়ে রাতুল শিকদারের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তাঁর মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, ছাত্রদল নেতা রাতুল শিকদারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে ইংল্যান্ড, জমে উঠেছে সেমিফাইনাল

তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না’ বলে চাঁদা দাবি করা ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

আপডেট সময় ১২:৪০:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

এখানে স্বয়ং তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না, প্রাইম মিনিস্টার আইলেও কাজ হইব না’—চাঁদা দাবি করে এমন কথা বলার ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের এক ওয়ার্ড সভাপতিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এবং দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকনেতার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

বহিষ্কৃত নেতা হলেন গাজীপুর মহানগরের ৫১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি রাতুল শিকদার ওরফে অমি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগকারী বাংলাদেশ পোশাকশ্রমিক ট্রেডিং ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আজ মঙ্গলবার গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গত রাতেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে রাতুল শিকদার অমিকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কল রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে এক ব্যক্তির কাছে টাকা দাবি এবং টাকা না দিলে হুমকি দিতে শোনা যায় রাতুল শিকদারকে। অডিওটি প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হলে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের নজরে বিষয়টি আসে। পরে তদন্তসাপেক্ষে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার সকালে মাজহারুল ইসলাম টঙ্গী পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে রাতুল শিকদারসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, সাতাইশ এলাকায় শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিয়মিত চাঁদা দাবি করতেন। পরে কার্যালয় স্থানান্তর করা হলেও সেখানে গিয়েও চাঁদা আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়। দাবি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় কয়েক মাস আগে তাঁকে জোর করে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে ৬৫ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া অডিওতে রাতুল শিকদারকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি আমাকে একদিন দিয়েছেন এক হাজার টাকা, আরেক দিন দিয়েছেন পাঁচ শ টাকা। আজকে ভাই দুই-তিন হাজার টাকা দিয়েন। আপনি টাকাটা পাঠান না কেন বুঝলাম না। অফিসের কিন্তু কিছুই বার করতে পারবেন না। আপনি টাইম দিয়েছেন পাঁচটা। সাড়ে ৫টার পর কয়ডা ফোন দিলাম, ফোন ধরেন নাই।’ একপর্যায়ে তিনি আরও বলেন, ‘এখানে স্বয়ং তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না। আপনি তো পাপ্পু সরকারের নাম বেচেন মিয়া। আপনি সুমন লস্কররে কইয়েন, তারেক রহমানের নাম কইলেও কাজ হইব না। এইডা আমার বাড়ির রোড। এখানে প্রাইম মিনিস্টার আইলেও কাজ হইব না। আমি ফাপরে ডরাই না।’

তবে অভিযোগের বিষয়ে রাতুল শিকদারের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তাঁর মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, ছাত্রদল নেতা রাতুল শিকদারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।