পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ইদ্রিছ মোল্লা ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক নিহার বিন্দু বিশ্বাস দীর্ঘ এক দশক বেতনভাতা থেকে বঞ্চিত থাকার পর অবশেষে চাকরিতে ফিরলেও এখনও তার প্রাপ্য বকেয়া পাননি। কেবল বিএনপি করার অভিযোগে তাকে বরখাস্ত ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

২০০১ সালের ১ জুন প্রভাষক হিসেবে কলেজে যোগ দেন নিহার বিন্দু বিশ্বাস। ২০০৮-০৯ সেশনে কলেজের অনুমতি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল কোর্সে ভর্তি হন। কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তার বিরুদ্ধে শুরু হয় রাজনৈতিক নিপীড়ন। তিনি জানান, তৎকালীন অধ্যক্ষ মধুসূদন সরকার সরাসরি জানিয়ে দেন, বিএনপি করার কারণে তার বেতন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে তার কলেজে প্রবেশও বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে ২০১৩ সালে তাকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়।

ওই বছর নভেম্বরে তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ২০১৫ সালের ৩০ আগস্ট হাইকোর্ট তাকে স্বপদে পুনর্বহাল এবং যাবতীয় বেতন-ভাতা প্রদানের নির্দেশ দেন। তবে অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে আপিল করা হলে ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট আপিল খারিজ করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। এরপর নানা দপ্তরে কাগজপত্র সংগ্রহ করে এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আবার কলেজে যোগদান করেন। তারপর থেকে নিয়মিত বেতনভাতা পেলেও আগের ১০ বছরের বকেয়া আর মেলেনি।

নিহার বিন্দু বিশ্বাস জানান, বকেয়া বেতন আদায়ের জন্য মাউশি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার আবেদন করেছেন। এমনকি সাক্ষাৎকারে তাকে তার রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছে। এতে তিনি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বর্তমান অধ্যক্ষ এনায়েত হোসেন বলেন, তখন তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তবে নিহার বিন্দু বিশ্বাস যাতে তার প্রাপ্য টাকা পান, সে জন্য নতুন করে আঞ্চলিক অফিসে ফাইল অগ্রসর করার চেষ্টা করবেন।