ঢাকা , সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আমরা আবারও আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি: নাহিদ ইসলাম নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তেল আবিবের রাস্তায় নেমে এল হাজার হাজার মানুষ ২ মাসের মধ্যে তেল শোধন ক্ষমতা ৮০ শতাংশে ফেরাতে চায় ইরান জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজির মাধ্যমে সংসদে যাত্রা শুরু করেছে বিএনপি: জামায়াতে আমির এসএসসি পরীক্ষার হল পরিদর্শনে এমপিরা যেতে পারবেন না: শিক্ষামন্ত্রী জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে কোনো দলের ব্যানারে দেখতে চাই না: সারজিস আলোচনা ব্যর্থ: পাকিস্তান ছাড়লো ইরানি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসঘাতকতা ও বিদ্বেষের কথা আমরা ভুলব না: ইরান সরকারের সিদ্ধান্তেই ইন্টারনেট বন্ধ হয়: জয়-পলকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন আইএসপিএবি সভাপতি ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা যখন ব্যর্থ হচ্ছিল, ট্রাম্প তখন কুস্তি খেলা দেখছিলেন

গোপালগঞ্জে কারফিউ চলছে, পরিবেশ থমথমে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৫:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫
  • ৩৩৬ বার পড়া হয়েছে

এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঘোষিত পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৬ জুলাই) গোপালগঞ্জে ভয়াবহ সহিংসতা, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুরো দিনজুড়ে দফায় দফায় সংঘর্ষের জেরে সন্ধ্যায় সরকার ২২ ঘণ্টার কারফিউ জারি করে, যা রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। কারফিউ চলাকালে গোপালগঞ্জ শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।

এনসিপি’র ঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ ঘিরে গতকাল বুধবার গোপালগঞ্জে ওই হামলা চালায় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এই ঘটনায় চারজনজন নিহত এবং অন্তত ৯ জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। গোপালগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক-উৎকণ্ঠার রাত পেরিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে থমথমে পরিবেশ। তবে, কারফিউ থাকলেও দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষের পেটের তাগিতে সকালে দু-একজন করে রাস্তায় বেরিয়েছেন। এছাড়া দুই-একটি রিকশাও চলতে দেখা গেছে। শহরের সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, পুলিশ সঙ্গে যোগাযোগ করেও এ ঘটনায় মামলা, অভিযান বা গ্রেপ্তার হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। বুধবার গোপালগঞ্জে সভা শেষে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়। এতে হামলাকারী ও পুলিশের মধ্যে দিনভর সংঘর্ষ চলে। এতে পুরো শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

বিকেল পাঁচটার দিকে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সহায়তায় গোপালগঞ্জ ত্যাগ করেন এনসিপির নেতারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এনসিপির নেতা আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম সেনাবাহিনীর একটি সাঁজোয়া যানের (এপিসি) মধ্যে প্রবেশ করছেন। এরপর গোপালগঞ্জ থেকে গাড়িবহর নিয়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে খুলনা শহরে পৌঁছান এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা খুলনা সার্কিট হাউস ও একটি হোটেলে উঠেন।

এদিকে গোপালগঞ্জে দিনভর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সময় চারজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন জেলা শহরের উদয়ন রোডের সন্তোষ সাহার ছেলে যুবলীগ সদস্য দীপ্ত সাহা (২৫), শহরের থানাপাড়ার কামরুল কাজীর ছেলে রমজান কাজী (২৪), সদর উপজেলার আড়পাড়া এলাকার আজাদ তালুকদারের ছেলে ইমন তালুকদার (১৮) ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ইদ্রিস মোল্যার ছেলে সোহেল মোল্যা। গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেছেন, বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা আবারও আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি: নাহিদ ইসলাম

গোপালগঞ্জে কারফিউ চলছে, পরিবেশ থমথমে

আপডেট সময় ১০:২৫:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫

এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঘোষিত পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৬ জুলাই) গোপালগঞ্জে ভয়াবহ সহিংসতা, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুরো দিনজুড়ে দফায় দফায় সংঘর্ষের জেরে সন্ধ্যায় সরকার ২২ ঘণ্টার কারফিউ জারি করে, যা রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে আজ বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। কারফিউ চলাকালে গোপালগঞ্জ শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।

এনসিপি’র ঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ ঘিরে গতকাল বুধবার গোপালগঞ্জে ওই হামলা চালায় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এই ঘটনায় চারজনজন নিহত এবং অন্তত ৯ জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। গোপালগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক-উৎকণ্ঠার রাত পেরিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে থমথমে পরিবেশ। তবে, কারফিউ থাকলেও দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষের পেটের তাগিতে সকালে দু-একজন করে রাস্তায় বেরিয়েছেন। এছাড়া দুই-একটি রিকশাও চলতে দেখা গেছে। শহরের সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, পুলিশ সঙ্গে যোগাযোগ করেও এ ঘটনায় মামলা, অভিযান বা গ্রেপ্তার হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। বুধবার গোপালগঞ্জে সভা শেষে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়। এতে হামলাকারী ও পুলিশের মধ্যে দিনভর সংঘর্ষ চলে। এতে পুরো শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

বিকেল পাঁচটার দিকে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সহায়তায় গোপালগঞ্জ ত্যাগ করেন এনসিপির নেতারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এনসিপির নেতা আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম সেনাবাহিনীর একটি সাঁজোয়া যানের (এপিসি) মধ্যে প্রবেশ করছেন। এরপর গোপালগঞ্জ থেকে গাড়িবহর নিয়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে খুলনা শহরে পৌঁছান এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা খুলনা সার্কিট হাউস ও একটি হোটেলে উঠেন।

এদিকে গোপালগঞ্জে দিনভর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সময় চারজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন জেলা শহরের উদয়ন রোডের সন্তোষ সাহার ছেলে যুবলীগ সদস্য দীপ্ত সাহা (২৫), শহরের থানাপাড়ার কামরুল কাজীর ছেলে রমজান কাজী (২৪), সদর উপজেলার আড়পাড়া এলাকার আজাদ তালুকদারের ছেলে ইমন তালুকদার (১৮) ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ইদ্রিস মোল্যার ছেলে সোহেল মোল্যা। গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেছেন, বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।