ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইনকিলাব মঞ্চের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা, জায়গা পেলেন ওসমান হাদিও আগে ভোট চুরি হতো এবার বিএনপি ফল চুরি করেছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ রক্ত লেখা ইতিহাস কখনো মুছে যায় না: নাহিদ ইসলাম ভারতের দিকে তাক করা চীনের ১১ স্টেলথ যুদ্ধবিমান, স্যাটেলাইট ইমেজে অবাক করা দৃশ্য তিন শিক্ষার্থীকে পে’টা’লে’ন সালাহউদ্দিন আম্মারসহ শিবির নেতারা ৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর ‘চুক্তিভঙ্গ’ করেছে মোদি সরকার, ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ‘তেলাপোকার’ হরমুজ আমাদের নিয়ন্ত্রণে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চাইনি: ইরান সরকার সেই পুরোনো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে: গোলাম পরওয়ার ‘ভালুকার এমপির আমলনামা পড়ে শেষ করতে পারিনি’: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

‘ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন ট্রাম্প’,  উদ্বিগ্ন কট্টরপন্থি রিপাবলিকানরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:১৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • ৮৩ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক সই করা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প সমালোচনার পাশাপাশি নিজ দলেরই প্রভাবশালী কট্টরপন্থি নেতাদের বিরাগভাজন হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি যদি ওবামার আমলের পরমাণু চুক্তির মতো দুর্বল হয়, তবে এটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে।

কট্টরপন্থীদের ক্ষোভের প্রধান কারণ হলো চুক্তির শর্তাবলীর অস্বচ্ছতা। চুক্তির মূল শর্ত বা এমওইউর বিস্তারিত জনসম্মুখে প্রকাশ না করায় ক্ষোভ বাড়ছে। ফক্স নিউজের উপস্থাপক মার্ক লেভিনসহ অনেকেই একে অস্বচ্ছ ও রহস্যময় বলে অভিহিত করেছেন। সমালোচকদের বড় একটি অংশ আশঙ্কা করছেন যে, ট্রাম্প নিজেই যে পরমাণু চুক্তি একসময় বাতিল করেছিলেন, এবার তারই একটি দুর্বল সংস্করণ জোড়াতালি দিয়ে ফিরিয়ে আনছেন। এটি তাদের কাছে অপমানজনক মনে হচ্ছে।

এছাড়া ইরানকে বেসামরিক ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কার্যকর বিধিনিষেধ না রাখাকে তারা কার্যত ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখছেন। ইরানি পুনর্গঠন তহবিলের বিপুল অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক চলছে, যাকে সমালোচকরা নাৎসি জার্মানিকে মার্শাল প্ল্যান দেওয়ার মতো ভুল সিদ্ধান্তের সঙ্গে তুলনা করছেন।

ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম চুক্তির প্রতি সমর্থন জানানোর চেয়ে চিন্তিত থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই চুক্তির জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন অপরিহার্য। অন্যদিকে, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন এবং চুক্তিতে মার্কিন স্বার্থ রক্ষার আবেদন জানিয়েছেন। ফক্স নিউজের উপস্থাপক মার্ক লেভিন ও ন্যাশনাল রিভিউর সম্পাদকরা সরাসরি প্রশাসনের কর্মকাণ্ডকে হতাশাজনক ও দুর্বল বলে সমালোচনা করেছেন। রক্ষণশীল ভাষ্যকার এরিক এরিকসন ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্প এখন অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষার মুখে রয়েছেন। তিনি যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে এসে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে চাইলেও তাঁর এই কৌশল উল্টো তাকে নিজস্ব রাজনৈতিক বলয়ে কোণঠাসা করে ফেলছে। ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য দ্রুত এই সংঘাত শেষ করা, কিন্তু তাঁর এই শান্তিপ্রয়াসী মনোভাব ইরানকে একটি ভালো চুক্তির জন্য অপেক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে। চুক্তির মূল লিখিত রূপ প্রকাশ না করা পর্যন্ত এটি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটবে না। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, যদি ডানপন্থী সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল হয় যে ট্রাম্প ওবামার ব্যর্থ নীতিকেই পুনরাবৃত্তি করছেন, তবে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইনকিলাব মঞ্চের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা, জায়গা পেলেন ওসমান হাদিও

‘ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন ট্রাম্প’,  উদ্বিগ্ন কট্টরপন্থি রিপাবলিকানরা

আপডেট সময় ০২:১৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক সই করা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প সমালোচনার পাশাপাশি নিজ দলেরই প্রভাবশালী কট্টরপন্থি নেতাদের বিরাগভাজন হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি যদি ওবামার আমলের পরমাণু চুক্তির মতো দুর্বল হয়, তবে এটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে।

কট্টরপন্থীদের ক্ষোভের প্রধান কারণ হলো চুক্তির শর্তাবলীর অস্বচ্ছতা। চুক্তির মূল শর্ত বা এমওইউর বিস্তারিত জনসম্মুখে প্রকাশ না করায় ক্ষোভ বাড়ছে। ফক্স নিউজের উপস্থাপক মার্ক লেভিনসহ অনেকেই একে অস্বচ্ছ ও রহস্যময় বলে অভিহিত করেছেন। সমালোচকদের বড় একটি অংশ আশঙ্কা করছেন যে, ট্রাম্প নিজেই যে পরমাণু চুক্তি একসময় বাতিল করেছিলেন, এবার তারই একটি দুর্বল সংস্করণ জোড়াতালি দিয়ে ফিরিয়ে আনছেন। এটি তাদের কাছে অপমানজনক মনে হচ্ছে।

এছাড়া ইরানকে বেসামরিক ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কার্যকর বিধিনিষেধ না রাখাকে তারা কার্যত ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখছেন। ইরানি পুনর্গঠন তহবিলের বিপুল অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক চলছে, যাকে সমালোচকরা নাৎসি জার্মানিকে মার্শাল প্ল্যান দেওয়ার মতো ভুল সিদ্ধান্তের সঙ্গে তুলনা করছেন।

ট্রাম্পের মিত্র হিসেবে পরিচিত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম চুক্তির প্রতি সমর্থন জানানোর চেয়ে চিন্তিত থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই চুক্তির জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন অপরিহার্য। অন্যদিকে, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন এবং চুক্তিতে মার্কিন স্বার্থ রক্ষার আবেদন জানিয়েছেন। ফক্স নিউজের উপস্থাপক মার্ক লেভিন ও ন্যাশনাল রিভিউর সম্পাদকরা সরাসরি প্রশাসনের কর্মকাণ্ডকে হতাশাজনক ও দুর্বল বলে সমালোচনা করেছেন। রক্ষণশীল ভাষ্যকার এরিক এরিকসন ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্প এখন অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষার মুখে রয়েছেন। তিনি যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে এসে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে চাইলেও তাঁর এই কৌশল উল্টো তাকে নিজস্ব রাজনৈতিক বলয়ে কোণঠাসা করে ফেলছে। ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য দ্রুত এই সংঘাত শেষ করা, কিন্তু তাঁর এই শান্তিপ্রয়াসী মনোভাব ইরানকে একটি ভালো চুক্তির জন্য অপেক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে। চুক্তির মূল লিখিত রূপ প্রকাশ না করা পর্যন্ত এটি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটবে না। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, যদি ডানপন্থী সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল হয় যে ট্রাম্প ওবামার ব্যর্থ নীতিকেই পুনরাবৃত্তি করছেন, তবে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।